ফেরীতে জায়গা নেই, তবুও যেতে হবে বাড়ি

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : ফেরীতে পা ফেলার জায়গা নেই, তারপরেও ঠাসাসাঠি করে উঠে পড়েছে ঘরমুখো মানুষ, করোনা বা লকডাউন কোন কিছুই তাদের সামনে বাধা হয়ে আসতে পারছে না। যতই কষ্ঠ হোক যেতে হবে বাড়ি, আর ঈদ পালন করতে হবে প্রিয়জনদের সাথে। তাইতো জীবনের ঝুঁকি নিয়েও ফেরীর বাহিরের ঢাকনা ধরে ঝুলে পড়েছে ভোলা-বরিশালগামী যাত্রীরা। বুধবার দুপুরে লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীরহাট ফেরীঘাটে গিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে। দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে এ ঘাট থেকে কলমীলতা নামে একটি ফেরী ভোলার ইলিশাঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
ঘাটে দেখা গেছে, ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের চাপে ঘাটে পণ্যবাহী যানবাহন আটকা পড়ে আছে। ফেরী ঘাটে নোঙ্গর করার সাথে সাথে যাত্রীরা ফেরীতে উঠে জায়গা দখল করে নেয়। ফলে ফেরীতে নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্যবাহী যানবাহন বহন করতে পারছে না। এছাড়া ফেরীঘাটে ঢাকা-চট্রগ্রাম থেকে আসা ভোলা-বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলগামী বাসিন্দাদের ভিড় জমে আছে। কেউ কেউ ফেরীতে ঠায় না পেয়ে বিকল্পভাবে ট্রলার, স্পিডবোর্ড বা ইঞ্জিনচালিত নৌকাতে করে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্থানীয় কয়েকটি গ্রুপ মাত্রারিক্ত ভাড়া নিয়ে অবৈধভাবে যাত্রী পার করছে। তবে গণপরিবহণ এবং নৌ-যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছে যাত্রীরা। এতে অতিরিক্ত ভাড়া এবং সময় ব্যয় করে তারা বাড়ি ফিরছেন বলে জানান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেঘনা নদী সংলগ্ন কাছিয়ার খালে চররমনী মোহন ইউপি চেয়ারম্যান ইউসুফ ছৈয়াল শেল্টারে অস্থায়ী ঘাট বসিয়ে অনুমোদহীন নৌ-যান দিয়ে যাত্রী পারাপার করছে তার ছেলে ও আত্মীয়রা। অন্যদিকে মজুচৌধুরীরহাটের দক্ষিণে বুড়ির ঘাটে আরেকটি অস্থায়ী ঘাট বসিয়েছে ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা মনির হোসেন সজীব। যদিও নদীতে কোষ্টগার্ডসহ প্রশাসন টহল দিচ্ছে বলে জানা গেছে। তারপরেও যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছে শুধুমাত্র প্রিয়জনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার জন্য।

Facebook Comments Box