যে মাঠ শুধুই বিশ্বকাপের!

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ইংলিশ কাউন্টি ক্লাব সামারসেটের ঘরের মাঠ হলো টন্টনের দ্য কুপার অ্যাসোসিয়েটস কাউন্টি গ্রাউন্ড। টন্টন শহরের একেবারে প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এ মাঠটি সংক্ষেপে দ্য কাউন্টি গ্রাউন্ড নামেও পরিচিত।

ইংল্যান্ডের অধিকাংশ ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মতো এই মাঠটিও প্রাচীন। ১৮৮২ সালে তৈরি স্টেডিয়ামটি এর সূচনা লগ্ন থেকেই অনেক চড়াই উতরাইয়ের ভেতর দিয়ে গিয়েছে। ইংল্যান্ডে যতগুলো প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট মাঠ আছে, তার মধ্যে দ্য কাউন্টি গ্রাউন্ড সর্ব দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। ২০০৬ সালে দ্য কাউন্টি ক্রিকেট গ্রাউন্ডকে ইংল্যান্ড নারী ক্রিকেট দলের হোম গ্রাউন্ড হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

প্রতিষ্ঠাকাল থেকে বহু বছর অবধি মাঠটিকে ঘিরে ছিল গ্রেহাউন্ড ট্র্যাক (কুকুরের দৌড় প্রতিযোগিতার ট্র্যাক)। সত্তরের দশকে ট্র্যাকটি উঠিয়ে ফেলা হয়। দ্য কাউন্টি গ্রাউন্ডের প্যাভিলিয়নের ঠিক পেছনেই সেইন্ট জেইম’স, সেইন্ট জর্জ’স ও সেইন্ট মেরি’স এই তিনটি গির্জার সুউচ্চ টাওয়ার দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে। তার বিপরীতে আছে নয়নাভিরাম কোয়ান্টক হিলস।
কাউন্টি গ্রাউন্ডের পেছনে সুউচ্চ গির্জার টাওয়ার

স্টেডিয়ামটির ধারণ ক্ষমতা বর্তমান যুগের চোখ ধাঁধানো ভেন্যুগুলোর তুলনায় বেশ কম, মাত্র ৮ হাজার। কাউন্টি গ্রাউন্ডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক দর্শক উপস্থিতি হয়েছিল সেই ১৯৪৮ সালে, ইংল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়ার একটি টেস্ট ম্যাচে। ডন ব্র্যাডম্যানকে এক নজর দেখতে সেদিন টন্টনে হাজির হয়েছিল ১০ হাজার মানুষ!

এমনিতে মাঠটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরশ পায় কালেভদ্রে। এ পর্যন্ত টন্টনে মাত্র ৩টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজিত হয়েছে, ১৯৮৩ বিশ্বকাপে ১টি ও ১৯৯৯ বিশ্বকাপে ২টি ম্যাচ। আসন্ন বিশ্বকাপেও ৩টি ম্যাচে আতিথ্য দেবে টন্টন, সেক্ষেত্রে এটিকে বলা যায় কেবলই ‘বিশ্বকাপের মাঠ’!
রাতের কৃত্রিম আলোয় দ্য কাউন্টি গ্রাউন্ড

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খুব বেশি আয়োজন না করলেও ঘরোয়া ক্রিকেটের বহু কীর্তির সাক্ষী এই কাউন্টি গ্রাউন্ড। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দুটি চার শতাধিক রানের ব্যক্তিগত ইনিংস হয়েছে এ মাঠে। একমাত্র মেলবোর্ন ও করাচিই হতে পেরেছে এমন রেকর্ডের ভাগিদার। টন্টনে প্রথম চার শতাধিক রানের ইনিংসটি খেলেছেন আরচি ম্যাকলারেন (৪২৪ রান) । তার ৯৩ বছর পর কিংবদন্তি জিম্বাবুইয়ান বংশোদ্ভূত ইংলিশ ক্রিকেটার গ্রায়েম হিক খেলেন ৪০৫ রানের আরেকটি মহাকাব্যিক ইনিংস। এ মাঠেই সামারসেটের হয়ে ১৯৮৫ সালে ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে স্যার ভিভ রিচার্ডস খেলেছিলেন ৩২২ রানের ইনিংস।

দ্য কাউন্টি গ্রাউন্ডে ব্যাটিংয়ের বড় বড় রেকর্ড দেখে বোলারদের দমে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। ইনিংসে ১০ উইকেট নেয়ার ঘটনাও যে এ মাঠে ঘটেছে তিন বার!

শহর পরিচিতি

টন্টন পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর শহর হিসেবে স্বীকৃত। এখানে মানুষের জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত। কল-কারখানার কোলাহল বা বাজার-বন্দরের চেঁচামেচি এখানে তেমন একটা দেখা যায় না বললেই চলে। মোটকথা, এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও টন্টনে ব্যস্ততার চেয়ে জীবনকে বেশি খুঁজে পাওয়া যায়! শহরের টাকি-মরিস আর্ট সেন্টার ও ব্রিউহাউস থিয়েটারে সারা বছর শিল্পকলা চর্চা ও মঞ্চায়ন-প্রদর্শনী লেগেই থাকে।
টন্টনের ব্ল্যাকডাউন পাহাড়ের পাদদেশ দিয়ে ছুটছে ট্রেন। ছবি: ফ্লিকার

টন্টনের জনসংখ্যা ৬০ হাজার। কোয়ান্টক ও ব্ল্যাকডাউন – এ দুটি পাহাড় ঘিরে রেখেছে পুরো শহরটিকে। প্রকৃতির মতো এ শহরের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যও চোখে পড়ার মতো। ক্রিকেটে সামারসেট তো রয়েছেই; রাগবি, গলফ, টেনিস, সাইক্লিং, ঘোড়দৌড়সহ প্রায় সব খেলাতেই বহু কীর্তির স্বাক্ষর রয়েছে এ শহরের ক্লাবগুলোর।

টন্টনে ছোটবড় মিলিয়ে পার্ক ও উদ্যানের সংখ্যা ১৫৬। শহরটিতে বনভূমির পরিমাণ ৪৬,৯০০ হেক্টর! প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার এ স্টেডিয়ামটি আতিথ্য দেবে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকেও, ১৭ জুন বিশ্বকাপের মূল পর্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে টাইগাররা।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box