লক্ষ্মীপুর ঐতিহ্যবাহী কলাকোপা মাদরাসার বিতর্কিত কিমিটি বাতিলের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলন

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:বৃহত্তর নোয়াখালীর শত বছরের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান জামিয়া ইসলামিয়া কলাকোপা মাদরাসা। বর্তমানে এটি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চরবাদাম ইউনিয়নের চরকলাকোপা গ্রামে অবস্থিত। মাদরাসাটি কওমী মাদ্রাসার কারিকুলামে পাঠদান দেওয়া হয়। কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী নিয়মতান্ত্রিক ভাবে চলছে প্রায় শত বছর ধরে। গত ৫-৬ বছর আগে এলাকার একটি গোষ্ঠী ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় কওমি মাদরাসার নীতিমালা পরিপন্থী একটি মনগড় কমিটি করেন। এতে এক পরিবার থেকে ৫ জনকে সদস্য করে ১৩ সদস্য কমিটি তৈরী করে কলাকোপা মাদরাসাকে তাদের কব্জায় নিতে নানা কূটকৌশল অবলম্বন করেন।

এক পর্যায়ে তারা মাদরাসার একাউন্টে থাকা অর্থ আত্মসাৎ করার চক্রান্ত ও অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া,মাদরাসার নানা উন্নয়ন কাজে বাধা প্রধান, শিক্ষকদের সাথে অশোভনীয় আচরণ ও ছাত্রদের মারধর করা সহ নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে আসছে। এরই প্রেক্ষিতে বিতর্কিত শিক্ষকদের অপসারণ ও কথিত কমিটি সম্পুর্ন বাতিল করে শীর্ষ আলেমদের দিয়ে মজলিসে শুরা গঠন করার দাবী জানিয়ে ছাত্ররা ক্লাস বর্জন, সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে গত ১৫ জুন মাদরাসার সকল ২৫ জন শিক্ষকদের উপস্থিতি প্রিন্সিপাল মাওলানা মোহাম্মদ আলী রেজুলেশনের মাধ্যমে মাদরাসার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে ছাত্রদের এসব দাবী মেনে নেন।এতে সকল শিক্ষক স্বাক্ষর করলে ছাত্ররা আন্দোলন প্রত্যাহার করে ক্লাসে ফিরে যান। হঠাৎ ঐ চক্রটি আবারো ফেসবুক সহ নানা ভাবে মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করে আসছে। এখন তারা বিতর্কিত এই কমিটি বহাল করতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ব্যবহার করে মাদরাসায় হামলা ছাত্র শিক্ষকদের হয়রানি করার পরিকল্পনা করছেন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। ওই দুষ্কৃতিকারী শিক্ষকদের মধ্যে একজন হলেন আব্দুল বাতেন। যিনি মাদ্রাসায় নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে প্রবীন ওস্তাদদের অনেকেই বলেছেন আব্দুল বাতেন একটা ফেতনাবাজ। তার কারণে মাদ্রাসায় ফেতনা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঠিক এখন তা বাস্তবেই পরিনত হয়েছে। তিনি একসময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত হরকতুল জিহাদের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। চিহ্নিত একটি অভিযুক্ত সংগঠক। গত কয়েকবছর আগে তিনি এক ছাত্রকে তার মতাদর্শের কয়েকটি বই দেন। যে বই পড়ে ওই ছাত্রটি আফগানিস্তান পাড়ি জমানোর জন্যে মাতোয়ারা হয়ে পড়ে। যার ফলে ঐ ছাত্রের পিতা মাদ্রাসার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার জন্য প্রস্তুুতি নেয়। পরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষর কোন মতে তাকে বুঝিয়ে তা থেকে বারণ করেন। আব্দুল বাতেনের সাথে পদলোভী দুষ্কৃতিকারী আরো দুইজন শিক্ষক রয়েছে। অভিযুক্ত এসব শিক্ষকরা কথিত কমিটির সাথে যোগাযোগ করে শিক্ষার্থীদের আক্রমণ ও মাদ্রাসায় অপতৎপরতা চালাতে সন্ত্রাসী ভাড়া করান। ওই দুজন শিক্ষক ও কমিটির সদস্যরা হলেন, মাওলানা হাসান সাহেব যিনি একজন বিতর্কিত শিক্ষক ও মাষ্টার জাহাঙ্গীর। যার ভিতরও বাহির ভিন্নরকমের একজন নেফাক ওয়ালা ব্যক্তি। যার কারণে কলাকোপা মাদ্রাসায় বহুবার ফেতনা সৃষ্টি হয়েছে। কথিত কমিটির লোকেদের মধ্যে হলো মিয়া বাড়ীর মুহাম্মদ রিয়াজ,যিনি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মারধর করা ও নানা হুমকি ধমকি দিয়ে আসছেন। এবং মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষকদের সাথে অশোভনীয় আচরণকারী ও দুষ্কৃতিকারী হিসেবে প্রধান অভিযুক্ত। মুহাম্মদ ইলিয়াস যিনি দেশের বাতিল ফেরকা “আহলে হাদিস ও জামায়াত শিবিরের মতাদর্শের লোক হিসেবে চিহ্নিত। সুলাইমান মিয়া,তিনি একজন ধনি ব্যক্তি হওয়ায় তিনি আর্থিক সহায়তা দিয়ে সহযোগীতা করে আসছে। সুত্র জানায়, বাংলাদেশ কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকের নীতিমালা অনুযায়ী সারাদেশে এসব মাদরাসা গুলো বিশিষ্ট আলেমের দারা মসলিসে শুরার মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও এখানে তা মানা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় কয়েকজন ব্যাক্তিবর্গদের নিয়ে একটি কমিটির মাধ্যমে চলছে।

