বিশ্বকাপ ক্রিকেট ঘিরে সারা দেশে সক্রিয় জুয়াড়ি সিন্ডিকেট

আলোকিত সকাল ডেস্ক

গত ৩০ মে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ ক্রিকেট ক্রিকেট। এই বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকায় নয়, পাড়া-মহল্লায়, এমনকি গ্রামগঞ্জেও শুরু হচ্ছে জুয়ার আসর।

জানা গেছে, হাতপাকা জুয়াড়ি বা বাজিকরদের সিন্ডিকেট ক্রিকেট নিয়ে জুয়া খেলার জন্য পুরনো ঢাকার অধিকাংশ মহল্লায় জুয়াড়িদের দাওয়াত করেছে।

ক্রিকেট বাজি নামের এই জুয়ায় প্রতি বলেই চলে বাজি। এই জুয়ায় জড়িয়ে পড়েছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, যুবক ও ব্যবসায়ীসহ অনেকেই।

কোন দল জিতবে, কোন খেলোয়াড় কত রান করবে? কত ওভারে কত রান হবে, পাওয়ার প্লেতে কত রান আসবে, অমুক ক্রিকেটার হাফ সেঞ্চুরি না কি সেঞ্চুরি করবে, টসে কোন দল জিতবে, কোন খেলোয়াড় কত উইকেট নেবে? বাজি চলে এসব নিয়েই।

পুরান ঢাকার তাতীবাজারে এক জুয়াড়ি দৃষ্টি আড়াল করতে ৫০০ টাকাকে ৫ আর ১০০০ টাকাকে ১০ টাকা সংকেত হিসেবে পর্যায়ক্রমে জুয়ার অঙ্ক নির্ধারণ করেন। খেলা শেষে এজেন্ট তার সুবিধাজনক স্থান ও সময়ে পরাজিত জুয়াড়ির কাছ থেকে টাকা নিয়ে জয়ী জুয়াড়ির কাছে হস্তান্তর করেন। এজেন্টরা জয়ী জুয়াড়ির কাছ থেকে টাকা হস্তান্তরের বিনিময়ে কমিশন পান বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, টিভিতে ক্রিকেট খেলা চলার সময় রাজধানীর পাড়া-মহল্লায় আড্ডায়, সেলুন, ফ্লেক্সিলোড কিংবা চায়ের দোকানে অনেক লোক একসঙ্গে খেলা দেখে। আসলে এর বেশির ভাগই জুয়ার আসর। এ খেলায় ছাত্র, বেকার, ব্যবসায়ী সবাই জড়িত। ১০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে একপর্যায়ে চলে হাজার হাজার টাকার জুয়া। ব্যক্তিগত পর্যায়েও জুয়া হয়। আবার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জুয়ার কেনাবেচাও হয়। এ লোভেই নিঃস্ব হচ্ছেন শত শত তরুণ। সুদে টাকা নিয়ে জুয়ায় নামার নজিরও আছে।

সমাজের সচেতন ব্যক্তিরা মনে করছেন, দেশে চলছে ক্রিকেট নিয়ে বাজিকরদের বাজে (জুয়া) খেলা। অনেক ক্রিকেট জুয়াড়ি জুয়ার টাকা জোগাতে চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ছে। এছাড়া স্কুল-কলেজের কোমলমতি ছাত্ররা বিপথগামী হচ্ছে। একইসঙ্গে জুয়ায় হার-জিতকে কেন্দ্র করে পারিবারিক ও সামাজিক অস্থিরতা দিন দিন বাড়ছে।

এই জুয়া নিয়ে এরই মধ্যে ঢাকায় এক ছাত্র খুন হয়েছে। শহর-গ্রামে প্রতিনিয়তই ঘটছে অঘটন।

সম্প্রতি বিপিএল দেখতে এসে স্টেডিয়ামে বসেই জুয়া খেলতে থাকায় মোট ৭৭ জনকে চিহ্নিত করেছে বিসিবির দুর্নীতি দমন ইউনিট। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক এ ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, জুয়া খেলতে থাকা ৭৭ জনের মধ্যে ৬৫ জন বাংলাদেশি। জুয়া খেলায় ১২ অভিযুক্ত বিদেশির ১০ জন ভারতীয়।

তিনি জানান, অনলাইনে খেলাধুলা নিয়ে সক্রিয় অনেকেই জানান, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ নিয়ে অনলাইনেও জুয়া খেলা হয়। বিপিএলও এর বাইরে পড়েনি। আন্তর্জাতিক জুয়াড়িরা নির্দিষ্ট কিছু ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে এই জুয়ার আসর বসায়।

তবে সর্বনাশা এই খেলাটি বন্ধ করতে ইতোমধ্যে নজরদারি শুরু করেছে পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ইব্রাহিম খান বলেন, বিশ্বকাপ ক্রিকেট ম্যাচকে কেন্দ্র করে জুয়াড়িরা যাতে জুয়ায় না বসে সেজন্য নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশনা রয়েছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box