বিশ্বকাপের সেরা ৫ ব্যক্তিগত ইনিংস

আলোকিত সকাল ডেস্ক

রাওয়ালপিন্ডির মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান কিংবদন্তি স্যার ভিভ রিচার্ডস থেকে শুরু করে গত বিশ্বকাপে ঘরের মাঠ ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ড ওপেনার মার্টিন গাপটিলের ডাবল সেঞ্চুরি; বিশ্বকাপের ৫ সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের খসড়া থাকছে আজ।

মার্টিন গাপটিল (অপরাজিত ২৩৭)

প্রতিপক্ষ- ওয়েস্ট ইন্ডিজ

বিশ্বকাপ-২০১৫

২০১৫ বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ও ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইনিংসটি খেলেন মার্টিন গাপটিল। ওয়েলিংটনের সেই ম্যাচে ওপেনিংয়ে নেমে শেষ বল পর্যন্ত মাঠে ছিলেন গাপটিল। ১৬৩ বলে ২৩৭ রানের দানবীয় ইনিংসে সেদিন ক্যারিবীয়দের একাই ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন গাপটিল।
জীবন না পেলে বড় ইনিংস খেলা যায় না- এ আপ্তবাক্যটি গাপটিলের সেই ইনিংসের জন্যও সত্যি। প্রথম ওভারেই স্কয়ার লেগে সেদিন তার ক্যাচ ছেড়েছিলেন মারলন স্যামুয়েলস। সেই ক্যাচ মিসের ফল যে এত গুরুতর হবে তা গাপটিল পরে বুঝিয়েছিলেন ২৪টি চার ও ১১ ছক্কায় ডাবল সেঞ্চুরি করে। গাপটিলের ব্যাটে চড়ে সেদিন ৬ উইকেটে ৩৯৩ রানের পাহাড় গড়েছিলো নিউজিল্যান্ড। জবাবে পুরো ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল মিলে করতে পেরেছিলো ২৫০, গাপটিলের থেকে মাত্র ১৩ রান বেশি।

ক্রিস গেইল (২১৫)

প্রতিপক্ষ- জিম্বাবুয়ে

বিশ্বকাপ- ২০১৫

গাপটিলের ইনিংসটি মাঠে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখা ক্রিস গেইল হয়তো মনে মনে গাপটিলকে বলছিলেন, ‘যত রানই কর, বিশ্বকাপের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিটি কিন্তু আমারই!’ হ্যাঁ ,অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সেই ২০১৫ বিশ্বকাপেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন গেইল। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাত্র ১৩৮ বলে তিনি ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। প্রথম ১০০ রান নিতে গেইল খরচ করেছিলেন ১০৫ বল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ তখন ৩৫ ওভারে ১ উইকেটে ‘মাত্র’ ১৬৫ রান। তারপরেই গেইল তার ‘গিয়ার’ পরিবর্তন করেন। পরের ১০০ রান নিতে তিনি খরচ করেন কেবল ৩৩টি বল! ২১৫ রান নিতে গেইল সেদিন মেরেছিলেন ১০টি চার ও ১৬টি ছক্কা!

গ্যারি কারস্টেন (১৮৮ অপরাজিত)

প্রতিপক্ষ- সংযুক্ত আরব আমিরাত

বিশ্বকাপ- ১৯৯৬

১৯৯৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকান ওপেনার গ্যারি কারস্টেন তার দেশের পক্ষে বিশ্বকাপে সর্বপ্রথম সেঞ্চুরি করেন। সেই সেঞ্চুরিই এখনো বিশ্বকাপের সেরা ৫ সর্বোচ্চ রানের তালিকায় ৩ নম্বরে টিকে আছে। রাওয়ালপিন্ডিতে টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় আমিরাত। কারস্টেনের ব্যাটে ভর করে সেসময়ের রেকর্ড ৫ উইকেটে ৩২১ রানের সংগ্রহ করে দক্ষিণ আফ্রিকা।

১৩ চার ও ৪ ছক্কায় ১৮৮ রান করতে কারস্টেন খেলেন ১৫৯ বল। সেসময়ের ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ছিলো অপরাজিত ১৮৯ রান। সেটিকে ছাড়িয়ে যেতে ইনিংসের শেষ বলে কারস্টেনের দরকার ছিলো ৪ রান। শেষ পর্যন্ত ২ রান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকেন তিনি। সেদিন দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ জেতে ১৬৯ রানে।

সৌরভ গাঙ্গুলি (১৮৩)

প্রতিপক্ষ- শ্রীলঙ্কা

বিশ্বকাপ- ১৯৯৯

​শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সৌরভ গাঙ্গুলীর ১৮৩ রানের ইনিংস খেলার দিনটি ভারতীয় ক্রিকেটের জন্যই একটি স্মরণীয় দিন। তৎকালীন চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কানদের বিপক্ষে ওপেনিংয়ে নেমে গাঙ্গুলি ও দ্রাবিড় গড়েছিলেন ৩১৮ রানের জুটি।

১২৯ বলে ১৪৫ রান করে দ্রাবিড় থামলেও থামেননি গাঙ্গুলি। ১১৯ বলে ধীর তালে সেঞ্চুরি তুলে এরপর চড়াও হতে থাকেন শ্রীলঙ্কান বোলারদের ওপর। ৩৯ বলে তুলে নেন বাকি ৮৩ রান। সেদিন গাঙ্গুলীর ব্যাটে শোভা পেয়েছিলো ১৭টি চার ও ৭টি ছয়ের মার।

ভিভ রিচার্ডস (১৮১)

প্রতিপক্ষ- শ্রীলঙ্কা

বিশ্বকাপ- ১৯৮৭

১৯৮৭ সালে যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করে ভারত ও পাকিস্তান। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে নিজেদের ফিরে পাওয়ার প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নেমেছিলো ভিভ রিচার্ডসের ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে রবি রত্নায়েকের পরপর দুই বলে কারলিস্লি বেস্ট রিচি রিচার্ডসন ফিরে গেলে ক্যারিবিয়রা পরে যায় ভীষণ চাপের মুখে। সেই চাপ থেকে দলকে উদ্ধার করতে ক্রিজে আসেন অধিনায়ক ভিভ রিচার্ডস।

রবিকে সেদিন হ্যাট্রিক করতে দেয়া তো দূরের কথা, এরপর শ্রীলঙ্কান বোলারদের ওপর রীতিমত স্টিম রোলার চালিয়েছেন ভিভ। কপিল দেবের ১৭৫ রানের সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ ইনিংসের রেকর্ড ভেঙে করেন ১৮১ রান। মাঠে যখন এসেছিলেন, ক্যারিবিয়ানদের সংগ্রহ তখন ২ উইকেটে ৪৫। ১৬টি চার ও ৭ ছক্কায় ১৮১ রান করে যখন আউট হলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোরবোর্ডে তখন ৪ উইকেটে ৩৪৩!

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box