রাস্তায় কর্ম বিরতিহীন পুলিশের ঈদ

আলোকিত সকাল ডেস্ক

রোজা ও ঈদকে ঘিরে বিরামহীন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে পুলিশের সদস্যরা। রাজনৈতিক উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট সমস্যা মোকাবিলা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে গিয়ে পুলিশ দিন-রাত অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছে। মাঠ পর্যায়ে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের ঘুম নাওয়া-খাওয়া পর্যন্ত সময়মতো হচ্ছে না। টানা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেকেই শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। নাশকতা ও রাজনৈতিক সহিংসতা ঠেকাতে পুলিশের ছুটি-ছাটা বন্ধ রয়েছে। পবিত্র ঈদেও স্ত্রী-সন্তানের সান্নিধ্যেও যেতে পারছেন না তারা। রাস্তায় তাদের ঈদ করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে দায়িত্ব পালনকালে পান থেকে চুন খসলেই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হুমকি-ধামকি এবং বকাও শুনতে হচ্ছে অর্ধস্তন পুলিশ সদস্যদের। মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের কেউ কেউ ক্ষুব্ধ ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তবে এই জটিল পরিস্থিতির মধ্যেও কিছু সংখ্যক কর্মকর্তা রয়েছেন আরাম-আয়েশে।

এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, শুধু পুলিশ নয়, র‌্যাব-বিজিবিসহ সবাই অতিরিক্ত ডিউটি করছে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে পুলিশকে নিয়মিত ডিউটির বাইরেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। দেশের মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে যা কিছু করার প্রয়োজন র‌্যাব-পুলিশ তাই করবে। পুলিশকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের প্রয়োজনে অতিরিক্ত ডিউটি করতে হয়। এত কারো মধ্যে কোন ধরনের ক্ষোভ থাকার কথা নয়। তবে বর্তমানে র‌্যাব-পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করছে।

পুলিশের আইজিপি বলেন, যে কোন মূল্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেয়া এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা পুলিশের দায়িত্ব। নাশকতা সৃষ্টিকারীদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই পুলিশকে অতিরিক্ত ডিউটি করতে হচ্ছে। ফলে পরিশ্রমও বেড়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র মতে, পুলিশ বাহিনীতে ১ লাখ ৫৫ হাজার সদস্য কর্মরত আছেন। তন্মধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার সদস্যই বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন। রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি ঈদের কারণে মানুষের জানমাল রক্ষায় গত এক মাস ধরে পুলিশের দায়িত্ব বেড়ে গেছে। নিয়মিত ডিউটির বাইরেও অতিরিক্ত ডিউটিতে নিয়োজিত থাকতে হচ্ছে রাত দিন। পারিবারিক ও সামাজিক কাজ-কর্ম আত্মীয়-স্বজনদের বিয়েতে পর্যন্ত অংশ নিতে পারছেন না তারা। অলিখিতভাবে বন্ধ রয়েছে ছুটি।

তবে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, ছুটি বাতিল করা হয়নি। রাজধানী ঢাকা মহানগরীতে কর্মরত প্রায় ২৭ হাজার পুলিশ সদস্যের মধ্যে ২৫ হাজার সদস্যই দিন-রাত মাঠে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের সকল আরাম-আয়েশ বন্ধ।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, বর্তমানে পুলিশের ডিউটি বেড়েছে সত্য, তবে ছুটি বন্ধ নেই। তিনি বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশ ব্যাপক তৎপর রয়েছে। নিয়মিত ডিউটির বাইরেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক কারণেই পুলিশের পরিশ্রম বেড়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সারা দেশের পুলিশ সদস্যদের কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক হচ্ছে। তারপরেও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশকে বাড়তি ডিউটি করতে হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা এ কে এম কামরুল ইসলাম বলেন, রোজা ও ঈদ উপলক্ষে গত একমাস ধরে পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে কঠোর পরিশ্রম করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ৬টি মেট্রোপলিটনসহ সারা দেশেই মাদক নির্মুলে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে।

একাধিক সূত্র মতে, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া, সাতক্ষীরা, রংপুর, সিরাজগঞ্জ, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জসহ কয়েকটি জেলায় অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছে পুলিশ। তারা পরিবার-পরিজনদের সাথেও দেখা করার সুযোগ পাচ্ছেন না। কেউ কেউ বলছেন, চাকরি জীবনে আর কখনো এ ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে পরেননি।

রাজারবাগ পুলিশ লাইনে কথা হয় এ পুলিশ সদস্যের সাথে। তিনি বলেন, চাকরিটা ছাড়তেও পারছি না, আবার থাকতেও পারছি না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিউটি করতে হচ্ছে দিন-রাত। ঘুমানোর সময়টুকু নেই। তিনি এভাবেই প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন। ডিএমপির একজন উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, চাকরিতে ছোট-বড় বলে কোন কথা নেই। দায়িত্ব পালনে সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে। আমরা রাষ্ট্রের কর্মচারী, সময়ের প্রয়োজনে অতিরিক্ত ডিউটি করতে হয়। এটা নতুন কিছু নয়।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box