স্মার্টকার্ডে মিলবে পাসপোর্টের সুবিধা

আলোকিত সকাল ডেস্ক

আগামী এক বছরের মধ্যে পাসপোর্টের বিকল্প হিসেবে স্মার্টকার্ড ব্যবহার করেই ভ্রমণ করা যাবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয়। পাসপোর্টের পরিবর্তে জাতীয় পরিচয়পত্র স্মার্টকার্ড ব্যবহার করেই যেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের নাগরিকরা যেতে পারেন সেজন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি উইং) মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইসি সংশ্লিষ্টরা জানান, শুরুতে স্মার্টকার্ড ব্যবহার করে দেশ ভ্রমণের সুযোগ মিলবে ফোরাম অব দ্য ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বডিজ অব সাউথ এশিয়ার (ফেমবোসা) ৭ দেশে। আগামী এক বছরের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে এটি চালু হবে। পরে ধাপে ধাপে বাকি দেশগুলোয় ভ্রমণের ক্ষেত্রে এ সুবিধা পাবেন নাগরিকরা। বাংলাদেশ ছাড়া ফেমবোসাভুক্ত দেশগুলো হলো- ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, আফগানিস্তান, নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপ।

জানতে চাইলে এনআইডি উইং-এর মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, স্মার্টকার্ড দিয়ে অন্য দেশে ভ্রমণের সুবিধাটি আমরা অবশ্যই বাস্তবায়ন করব। শুরুতে শুধু দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় চালু করার বিষয়টি পরিকল্পনায় রেখেছিলাম। কিন্তু এখন আমাদের সিদ্ধান্ত হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরেও সারা বিশ্বের অন্যান্য দেশে এ সুবিধা চালু করার।

তিনি আরও বলেন, আমরা দেখছি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কীভাবে স্মার্ট কার্ডের মধ্যে সংরক্ষিত সার্ভারের তথ্য ব্যবহার করে মানুষকে চিহ্নিত করা যায়, সেই চেষ্টা অব্যাহত আছে। আমরা কাজ শুরু করেছি। পূর্ণ গতিতে এগিয়ে যাচ্ছি।

এনআইডি উইং-এর মহাপরিচালক বলেন, যেহেতু বিভিন্ন দেশের সঙ্গে লিংক করার বিষয় রয়েছে, সেই বিষয়টি নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তারা কীভাবে এটি ব্যবহার করবে। একটি নতুন বিষয় শুরু করতে অনেক চ্যালেঞ্জ আসে। আমরা খুব দ্রুত এটি শুরু করব। প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনের কাজ শুরু হওয়ার পর এই বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করব।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যেই এই সুবিধাটি আমরা চালু করব। শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি দেশে শুরু করব। প্রথামিকভাবে আমরা ফেমবোসাভুক্ত দেশগুলোতে কাজ শুরু করব। এই সুবিধা চালু হলে স্মার্টকার্ড দিয়ে পাসপোর্টের কাজও করা যাবে। এর ফলে পাসপোর্টের ঝামেলা কমে যাবে।
প্রসঙ্গত, ইসি প্রবর্তিত স্মার্টকার্ডের মধ্য পাঁচটি স্তরে ২৫টি সিকিউরিটি ফিচার আছে। কার্ডে পাঁচটি লেয়ারে সিকিউরিটি ফিচার রয়েছে। এ ছাড়াও এ কার্ডের মধ্যে সংরক্ষিত আছে নাগরিকের সম্পূর্ণ বায়োডাটা। এর বাইরে কার্ডের ভেতরে একটি অংশে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ, জাতীয় সংগীত, বাংলাদেশের মানচিত্র, শাপলা ফুল, আলট্রাভায়োলেট রে, চোখের আইরিশ, বায়োমেট্রিক, ফিঙ্গার প্রিন্টসহ আরও কয়েকটি ফিচার আছে। এছাড়া একজন মানুষের ৩১টি ডাটা আছে। এই ডাটাগুলো বিশেষ মেশিনে কার্ড পাঞ্চ করলেই দেখা যায়।

জানা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি টেকসই কার্যক্রম ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সম্মান বিবেচনায় বাংলাদেশ গত বছরের ২৭ আগস্ট থেকে দেশীয় প্রযুক্তি, নিজস্ব জনবলের মাধ্যমে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র উৎপাদন করছে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি উইং।

‌আস/এসআইসু

Facebook Comments Box