সন্তান হারানোর শোকে আজও কাঁদে অজয় দাশের মা

গত সোমবার (১৭জুন) দুপুরে রাঙ্গুনিয়ার নিখোঁজ সংবাদ বের হয়েছিল অজয় দাশ নামে একজন তরুণে। সে রাংগুনিয়া উপজেলার শিলক ইউনিয়নের নটুয়ার টিলা এলাকা থেকে নিখোঁজের হয়। তার মায়ের নাম বেবি দাশ, আর বাবার নাম বীরেন্দ্র দাশ। পরিবারের তারা দুই ভাই ও দুই বোন সবার ছোট ছিল অজয় দাশ।

অজয় দাশের মা বলেন— অজয় দাশ হাটহাজারী উপজেলার চৌধুরী হাট এলাকায় একটি কার-মাইক্রো প্রিন্টিং দোকানে চাকুরী করতো। সেখান থেকে গত রোববার ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে অংশ নিতে সে বাড়ি এসেছিল। নিখোঁজের দিন শিলক ইউনিয়ন পরিষদে যায় সে। সেখান থেকে বাড়ি ফিরে দুপুরে তার এক বন্ধু এসেছে জানিয়ে ঘর থেকে বের হয়। দুপুর ২টার দিকে কোদালা চা বাগান এলাকা থেকে ফোনে তার বড় বোনের সাথে শেষ কথা হয়।

ঠিক কয়েক ঘন্টা পর অজয়ের মোবাইল ফোন বন্ধ। কেন মোবাইল ফোন বন্ধ হল কেউ জানে না।

নিহতের চাচাতো ভাই শয়ন দাশ বলেন, অজয় কে যখন খুজে পাওয়া যাচ্চে না, রাতেও হয়ে গেলো, তার মা ঠিক করেন থানায় যাবেন ঐ রাতে অজয়ের মা রাঙ্গুনিয়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। এরপর ফেসবুকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিভিন্ন ভাবে তাকে খুজেও বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত তাকে পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার বিকালের দিকে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি দুইদিন বন্ধের পর খোলা পাওয়া যায়। এটিতে ফোন করলে অপরিচিত একজন জানায় মুঠোফোনের মালিকের লাশ মানিকছড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। পরে রাঙামাটি সদর জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় এটি অজয়ের লাশ।

অজয়ে পরিবার অভিযোগ তাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। ছেলে আত্মহত্যা করতে পারে না জানিয়ে মা বেবি দাশ অভিযোগ করেন, ‘আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

লাশটি শিলক এনে গত (২০জুন) বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে তার বাবার পাশে দাহ করা হয়েছে।

বলে রাখি—রাঙামাটি কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহিদুল হক রণি জানান, গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জেলা সদরের সাপছড়ি ইউনিয়নের মানিকছড়ি এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। পাহাড়ি জঙ্গলে স্থানীয়রা গাছের সাথে একটি ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। মরদেহটি ময়না তদন্তের জন্য রাঙামাটি সদর হাসপাতালে প্রেরণ করলে স্বজনরা গিয়ে এটি সনাক্ত করে।

এই ভাবে আর যেন কোন অজয় দাশ লাশ হয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় না থাকে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box