রিফাতের গলা বুক ও মাথায় দায়ের কোপ ৬টি

আলোকিত সকাল ডেস্ক

বরগুনায় সদ্য বিবাহিত স্ত্রীর সামনে প্রকাশ্যে দিবালকে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত রিফাত শরীফের মৃতদেহের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের মর্গে তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড তার ময়না তদন্ত সম্পন্ন করেন। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণের কারণে বরগুনার সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ও বর্তমান যুবলীগ কর্মী রিফাতের মৃত্যু হয়েছে।

বেলা পৌনে ১২টায় রিফাতের ময়না তদন্ত শেষে তিন সদস্য’র মেডিকেল বোর্ডের প্রধান শেবাচিমের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. জামিল হোসেন এ কথা জানিয়েছেন। এর আগে সকাল ১১টা ১০ মিনিটে শেবাচিমের মর্গে নিহত রিফাতের ময়না তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়। মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ও সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জামিল হোসেন, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডা. মাইদুল হোসেন ও সোহেলি আক্তার তন্নি পৌনে ১২টা পর্যন্ত ৩৫ মিনিট সময় ধরে রিফাতের মৃতদেহের ময়না তদন্ত করেন।

সহকারী অধ্যাপক ডা. জামিল হোসেন বলেন, রিফাতের শরীরজুড়ে ধারালো অস্ত্রের ৬টি জখম রয়েছে। যার মধ্যে গলার ডান পাশে, বুকের ওপর ও মাথার তিনটি জখম গুরুতর। এর মধ্যে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গলার সমস্ত শিরা-উপশিরা কেটে গেছে। আর বুকের আঘাতটি শরীর ভেত করে ভেতরে ফুসফুসে আঘাত করে। এ কারণে তার শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণ হয়।

ডা. জামির হোসেন আরো বলেন, ঘটনার পরে রিফাতকে বরিশালে নিয়ে আসতে অনেক সময় লেগেছে। ততক্ষণে তার শরীর থেকে প্রায় সমস্ত রক্তই বেরিয়ে গেছে। যে কারণে চিকিৎসা দিয়েও তাকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, রিফাতের মৃতদেহের সুরতহাল করা বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফরিদ হোসেন জানান, ময়না তদন্ত শেষে আইনগত প্রক্রিয়ায় দুপুর ১টার দিকে মৃতদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তারা মৃতদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স যোগে সড়ক পথে বরগুনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়।

নিহত রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ জানিয়েছেন, বাদ আসর বরগুনা সদরে নিজ এলাকায় রিফাতের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে পরিবারের সকলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মৃতদেহের দাফন করা হবে।

উল্লেখ্য, বুধবার (২৬ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনার কলেজ সড়কের ক্যালিক্স কিন্ডার গার্টেনের সামনে রিফাতের ওপর হামলা করে স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী ও চন্দনসহ ১০/১২ জনের সন্ত্রাসী দল। এতে গুরুতর আহত রিফাত শরীফকে প্রথমে বরগুনা সদর ও পরে দুপুর ১টায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর বিকাল সোয়া ৪টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় রাতেই রিফাতের বাবা হত্যা মামলা দায়ের করেন। এবং বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) ভোর রাতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত চন্দন নামের এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরগুনা সদর থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) আবির হোসেন মাহমুদ।

আলোকিত সকাল/এসআইসু

Facebook Comments Box