লক্ষ্যের ধারে কাছেও নেই কর্মযজ্ঞ

আলোকিত সকাল ডেস্ক

আধা ঘণ্টার রাস্তা পার হতে লাগে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা। ভ্যাপসা গরমে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায় সায়েদাবাদ থেকে কারওয়ান বাজার আসা-যাওয়ায় বলে জানান কেরানীগঞ্জের পানগাঁওয়ের ফল ব্যবসায়ী দয়াল। মেশকাত গাড়ির সুপারভাইজার বগুড়ার আরিফুল ইসলাম বলেন, মোহাম্মদপুর থেকে চিটাগাং রোডে দিনে তিন ট্রিপ দেয়া যায় না। আগে সন্ধ্যার মধ্যে তা শেষ হলেও বর্তমানে ১২টা বেজে যায়। প্রায় চার ঘণ্টা সময় বেশি লাগছে।

এ কারণে ৫০০ টাকার বেশি তেলও লাগছে। আমার সংবাদের কাছে এভাবেই মেট্রোরেলের ভোগান্তির কথা জানান তারা। শুধু ওই যাত্রী-সুপারভাইজার নয়, রাজধানীতে চলাচলকারি সব পথচারীর একই অভিযোগ— নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে গেছে মেট্রোরেলের ভোগান্তি। সড়ক সংকীর্ণ হওয়ায় যানজট ভয়াবহ হয়ে উঠছে। ২০১২ সালে শুরু হয়ে ২০২৪ সালে শেষ হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২২ সালে শেষ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। তা সম্ভব হবে না। কারণ প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পে এপ্রিল পর্যন্ত ৪৬ দশমিক ৪২ শতাংশ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও অর্জন হয়েছে মাত্র ২৮ দশমিক ৯০ শতাংশ। একই সঙ্গে চলতি অর্থবছরে ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ লক্ষ্য ধরা হলেও অর্জন হয়েছে মাত্র ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। হালনাগাদ এক প্রতিবেদনে কাজের ধীরগতির এ চিত্র পাওয়া গেছে।

সার্বিক ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুল হক আমার সংবাদকে বলেন, দক্ষ ও পেশাদার লোকবল তৈরি না করে কাজে হাত দেয়া হয়েছে। তাই নির্দিষ্ট সময়ে এবং কোয়ালিটিসম্পন্ন প্রকল্প হচ্ছে না। ঠিকাদার ইচ্ছামতো কাজ করছে এবং কনসালটেন্টও ট্রিটমেন্ট দিচ্ছে। ড. শামসুল হক পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন সড়ক অবকাঠামো ও গণপরিবহনসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্পে।

তাই রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, মহাখালী ও যাত্রাবাড়ির অভিজ্ঞতায় প্রথমে আমিও আশাবাদী ছিলাম যে, যথাসময়ে মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ হবে। লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি থাকবে। কিন্তু অত্যন্ত দু:খের বিষয় যে, অপ্রত্যাশিতভাবে রাজধানীর জনগুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পের কাজ ঢিলেভাবে হচ্ছে। তা ভাবার এবং চিন্তার বিষয়।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রকল্প পরিচালকের (পিডি) সক্ষমতার অভাবেই পিছিয়ে যাচ্ছে কাজ। এ কাজে তারও নেই অভিজ্ঞতা। নেই দক্ষ জনশক্তি। তাই প্রকল্পে অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এ জন্য কাজেও নেই গতি। রেলের মতো মেট্রোরেল সবাইকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলো সঠিক সময়ে কোয়ালিটিসম্পন্ন কাজ হবে। কিন্তু তা হচ্ছে না। প্রকল্পে কনসালটেন্টের নরমাল সময় বেধে দেয়া হয় ২০২২ সাল।

কিন্তু সময় কমিয়ে ২০১৯ সালে আনতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক কারণে কৃত্রিমভাবে এটা করা হয়েছে। যা বাস্তবসম্মত নয়। এটা অত্যন্ত খারাপ দিক। এর নেতিবাচক প্রভাব বিশ্বে পড়বে। পিপিপিতে সম্ভাবনার দ্বার সংকুচিত হয়ে যাবে। কারণ বিনিয়োগকারীরা ভাববে যে, সময়মতো প্রকল্প করা যাবে না। এতে বিনিয়োগে ঝুঁকি বাড়বে।

দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে এ যোগাযোগবিদ আরও বলেন, বাংলাদেশের মতো একইসঙ্গে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় মেট্রোরেলের কাজ শুরু হলেও তারা ভালোভাবে করতে পেরেছে। অথচ আমাদের কাজ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক পিছিয়ে। দক্ষ লোক নিয়োগ না করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ধার করা লোক দিয়ে করা হচ্ছে মেট্রোরেল। তা চলবে না। এতে কাজের মানও খারাপ হবে।

তাই ফ্রেশ লোক দিয়ে নয়, ওইসব দেশের মতো দক্ষ ও পেশাদার লোক দিয়ে কাজের সুপাভিশন করতে হবে। তবেই কাজের গুণগত মান নিশ্চিত হবে। তা না হলে কনসালটেন্ট ও ঠিকাদাররা ইচ্ছামতো কাজ করবে বলে জানান তিনি।

সার্বিক ব্যাপারে জানতে মেট্রোরেল প্রকল্প পরিচালক মো. আফতাবউদ্দিন তালুকদার এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু সচিব মো. নজরুল ইসলামের সঙ্গে রোববার বহুবার তাদের মোবাইল এবং টিএন্ডটি ফোনে যোগাযোগ করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। কারণ রিং হলেও তারা ফোন ধরেননি। আবার ধরে কেটে দেন। সচিব ম্যাসেজ দেয়ার কথা বলেন। তাই ম্যাসেজ দেয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এ জন্য কোনো মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজের ধীরগতির কারণ জানতে সম্প্রতি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় চলমান এ প্রকল্পে নিবিড় পরিবীক্ষণ করে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১২ সালে ঢাকা শহরে জনসংখ্যা এক কোটি ৩০ লাখের জায়গায় ৭ বছরের ব্যবধানে বেড়ে বর্তমানে এক কোটি ৬০ লাখে দাঁড়িয়েছে। বাড়তি জনসংখ্যার চাপে মহানগরীতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

তাই ২০২৪ সালে শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০২০ সালে মেট্রোরেলের কাজ শেষ করতে হবে। এ জন্য রাত-দিন মেট্রোরেল সংশ্লিষ্টরা বিশাল এই কর্মযজ্ঞে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারপরও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক পিছিয়ে বাস্তবায়নের হার। রাজধানীর যানজট কমাতে দ্রুত কাজ করতে সরকার চলতি অর্থবছরে এ প্রকল্পে অগ্রাধিকার দিয়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি-এডিপিতে বরাদ্দ দেয় ৩ হাজার ৯০২ কোটি টাকা।

কিন্তু কাজের অগ্রগতি হয়নি। ১৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরা হলেও অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। তাই বছরের শেষ সময়ে প্রায় হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধন করে সরকার বরাদ্দ দিয়েছে ২ হাজার ৪৮৮ কোটি টাকা। এপ্রিল পর্যন্ত যানজট কমার এ প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২৮ দশমিক ৯০ শতাংশ। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৬ দশমিক ৪২ শতাংশ। তবে গত অর্থবছরে ১৪ দশমিক ১৪ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্জন হয়েছে সাড়ে ১৩ শতাংশ।