এতে কমিটির লোকজনের সাথে শিক্ষক-ছাত্রদের মধ্যে ঝামেলা চলছে দীর্ঘ প্রায় ৬ বছর যাবত। প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ একটি গোষ্ঠীর নাকের ডগায় হওয়ায় ঐ গোষ্ঠীর ৫ জনকে কমিটির সদস্য করা হয়। তারা মাদরাসার নানা কাজে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ তুলে এই কমিটি বাতিল চেয়ে আন্দোলনে নেমে পড়েন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের এসব আন্দোলন সম্পুর্ন অযুক্তিক উল্লেখ করে বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়া ছায়ায় তারা আন্দোলন করছেন বলে অভিযোগ করেন কথিত ম্যানেজিং কমিটির কয়েকজন সদস্য। তবে কলাকোপা মাদরাসা সম্পুর্ন রাজনীতি মুক্ত। এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ও শিক্ষকরা সম্পুর্ন রাজনীতি মুক্ত। বর্তমানে বাতিলকৃত ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষার্থীরা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। দু’পক্ষের মধ্যে যেকোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছেন স্থানীয়রা।এর আগেও কয়েকবার কলাকোপা মাদরাসায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তৎকালীন সময়ে রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজগর আলী নামের এক ইউএনওর বদলী হয় এই আন্দোলনকে ঘিরে। ম্যানেজিং কমিটি বাতিল চেয়ে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে শিক্ষার্থীরা। ইতিমধ্যে ছাত্রদের দাবী মেনে নেন মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। তখন ছাত্ররা আন্দোলন প্রত্যাহার করে ক্লাস ফিরে আসেন।

হঠাৎ শনিবার সকালে বিতর্কিত কমিটির সভাপতি ও কেরামতিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ হারুন তার মাদরাসায় ক্লাস না করে কলাকোপা ইসলামীয়া মাদরাসায় এসে আব্দুল বাতেনের নেতৃত্বে অন্যসদস্যরা এই কমিটি বহাল রাখতে আবারো বৈঠক করেন। এতে ছাত্ররা ফুঁসে উঠে। যেকোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে আলেম ওলামা ও স্থানীয়রা। এবিষয়ে মাদরাসার পরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ আলী বলেন,মাদরাসার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে ও ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে ২৫ জন শিক্ষকের উপস্থিতিতে আমরা বিতর্কিত কমিটি বাতিল করি।এখন ছাত্ররা ক্লাসে ফিরে আসেন। কিন্তু কেরামতিয়ার হারুন ও বিতর্কিত কমিটির সদস্যরা কমিটি বহাল রাখতে নানা কূটকৌশল অবলম্বন করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম শান্তনু চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Facebook Comments Box