১ কোটি ৮৩ লাখ টাকার সড়ক সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ

 রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি  : লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে খাসেরহাট বাজার সংলগ্ন থেকে মোল্লারহাট পর্যন্ত ১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যায়ে বেঁড়িবাঁধ সড়কের ৪ হাজার ৩’শ মিটার ও পাশে ১২ ফুটের সংস্কারের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গুরুত্বপুর্ণ সড়কটি সটিকভাবে করার অনুরোধ করলেও ঠিকাদার শুনছে না বলে গ্রামবাসীর অভিযোগ।

রোববার (১১ এপ্রিল) বেড়িবাঁধের পাশে বসবাসকারি কয়েকজন ও গ্রামবাসী জানান, প্রায় ২০ বছর পর ২৯ ডিসেম্বর টেন্ডারের মাধ্যমে ১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যায়ে সড়কটি সংস্কারের কাজ পান ঢাকার হাইড্রো ট্রেড নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজটি ২৮ এপ্রিলের মধ্য সম্পূর্ণ করতে বলা রয়েছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারী ওই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ঠিকাদার মানিক পাটোয়ারী কাজ শুরু করেন। এর মধ্যে ৪৫ লাখ ৪৫ হাজার ৩৫১ টাকার ৭৫ পয়সা খোয়া এবং ৬৭ হাজার ৪৮৮ টাকার বালু ধরা হয়েছে। এ ছাড়া দেড় ইঞ্চি কার্পেটিং এবং ১৬, ১২, ৬ পাথর ও ডাস পাথর ধরা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কার্যাদেশ পাওয়ার পর থেকে নিম্নমানের পাথর ও ভিটুমিনের ব্যবহার ও ৬ ইঞ্চি মেকাডমের পরিবর্তে ৩ ইঞ্চি দিয়ে ৪০ মিলি কার্পেটিংয়ের কাজ করছেন। এ ছাড়া কাজটি হাইড্রো ট্রেড পেলেও ওই কাজ দেখাশোনা করছেন স্থানীয় জেলা আওয়ামীলীগ নেতা ঠিকাদার মানিক পাটোয়ারী। এতে একদিকে যেমন রাষ্ট্রের অর্থ লুট হচ্ছে, অন্য দিকে উন্নয়ন বঞ্চিত হচ্ছেন ইউনিয়নবাসী।

গত ৬ এপ্রিল দক্ষিন-চরবংশী ইউপির চরকাছিয়া গ্রামবাসীর অভিযোগে পরিদর্শনে গিয়ে অনিয়মের সত্যতা পান স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহ আলম পাটওয়ারী। তিনি সংস্কার কাজটি সাময়িক বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও দুইদিন কাজ বন্ধ রেখে পুনরায় কাজ করছেন প্রভাবশালী ওই ঠিকাদার।

স্থানীয়রা জানান, ঠিকাদার রাস্তায় নতুন কোনো খোয়া ব্যবহার করছেন না। রাস্তার পাশ থেকেই গর্ত করে মাটি কেটে ফুটপাথ বাঁধানো হয়েছে। কার্পেটিং করছে কয়েকটি স্থানে নামমাত্র ভিটুমিন।

এ বিষয়ে ঠিকাদার মানিক পাটোয়ারী মোবাইল ফোনে বলেন, বেড়িবাঁধ সড়কটি চরম বেহাল ছিলো কয়েকবছর। কেও কাজ করেনি। মানসম্মত কাজ করছি, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সঠিক নয়। আমি এলসির পাথর ব্যবহার করেছি। কাজে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। এলজিআরডির কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করছেন তা ছাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী নিজে পরিদর্শন করেছেন।

এলজিইডির লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ আলম পাটওয়ারী বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছু কিছু অনিয়ম এর সত্যতা পেয়েছি। ঠিকাদারকে দিয়েই সংশোধনের চেষ্টা করেছি। এ জন্য তার জরিমানা করা হবে।।

Facebook Comments Box