বাবার কাছ থেকে ফরম পূরনের টাকা না পেয়ে  মাদ্রাসা ছাত্রীর আত্যহত্যা

স্টাফ রিপোর্টার: ছায়েদ আহমেদ, হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: পারিবারিক অভাব-অনটনের দরুন বাবার থেকে ফরম ফিলাপের টাকা না পেয়ে হাতিয়ায় সিরাজুল উলুম মাদ্রাসার জোবায়দা (১৬) নামের এক দাখিল পরীক্ষার্থী বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। রবিবার দুপুরে জাহাজমারাস্থ তার নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, জোবায়দা নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের দরিদ্র পিয়ন রফিক উদ্দিনের মেয়ে । সে একই এলাকার সিরাজুল উলুম মাদ্রাসার ২০২৩ খ্রী.’র দাখিল পরীক্ষার্থী।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (২০ নভেম্বর) সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার সময় তার বাবার কাছে মাসিক বেতন এবং ফরম ফিলাপের টাকা চেয়ে না পাওয়ায় কাঁদতে কাঁদতে মাদ্রাসার দিকে চলে যায়। দুপুরে বাড়ি ফিরে মায়ের সাথে জোহরের নামাজ আদায় করে, পরে মা নাহার বেগম পুকুর থেকে এসে দেখে জোবায়দা ঘরের বারান্দায় বমি আর চিৎকার করে। এমতাবস্থায় বাড়ির লোকজন ও প্রতিবেশীরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়; হাসপাতালের জরুরী বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৩.২০ ঘটিকায় ভিকটিমকে হাসপাতালে আনার পর তার শরীরে বিষক্রিয়ার সিম্পটম দেখে চিকিৎসা শুরুর দশমিনিট পর তার মৃত্যু হয়।

পারিবারিক অভাব অনটনে জর্জরিত বাবা রফিক উদ্দিন হাতিয়ার জাহাজমারাস্থ নন-এমপিও ভুক্ত কমিউনিটি কলেজে চার হাজার টাকা বেতনে চাকরি করে ৭ সদস্য’র পরিবারের খরচ চলাতে রীতিমতো অক্ষম। এরইমাঝে ৪ ছেলেমেয়ের পড়াশোনা চালানো বিপত্তির আরেক বড় চাপ। ফলে ২য় মেয়ে জোবায়দা আজ যখন টাকা চাইলো তাও পারলোনা দিতে। অভিমানী মেয়েও বুঝলোনা বাপের অক্ষমতার ভাষা। বাড়িতে খেয়ে আসলো বিষ। মা নাহার বেগম বলেন, মা- ঝি একসাথে জোহরের নামাজ শেষে পুকুর থেকে এসে দেখি মেয়ে আমার কেমন যেনো করছে! তা দেখে আমার চিৎকারে সবাই ছুটে আসে। কমিউনিটি কলেজের প্রিন্সিপাল মামুনুর রশিদ বলেন, অল্প বেতনে চাকরি করে রফিক ; আমরাও বা কী করি? প্রতি বছর টাকা পয়সা খরচ করি কলেজটাকে এমপিওভুক্ত করার জন্য কিন্তু কপাল আমাদের খোলছেনা।

এ ব্যাপারে স্থানীয় নিজাম মেম্বার বলেন, অভাবের সংসার হওয়ায় মেয়ের আবদার রাখতে না পারায় মেয়েটি বিষ খেয়েছে।

হাতিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমির হোসেনও একই বার্তা দিয়ে বলেন, লাশ পোস্টমর্টেম করার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে নেয়ার খরচ পর্যন্ত ভিকটিম পরিবার বহন করতে পারছেনা। তাই এর দাফনকাপনের জন্য তিনি তার ব্যক্তিগত তরফ থেকে ৫ হাজার টাকা দেন। পিতামাতা কিংবা কোনো দিক হতে অভিযোগ না থাকায় অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। খবর পেয়ে সন্ধ্যার পর অভাবী পরিবারকে সহযোগিতার হাতবাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা দেন ইউনো মোহাম্মদ সেলিম হোসেনও।

Facebook Comments Box