বাজারে মাছ-মাংস-সবজি কোথাও নেই স্বস্তি

আলোকিত সকাল ডেস্ক

চলছে পবিত্র মাহে রমজান। রোজার শুরুতে বাজারে কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। তবে রোজা শুরুর আগে যেসব পণ্যের দাম বেড়েছে তাও কমেনি। রাজধানীর বাজারগুলোতে পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, সবজি, মাছ, মাংসের দাম নতুন করে না বাড়লেও আগের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।

শুক্রবার (১০ মে) ঢাকার কারওয়ান বাজার, মিরপুর, কচুক্ষেত, রামপুরা, মালিবাগ হাজীপাড়া, খিলগাঁও, জিগাতলা, নিউমার্কেট, রায়ের বাজার সিটি কর্পোরেশন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে সবজির দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে আছে। বাজারে এখন বেশির ভাগ সবজি পাওয়া যাচ্ছে ৪০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে।

বাজারে কাঁচা পেঁপে কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা, শসা ১০ টাকা বেড়ে ৫০ টাকা, প্রতি কেজি পটল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, সজনে ডাটা ৮০, বরবটি ৬০ টাকা, কচুর লতি ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, শিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা।

এ দিকে রামপুরা, খিলগাঁও ও মালিবাগ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা আগের সপ্তাহের মতো বয়লার মুরগির কেজি বিক্রি করছেন ১৬০-১৬৫ টাকা। লাল লেয়ার মুরগির ১৮০-১৯০ এবং পাকিস্তানি কক প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪০-২৫০ টাকায়। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা কেজি। আর খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি দরে।

মাংসের মতো সপ্তাহের ব্যবধানে দাম স্থিতিশীল রয়েছে ডিমের। শুধু ডিম বিক্রি করেন এমন ব্যবসায়ীরা গত সপ্তাহের মতো ডিমের ডজন বিক্রি করছেন ৮০- ৮৫ টাকায়। মুদি দোকান ও খুচরা বিক্রেতারা প্রতি পিস ডিম বিক্রি করছেন ৭-৮ টাকায়।

খিলগাঁওয়ের মুরগির ব্যবসায়ী আবুল কালাম পিপিবিডিনিউজকে বলেন, রোজা শুরুর আগে মুরগির দাম কিছুটা কমেছিল। আমাদের ধারণা ছিল রোজা শুরু হলে মুরগির দাম আরও কমবে। তবে রোজার শুরুতে মুরগির দাম আরও বেড়ে গেছে।

তিনি বলেন, বাজারে রোজার আগে বয়লার মুরগি ১৩৫ টাকা বিক্রি হলেও রোজায় তা দাম বেড়ে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার মুরগির ১৯০ এবং পাকিস্তানি কক ২৫০ টাকায় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে সামনে হয়তো মুরগির দাম কিছুটা কমতে পারে।

ডিমের পাশাপাশি দাম অপরিবর্তিত রয়েছে পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের। কারওয়ানবাজারে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা গত সপ্তাহের মতো ভালোমানের দেশি পেঁয়াজের পাল্লা (৫ কেজি) বিক্রি করছেন ১২৫-১৩০ টাকা। আর খুচরা বাজারে ভালোমানের দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকা। আর কাঁচা মরিচের পোয়া (২৫০ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকা। তবে বেড়েছে রসুনের দাম। গত সপ্তাহে রসুন ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে তা ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মালিবাগের গরুর মাংস ব্যবসায়ী আলমগীর বলেন, গত সপ্তাহে আমরা গরুর মাংস ৫৩০-৫৫০ টাকায কেজি বিক্রি করেছি। এখন সিটি কর্পোরেশন থেকে বেঁধে দেয়া দামে অর্থাৎ ৫৫০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। এর থেকে বেশি দাম নিচ্ছি না, আবার কম নিচ্ছি না।

রামপুরা ডিম ব্যবসায়ী মফিজ বলেন, রোজার আগে টানা দুই সপ্তাহে ডিমের দাম ডজনে ২০ টাকা কমে। গত এক সপ্তাহে ডিমের দাম নতুন করে কমেনি, আবার বাড়েওনি।

চড়া দামের বাজারে সব থেকে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে কচুর মুখি। বাজার ভেদে কচুর মুখি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০-১০০ টাকা। এছাড়া কাকরোল ৬০-৮০ টাকা, ঝিঙ্গা ৫০-৭০, উসি ৪০-৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

সবজির পাশাপাশি অপরিবর্তিত রয়েছে মাছের দামও। তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৮০ টাকা কেজি। পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৮০ টাকা কেজি। রুই ২৮০-৬০০, পাবদা ৬০০-৭০০, টেংরা ৫০০-৮০০, শিং ৫০০-৬০০ এবং চিতল বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৮০০ টাকা কেজি।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box