বাস্তবায়নে পরিকল্পনা জরুরি

আলোকিত সকাল ডেস্ক

নতুন অর্থবছর জনমিতিক লভ্যাংশকে (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট) কাজে লাগাতে শুরুর বছর হিসেবে বিবেচনায় নিচ্ছে সরকার। এ জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বরাদ্দকে প্রতীকী হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে সরকার যুবশক্তিকে ব্যবহার করে জনমিতি লভ্যাংশকে কাজে লাগানোর নতুন যুগের সূচনা করতে চায়।

দেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১০ কোটি ৫৬ লাখ জনশক্তি উৎপাদনক্ষম। এদের বয়স ১৫ থেকে ৬৪ বছর পর্যন্ত। এ বয়সের জনশক্তি যে দেশে বেশি সে দেশকে উন্নয়নের জন্য বেশি সক্ষম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইউএনডিপিসহ বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টি এখন এ উৎপাদনক্ষম জনশক্তির দিকে। ইউএনডিপির মতে, বাংলাদেশের মোট জনশক্তির প্রায় ৬৮ শতাংশ কর্মক্ষম মানুষ। যাদের বয়স ১৫ থেকে ৬৮ বছর। এসব মানুষের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১০ কোটি।

২০৩০ সালে এ পরিমাণ দাঁড়াবে ১২ কোটি ৯৮ লাখ। ২০৫০ সালে দাঁড়াবে ১৩ কোটি ৬০ লাখ। উন্নয়নের এই বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকারকে বিপুল কর্মযজ্ঞ চালাতে হবে। এর মধ্যে বড় অংশ রয়েছে ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সের। যাদের কাজে লাগানোর ওপর নির্ভর করছে সরকারের বিভিন্ন রূপকল্প বাস্তবায়ন।

সরকার এই সম্ভাবনাময় শ্রমশক্তিকে কাজে লাগাতে সাধারণ উন্নয়ন কর্মকা-ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছিল এতদিন। এবারের বাজেটে বিষয়টি সুসংঠিতভাবে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ও উদ্যোক্তা নেতারা। এবারের বাজেট প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে ‘তারুণ্যের শক্তি-বাংলাদেশের সৃমদ্ধি’ স্লোগানকে সামনে রেখে দেশের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ যুবসমাজকে সুসংগঠিত, সুশৃঙ্খল এবং উৎপাদনমুখী শক্তিতে রূপান্তরের জন্য সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।’ বাজেট প্রস্তাবনায় আরও উল্লেখ করা হয়, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত করতে সারা দেশে ১১১টি এবং উপজেলা পর্যায়ে ৪৬৮টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাজেট প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে যুবকদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি এসব যুবকের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যুবকরা উদ্যোগ গ্রহণ করে যেখান থেকে ঋণ গ্রহণ করবে।

দেশের শীর্ষ ট্রেডবডিগুলোর তথ্য অনুযায়ী প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ যুবশক্তি শ্রমবাজারে আসছে। এ পুরো যুবশক্তিকে কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। তাদের মতে, এসব নতুন জনশক্তিকে কাজে লাগাতে নতুন বিনিয়োগ প্রয়োজন। নতুন বিনিয়োগ না হলে নতুন কর্মসংস্থান সম্ভব নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতের নগদ অর্থ কমে যাওয়া ও সুদহার বেড়ে যাওয়ার কারণে নতুন বিনিয়োগ কমে গেছে। এর ফলে কর্মসংস্থানও আশানুরূপ হচ্ছে না। তবে ই-কমার্স কিছুটা শূন্যস্থান পূরণ করছে বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা। যুবকদের স্বকর্মস্থানে এবার বাজেটে ১০০ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখার বিষয়টি একটি ইতিবাচক দিক বলে মনে করেন দেশের শীর্ষ ট্রেডবডি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এর সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মো. মুনতাকিম আশরাফ।

তিনি খোলা কাগজকে বলেন, ব্যবসা বাণিজ্য যেমন চলমান প্রক্রিয়া, এর সঙ্গে কর্মসংস্থানও চলমান প্রক্রিয়া। পাশাপাশি ই-কমার্স ২৬ যুবক যুক্ত হওয়ায় কর্মসংস্থানের নতুন একটা ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। সরকার নতুন অর্থনৈতিক জোনেও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে।

প্রস্তাবিত বাজেটে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণাকে একটি শুভ লক্ষণ বলে মনে করেন বিআইডিএসর গবেষণা পরিচালক ড. নাজনিন আহমেদ। তিনি খোলা কাগজকে বলেন, যুবকদের লক্ষ্য করে ১০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়ার ফলে সরকারের একটি উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়েছে। যদিও এ বরাদ্দ খুব একটা বড় নয়। এটা তখনই ফলোপ্রসূ হবে, যখন এটা বাস্তবে কার্যকর হবে।

তিনি বলেন, এর আগে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। সেটা কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। যুবকর্মশক্তিকে কাজে লাগানোর জন্য যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে- সেটা যেন নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দের দশা বরণ না করে।

যুবকদের জন্য অর্থ বরাদ্দ করেই যেন সরকার দায়িত্ব শেষ না করে। টাকা বরাদের জন্য দ্রুত কাঠামো তৈরি করতে হবে। নীতিমালা নির্দিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণ করতে পারে, এসএমই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বরাদ্দ করতে পারে, অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করতে পারে। আবার সরকার এটুআই প্রকল্পের আওতায় ‘ইনোভেশন’ খুঁজে বের করেছে। এসব সৃষ্টিশীল প্রতিভার মধ্যে যারা ব্যবসা বাণিজ্য করতে আগ্রহী তাদের এ টাকা বরাদ্দ দিতে পারে বলে মনে করেন ড. নাজনীন। এ টাকা যদি ব্যবহারের কার্যক্রম শুরু করতে যদি আরেক বাজেট এসে যায় তাহলে তা হবে খুবই খারাপ খবর।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box