রামগতি অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় উচ্ছেদ চেষ্টার অভিযোগ,ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা

রামগতি (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: অনৈতিক প্রস্তাব রাজি না হওয়ায় বাসা থেকে উচ্ছেদ চেষ্টা এবং অপরহণ, গণধর্ষণ ও হত্যার হুমকির অভিযোগে লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন আওয়ামী লীগের এক নেত্রী। উপজেলার চরবাদাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন জসীমকে আসামি করে ১৮ সেপ্টেম্বর রামগতি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বাদি ফরিদা আক্তার চিনু চরবাদাম ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং একই ইউনিয়নের পূর্ব চরসীতা এলাকার প্রবাসী সাজ্জাদ হোসেন খোকনের স্ত্রী।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রবাসী স্বামীর ক্রয় করা উপজেলার জমিদারহাট বাজার এলাকার একটি বাসায় আওয়ামী লীগ নেত্রী চিনু একমাত্র মেয়েকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুবাধে একই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন জসীমের লোলুপ দৃষ্টিতে পড়েন তিনি। নিজের কামনা পূর্ণ করতে চেয়ারম্যান একের পর এক কুপ্রস্তাব দিতে থাকেন তাঁকে। কিন্তু এতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে ফাঁদে ফেলতে বিভিন্ন কৌশল আঁটেন চেয়ারম্যান। এরই অংশ হিসেবে তাঁদের (চিনুর) বাসার জমিটি ইউনিয়ন পরিষদের মালিকানার বলে দাবি করে উচ্ছেদ চেষ্টা শুরু করেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, চেয়ারম্যানের কুপ্রস্তাবের বিষয়টি চিনু স্থানীয় গণ্যমান্যদের জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর চেয়ারম্যান বাসার সামনে গিয়ে চিনুকে গালমন্দ করে তাঁর ওপর হামলার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন গিয়ে তাঁকে রক্ষা করেন। পরে চেয়ারম্যান তাঁকে অপহরণ করে গণধর্ষণ, হত্যা ও বাসায় আগুন দিয়ে পুড়ে ফেলার হুমকি দেন।
আওয়ামী লীগ নেত্রী ফরিদা আক্তার চিনু বলেন, আমার বাসার পিছনে ইউনিয়ন পরিষদের কিছু জমি রয়েছে। কিন্তু চেয়ারম্যান আমাকে বশ করতে না পেরে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বাসার জমিটিই পরিষদের বলে দাবি করছেন। একজন জনপ্রতিনিধির এমন কর্মকান্ডে আমরা হতবাক। এমনকী তাঁর বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকিতে আমি ও আমার মেয়ে এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।

এদিকে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে চরবাদাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন জসীম দাবি করেন, আওয়ামী লীগ নেত্রী চিনুকে কুপ্রস্তাবের অভিযোগটি সত্য নয়। এমনকি তিনি চিনুকে কোনো হুমকিও দেননি। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চার শতক জমি চিনুর পরিবারের দখলে থাকায় তা উদ্ধারে পরিষদের পক্ষে আমি কাজ করছি। এ জন্যই আমার বিরুদ্ধে এ অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

Facebook Comments Box