সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে আ’লীগে তোড়জোড়

আলোকিত সকাল ডেস্ক

আগামী অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে তোড়জোড়। গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে আসতে পারে পরিবর্তন। এ আশায় পদ প্রত্যাশিরা মাঠে নেমেছে। তার মধ্যে দলটির সাধারণ সম্পাদকের পদটি পেতে উঠে পড়ে লেগেছে বেশ কয়েক জন নেতা। দলের মাঝে চলছে আলোচনা, এবং স্ব স্ব নেতার সমর্থকরা এরই মাঝে বলে বেড়াচ্ছে মনোনয়ন বঞ্চিতদের থেকেই হচ্ছে আওয়ামী লীগের নতুন সাধারণ সম্পাদক। সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন আসছে? তা এক প্রকার নিশ্চিত বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় নেতাদের আগামী অক্টোবর মাসে দলের সম্মেলন করতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন। ইতোমধ্যে সম্মেলনের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে বলে জানান নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা।

গত শুক্রবার (২৮ জুন) সম্মেলন প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, আসছে জাতীয় সম্মেলনের তোড়জোর শুরু হয়ে গেছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর পর পর সম্মেলনের নিয়ম। গঠনতন্ত্র মেনে সম্মেলনের প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।

সম্মেলন ঘিরে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছে দলটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ সাধারণ সম্পাদকের। এই পদ ঘিরেই চলছে আলোচনা। কারণ গত ৩ মার্চ ওবায়দুল কাদের হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে প্রায় আড়াই মাস পর দেশে ফেরেন। তবে তিনি পুরোদমে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কিনা সেটা নিয়ে দলের মাঝে রয়েছে নানা আলোচনা। তবে তিনি আসছেন না ২১ তম জাতীয় সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে, তা এক প্রকার নিশ্চিত বলে সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশিরা দলের মাঝে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। নিজেদের সাংগঠনিক যোগ্যতার প্রমাণ দিতে ছুটছেন তৃণমূলে। অনেকে দলকে সংগঠিত করার কাজে মনোনিবেশ করেছেন, বিভাগীয় সভা-বর্ধিতসভার কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।

সাধারণ সম্পাদক জন্য চারজনের নাম জোরলো ভাবে শোনা যাচ্ছে। তারা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাননি। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক, আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও বি এম মোজাম্মেল হক।

এছাড়াও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য আলোচনায় আছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ ও সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাসিম প্রতিবেদকের কাছে বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ সভাপতি। উনি কাকে সাধারণ সম্পাদক বানাবেন তা সম্পূর্ণ উনার উপর। এখানে আমি বা অন্য কেউ পদপ্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। যাকে দলের জন্য যোগ্য মনে করবেন, তাকেই সাধারণ সম্পাদক করবেন।

এদিকে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাই দলের সভাপতি থাকছেন, তা এক প্রকার নিশ্চিত। ৭৫’র ১৫ আগষ্ট জাতির জীবনে কলঙ্কিত অধ্যায় রচিত হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্যে দিয়ে আওয়ামী লীগকে চিরতরে মুছে দিতে চেয়ে ছিল ঘাতকরা। পরে ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে বঙ্গবন্ধুর বড় কন্যা শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাকে সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ফলে তিনি টানা ৩৮ বছর ধরে দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ চার বার সরকার গঠন করে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box