লক্ষ্মীপুরে একটি ভূমিদস্যু চক্র দিনমজুরের বসতবাড়ি দখলে নিতে চেষ্টা

লক্ষ্মীপুর  রামগতি প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরপোড়াগাছা ইউনিয়নের বান্দেরহাট বাজার সংলগ্ন কতিপয় ভূমিদস্যু একের পর এক খাস জমি দখলের নেশায় মেতে ওঠেন। দখলের পর সেগুলো আবার বিক্রিও করেন।সরকারের ১ নং খাস খতিয়ানভুক্ত খাস জমি থেকে শুরু করে পানি উন্নয়ম বোর্ডের জায়গাও দখল করে অনত্র বিক্রির হিড়িক চলছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যক্তি মালিকানার জমি দখল করে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে ব্যাপক।
উপজেলার চরপোড়াগাছা ইউনিয়নের চর বেদমা গ্রামের বান্দেরহাট বাজার সংলগ্ন মৃত ছিদ্দিক উল্লার ছেলে আবু তাহের বাদী হয়ে গত ২৮-৪-২০২১ ইং তারিখে রামগতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সুত্রে জানাযায়,রামগতি উপজেলার চরপোড়াগাছা মৌজার দিয়ারা খতিয়ানের ৫০/৫১ নং দাগের ২৪ শতক জমি বান্দেরহাট এলাকার মৃত ছেলামত উল্লার ছেলে মোস্তফা, মাইন উদ্দীনের ছেলে হারুন,হাফেজ মাইন উদ্দীন, আবু সাঈদ,সলেমান, নুর মোহাম্মদ ও আবুল খায়ের সহ কতিপয় ভুমিদস্যু মিলে আবু তাহের গংদের বসতবাড়ীটি দখলে নিতে নানা কলাকৌশল চালিয়ে যাচ্ছেন।সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,বান্দেরহাট বাজারের পুর্ব পাশে সরকারি ওয়াপদা বেড়ীর পাশে সরকারী খাস জমিতে দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে আবু তাহের পরিবারের ৯ জন সদস্য নিয়ে একটি জুবড়ি ঘরে বসবাস করে আসছেন।সংসারে উপার্জনের এক মাত্র ভরসা আবু তাহের।২৪ শতক সরকারী খাস জমির উপর বসবাস করে আসছেন দীর্ঘ ৫০ বছর।উপজেলা নির্বাহী অফিসার,ভূমি অফিস ও স্থানীয় তহসিলদারের নিকট বার বার গিয়ে তদবির- সুপারিশ করেও জমিটি বন্দোবস্ত নিতে পারেনি অসহায় আবু তাহের।বন্দোবস্ত নিতে প্রয়োজন মোটা অংকের টাকা।কিন্তু সেই টাকা তো আবু তাহেরের নেই।তাই বন্দোবস্ত হয়নি তার নামে।কিন্তু হঠাৎ এই দিনমজুরের বসবাসকৃত ঐ জমির উপর নজর পড়ে ভূমিদস্যুদের। জমিগুলো বাজার সংলগ্ন ও পাকা রাস্তার পাশে হওয়ায় মোটা অংকের টাকা আয়ের কথা চিন্তা করে এই চক্রটি বসতবাড়ি উচ্ছেদ করে দখল নিতে নানা তালবাহানা করে আসছে।
নানা হুমকি ধমকি দিয়ে আবু তাহেরকে সরিয়ে ঐ জমি তারা দখল করতে নানা চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছে। ভূমিদস্য চক্রটি এলাকার কথিত প্রভাবশালী হওয়ায় তারা সামাজিক ও প্রশাসনিক কাউকে কোন পাত্তা দিচ্ছেনা।জবর দখল করে ঐ দিনমজুর কে হটিয়ে তারা জমি দখলে নিতে চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে।

এব্যাপারে আবু তাহের বলেন,৯ জনের সংসার আমার উপর।এই জমিগুলো সরকারের। আমরা প্রায় ৫০ বছর ধরে এখানে বসবাস করছি।এখন এখান থেকে আমাদেরকে উচ্ছেদ করলে আমরা কই যাবো?কি করবো?কোথায় থাকবো? কিছুই বুঝতেছিনা।বাধ্য হয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।

এব্যাপারে অভিযুক্ত মোস্তফার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ পাওয়া কথা নিশ্চিত করে রামগতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল মোমিন বলেন, অভিযোগটি তদন্ত চলছে।তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Facebook Comments Box