বেনাপোলের জামাল হত্যাকান্ডে তার শশুর নিজ স্ত্রী ও মেয়ের ফাঁসি দাবি করল

স্টাফ রিপোর্টার বেনাপোল

নিজ স্ত্রী ও মেয়ে, জামাইকে ভাড়াটিয়া খুনিদের দিয়ে নির্মম ভাবে কুপিয়ে হত্যা করায় মেয়ে ও স্ত্রীর ফাঁসির দাবিতে চিৎকার করেছিল নিহত জামালের শশুর টুকি এমন অভিযোগ করে বেনাপোলের ধাণ্যখোল গ্রামের বিলকিস বেগম।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টার সময় বেনাপোল পোর্ট থানার ধান্যখোলা গ্রামের সালাম হোসেনের স্ত্রী বিলকিছ বেগম বলেন আমার দেবর মালায়েশিয়া থাকত। সে গত মঙ্গলবার বাড়ি আসার পর রাত ১০ টার সময় নৃশংশভাবে তার স্ত্রী আয়েশা ও তার মা’র সহযোগিতায় খুন হয়। বিলকিছ বলেন আমি রাত ১২ টার সময় আমার দেবর জামালের বাড়ি চিৎকারের শব্দে দৌড়ে সেখানে যেয়ে দেখি রক্ত মাখা শরীরে জামাল পড়ে রয়েছে। তার স্ত্রী গেট থেকে দৌড়ে ঘরে যেয়ে একটি কাপড় এনে রক্ত মুছছে। এসময় আয়েশার পিতা জামালের শশুর চিৎকার কারে বলে আমার মেয়ে এবং স্ত্রীকে ফাঁসি দেও। প্রত্যাক্ষদর্শী জামালের শশুর রিয়াজুল ওরফে টুকি বার বার ফাঁসির দাবিতে চিৎকার করে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি তদন্ত আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা ইতিমধ্যে তিনজনকে আটক করেছি। তারা হলো জামালের স্ত্রী আয়েশা, তার পিতা রিয়াজুল ও মাতা ফুলবুড়ি। বেনাপোল থানায় এ ব্যাপারে মোট ৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করা হয়েছে বলে তিনি জানান। যেখানে তিনজন আসামি ধৃত সেখানে কেন তাদের অজ্ঞাত আসামি করা হলো এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমদের তদন্ত কাজ অব্যাহত রয়েছে। এরা জড়িত থাকলে অবশ্যই সেই ভাবে মামলা হবে। আটককৃতদের যশোর আদালতে হাজির করা হবে।

স্থানীয়রা জানায় জামালের বাড়ি প্রবেশ করতে একটি গেট। তারপর তার ঘরে ঢুকতে কলাপসিপল গেট। তারপর দরজা । নিশ্চয়ই তার শশুর শাশুড়ী ও স্ত্রীর সহযোগিতা ছিল এ খুনের ব্যাপারে। জামালের বাড়িতে তার শশুর শাশুড়ী বসবাস করত। স্থানীয়রা আরো জানায় মালায়েশিয়া প্রবাসী জামালের স্ত্রী একাধিক পরকিয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে এ ধরনের খুনের ঘটনা ঘটেছে।

জামালের ভাই বাবর আলী বলেন, আমি বাদি হয়ে তিন জনকে আসামি করলাম আর চার জনকে অজ্ঞাত আসামি করেছি। কেন সকলে অজ্ঞাত আসামি হলো এটা আমার বোধ গম্য নয়। তিনি বলেন এ হত্যা কান্ড নিয়ে কোন ষড়যন্ত্র চলছে কি না তা বুঝতে পরছি না।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box