ফেসবুকে ইচ্ছামতো সম্মানহানি করা যায়

আলোকিত সকাল ডেস্ক

বরগুনায় চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডকে ইঙ্গিত করে ছাত্রলীগ নেত্রী জেরিন দিয়া বলেছেন, ফেসবুকে ইচ্ছামতো সম্মানহানি করা যায়, উপরেও তোলা যায়। আমাকে নিয়েও হয়তো ফেসবুকে এমনই হবে।

হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শীদের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ক্ষোভ ঝেড়ে তিনি এসব কথা বলেন।

জেরিন দিয়া বলেন, ‘আমরা মানুষ দিনকে দিন পশুর মতো হয়ে যাচ্ছি। আমরা এখন ফেসবুকের তালে তালে নাচি। নিজেকে ভাইরাল করার জন্য কত কিছুই না এখন করতে হয়। মানে ফেসবুকের যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখন চলতে হয় আরকি। এখানে মানুষকে ইচ্ছামতো সম্মানহানি করা যায় আবার অনেক উপরেও তোলা যায়।’

ছাত্রলীগ নেত্রী বলেন, ‘এখন একটা কিছু হলে আগে ফেসবুকে জানাই আমরা। এই ধরেন, কোথাও আগুন লাগলে আমরা লাইভে আসি। কিন্তু নেভাতে যেতে পারি না। আবার রাস্তায় কেউ দুর্ঘটনার শিকার হলে আমরা সেলফি তুলতে ব্যস্ত। সবার কাছে দোয়া চাই; আল্লাহ লোকটাকে বাঁচিয়ে দাও। কিন্তু নিজে গিয়ে সাহায্য করতে পারি না।’

তিনি বলেন, রাস্তায় কেউ প্রকাশ্যে খুন করলে সেটা ভিডিও করতে পারি, তামশা দেখতে পারি। কিন্তু গিয়ে বাঁচাতে পারি না। এই ফেসবুক আমাদের মনুষ্যত্বকে দিনে দিনে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে আমরা নিজেও সেটা জানি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভয় হয়। হয়তো আমিও একদিন এমন জায়গায় থাকব, আর আমাকে নিয়েও এভাবে ভিডিও ছবি তুলতে সবাই ব্যস্ত থাকবে ভাইরাল করার জন্য। কিন্তু কেউ বাচাঁতে আসবে না।’

বুধবার প্রকাশ্য দিবালোকে বরগুনা সরকারি কলেজ গেটের সামনে রিফাত শরীফকে কোপায় নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী নামে পেশাদার দুই সন্ত্রাসী। এ ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ পায় ফেসবুকে। ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, স্বামীকে বাঁচাতে একা লড়াই করছেন স্ত্রী। এ সময় আরও লোকেরা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি। শত চেষ্টার পরও স্বামীকে বাঁচাতে পারলেন না স্ত্রী। এ হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ভাইরাল হলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। কয়েকজন গ্রেফতার হলেও ঘটনার মূল হোতা নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। তবে পুলিশ ও সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, জড়িত সবাইকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box