বরগুনার পর এবার নারায়ণগঞ্জে স্ত্রীর সামনে স্বামীকে কুপিয়ে জখম

আলোকিত সকাল ডেস্ক

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় শাহীন (৪২) নামে এক রং মিস্ত্রিকে স্ত্রীর সামনে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে সন্ত্রাসীরা। শুক্রবার (২৮ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার বক্তারকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রাণে বেঁচে যান হামলার শিকার শাহীন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুইটি এসএএস পাইপ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

এ দিকে একই দিন সকালের পর রাতে আবারও হামলার শিকার হয় শাহীন। এ সময় তার আত্মীয় আকবর হোসেন (৫০) ও ভাই রুবেলকে (২৫) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে আমজাদ বাহিনী।

গুরুতর আহত আকবর হোসেনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় হামলাকারী আমজাদের ভাই আলতাফ হোসেনকে ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, নাসিক ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বক্তারকান্দি এলাকার মৃত লাল চান মিয়ার ছেলে আমজাদের বিরুদ্ধে তিন বছর আগে নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন ওই এলাকার শাহীনের স্ত্রী ববি। এ নিয়ে শাহীন ও তার স্ত্রীর প্রতি ক্ষুব্ধ ছিল আমজাদ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সকালে আমজাদ তার ছেলে আপন, হৃদয় ও ভাগিনা শফিক রং মিস্ত্রি শাহীনকে রাস্তায় একা পেয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। খবর পেয়ে শাহীনের স্ত্রী ববি স্বামীকে নেওয়ার জন্য রাস্তায় আসেন। এ সময় আমজাদ ও তার ছেলেরা স্ত্রীর সামনেই শাহীনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে।

এলাকাবাসী আমজাদ ও তার ছেলেদের বাধা দেন এবং শাহীনকে উদ্ধার করে দ্রুত নারায়ণগঞ্জ ৩শ শয্যা হাসপাতালে পাঠান।

এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। আমজাদ একজন তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী বলে পুলিশ জানায়।

এলাকাবাসী জানায়, রং মিস্ত্রি শাহীনের বিয়েতে উকিল হয় সন্ত্রাসী আমজাদ। এরই সূত্র ধরে উকিল মেয়ে ববির বাসায় প্রায় যাতায়াত করত। এক পর্যায়ে উকিল মেয়ের ওপর তার কুনজর পড়ে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। এ ধর্ষণের ঘটনায় আমজাদের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন আইনে মামলা হয়। এ মামলায় আমজাদের কয়েকদিন জেল হয়।

এ ঘটনায় বন্দর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, আমজাদসহ তার ছেলের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বরগুনা সরকারি কলেজ থেকে স্ত্রীকে নিয়ে আসার সময় রিফাত শরীফকে কলেজ গেইটের সামনে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে নয়ন বন্ড, তার সহযোগী রিফাত ফরাজীসহ ১০-১২ জন সন্ত্রাসী। পরে স্থানীয়রা তাকে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় রিফাত।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box