সূত্র জানায়, রাজধানীর যানজট কমাতে দ্রুত গতির মেট্রোরেল বাস্তবায়নে ২০১২ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় সরকার। তাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। এরমধ্যে জাইকার ঋণ হচ্ছে ১৬ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা বা ৭৫ শতাংশ এবং সরকারি অর্থ হচ্ছে ৫ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা বা ২৫ শতাংশ। রাজধানীর উত্তরা (দিয়াবাড়ি) থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট উন্নয়ন (এমআরটি লাইন-০৬) মেট্রোরেল প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে ২০১২ সালে। সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে ১২ বছরের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এটি বাস্তবায়ন হলে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ১৯ দশমিক ৭৯ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ পারি দিতে সময় লাগবে ৪৩ মিনিট। ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহনে যাত্রীদের সুবিধার্থে ১৬টি স্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে। এগুলো হলো— উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজিপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সচিবালয় এবং মতিঝিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে যাতায়াতের সময় ৫০ শতাংশ সাশ্রয় হবে। কারণ বর্তমানে প্রতি কিলোমিটারে ১৫ মিনিট সময় লাগছে। মেট্রোরেল হলে লাগবে মাত্র ৩ মিনিট।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডকে (ডিএমটিসিএল) ২০১২ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুনে বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ব্যবস্থাপনা পচািলকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সাবেক সড়ক পরিবহন সচিব এবিএম সিদ্দিককে। দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা পরিবহন বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে গঠিত বোর্ডের মাধ্যমে মহানগরীর পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে এসটিপি- ২০০৫ প্রণয়ন করা হলেও ২০১৬ সালে তা সংশোধন করা হয়। তাতে ২টি বিআরটি লাইন ৩ ও ৭ এবং ৫টি এমআরটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। এরমধ্যে এমআরটি লাইন-০৬ প্রকল্পের আওতায় আট প্যাকেজে ভাগ করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সিপি ১-এর আওতায় ডিপোর ভূমি উন্নয়ন রয়েছে। ২০১৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বরে এ প্যাকেজের চুক্তি সই হয়। প্রায় ৫৮১ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে এপ্রিল পর্যন্ত অগ্রগতি হয়েছে ১০০ শতাংশ। সিপি ২-এর আওতায় প্রকল্পের প্রশাসনিক ভবন ও অফিস নির্মাণ, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ অন্য কাজ রয়েছে। ২০১৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর এ প্যাকেজের চুক্তি সই হয়। আগামী জুনের মধ্যে এ অংশের নির্মাণকাজ শেষ করার কথা। কিন্তু ১ হাজার ৫৯৬ কোটি টাকার মধ্যে অগ্রগতি হয়েছে ৩০ শতাংশ।

সিপি ৩ ও ৪-এর মধ্যে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত লাইন (ভায়াডাক্ট) হচ্ছে ১১ দশমিক ২৯ কিলোমিটার। এ পথের জন্য ৯টি স্টেশন যাত্রী ওঠা-নামার জন্য নির্মাণ করা হবে। ইটালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্টকে ৪ হাজার ২৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এ প্যাকেজ বাস্তবায়নে। ২০১৭ সালের ১ আগস্ট এ প্যাকেজের কাজ শুরু হয়। এ অংশটি ২০১৯ সালের মধ্যে উদ্বোধনের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা শেষ হচ্ছে না। কারণ এপ্রিল পর্যন্ত অগ্রগতি হয়েছে সাড়ে ৩৯ শতাংশ।

সিপি ৫ ও ৬-এর মধ্যে থাকছে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল সাড়ে ৮ কিলোমিটার এবং যাত্রীদের জন্য স্টেশন নির্মাণ করা হবে ৭টি। সিপি ৫ বাস্তবায়নে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে আড়াই হাজার কোটি টাকা। যৌথভাবে করছে জাপানের টেকেন কর্পোরেশন, অ্যাবে নিক্কো ও বাংলাদেশের আবদুল মোনেম লিমিটেড।

গত বছরের ১ আগস্ট শুরু করা হয়েছে এ প্যাকেজ। ২০২০ সালের মধ্যে এ অংশের কাজ শেষ করার কথা। কিন্তু তাও হচ্ছে না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। কারণ সিপি ৫-এর মধ্যে ৩ দশমিক ২০ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট এবং ৩টি স্টেশন রয়েছে। অগ্রগতি মাত্র সাড়ে ৭ শতাংশ হয়েছে।

এছাড়া ৬ নং প্যাকেজ বাস্তবায়নে কারওয়ান বাজার থেকে মতিঝিল পর্যন্ত প্রায় চার দশমিক ৯২ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট নির্মাণ করা হবে। এছাড়া শাহবাগ, টিএসসি, প্রেস ক্লাব ও মতিঝিলে চারটি মেট্রো স্টেশনও নির্মাণ করা হবে। এ জন্য এসএমসিসি-আটিডি জেভিকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের আগস্টে শুরু করা প্যাকেজটি ২০২০ সালে শেষ করার কথা। কিন্তু হচ্ছে না। কারণ এপ্রিল পর্যন্ত অগ্রগতি হয়েছে ১৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

ট্রেন যাতে দ্রুত গতিতে চলতে পারে সে জন্য সিপি ৭-এর আওতায় রয়েছে ইলেকট্রিক্যাল এন্ড মেকানিক্যাল সিস্টেম। মেট্রোরেলের স্টেশনগুলোয় ওঠা-নামার জন্য চলন্ত সিঁড়ি ও লিফট, প্রায় ২০ কিলোমিটার রেলওয়ে ট্র্যাক, স্বয়ংক্রিয় ভাড়া আদায় ব্যবস্থাপনা, ১৩২ কেভি বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন ও ট্রেনে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেম, প্লাটফর্ম স্ক্রিন ডোর স্থাপন করা হবে।

এসব কাজ করছে জাপানের মারুবিনি কর্পোরেশন ও ভারতের এলঅ্যান্ডটি (লারসন অ্যান্ড তুবরো)। ২০১৮ সালের ১১ জুলাই প্যাকেজটির কাজ শুরু হয়েছে। গত মার্চ পর্যন্ত এ অংশের অগ্রগতি সাত শতাংশ। আর এপ্রিল পর্যন্ত অগ্রগতি হয়েছে ৮ শতাংশ। প্যাকেজের আওতায় বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিভিন্ন দেশে তৈরি হচ্ছে। দেশে আসার পর এসব অংশ স্থাপন শুরু করা হবে। তবে কবে নাগাদ তা দেশে এসে পৌঁছবে সে ব্যাপারে কেউ কিছু বলছেন না।

এছাড়া ৮ নং প্যাকেজে রয়েছে রোলিং স্টক (রেলকোচ) ও ডিপো ইকুইপমেন্ট, প্রসেস ডিজাইন। এর মধ্যে ২৪ সেট ট্রেন ও ডিপো ইকুইপমেন্ট ছাড়াও ট্রেন সিমুলেটর, খুচরা যন্ত্রাংশ ও সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণও রয়েছে। প্রতি সেটে ৬টি করে কোচ ও একটি উদ্ধার ও রক্ষণা-বেক্ষণ কোচ থাকবে।

এসবের মাধ্যমে ১ হাজার ৬৯৬ জন যাত্রী নিয়ে মেট্রোরেল চলবে ১০০ কিলোমিটার বেগে। তাতে প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ চলতে ৪৩ মিনিট সময় লাগবে। ২০১৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর এ প্যাকেজের কাজ শুরু হয়। গত মার্চ পর্যন্ত ১৩ শতাংশ এবং এপ্রিল পর্যন্ত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ১৪ শতাংশ।

সূত্র জানায়, প্রায় সাড়ে ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটির এপ্রিল পর্যন্ত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ২৯ শতাংশ। যা এ পর্যন্ত বিভিন্ন অর্থবছরের মধ্যে খুবই কম। আগামী অর্থবছরে লক্ষ্য ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৭ শতাংশ। কাজকে এগিয়ে নিতে বরাদ্দও বেশি ৭ হাজার ২১৩ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। পরের অর্থবছরেও প্রায় একই ১৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

২০১২ সালে শুরু থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত ফার্স্ট ট্যাক নামে পরিচিত এ প্রকল্পে অর্থ ব্যয় হয়েছে ৫ হাজার ৬৫ কোটি টাকা। আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ২৩ শতাংশ। আর গত এক বছরে অর্থাৎ জুলাই থেকে এপ্রিলে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা। অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এভাবে সময়ের সঙ্গে ব্যয় বেড়ে এপ্রিলে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা বা ২৮ দশমিক ৯০ শতাংশ।

প্রথম পর্যায়ে উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশের নির্মাণকাজ ২০১৯ সালের মধ্যে শেষ করার কথা রয়েছে। আর ২০২০ সালের মধ্যে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশ চালুর কথা রয়েছে। তবে সড়ক পরিবহন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি বলেছেন ২০২১ সালের আগে হবে না মেট্রোরেলের কাজ।

কারণ ১২ বছরের মধ্যে পরিকল্পনা, ডিজাইন ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় ৪ বছরের বেশি সময় চলে গেছে। তারপরও প্রায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছে। যা প্রকল্পের দুর্বল দিক। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ সময়ে ডিজাইন করলেও প্রকল্পটির অ্যালাইনমেন্টের সাথে বিমানবন্দর সড়কের সাথে কোনো সংযোগ রাখা হয়নি।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box