ফাঁকা অভিজাত বিপণি-বিতান

আলোকিত সকাল ডেস্ক

আগামী সপ্তাহেই পবিত্র ঈদুল ফিতর। আর এই উৎসবকে সামনে রেখে বিপণি-বিতানগুলোতে জমে উঠে কেনাকাটা। তবে অভিজাত এলাকায় বর্তমানে অলস সময় পার করছেন দোকানিরা। বেচা-কেনা তেমন নেই। রোববার (২ জুন) রাজধানীর অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত গুলশানের শপিংমল ও বিপণি বিতান ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

গুলশান-২ এ অবস্থিত পিংক সিটিতে গিয়ে দেখা যায়, এই মার্কেটের সামনে তেমন কোন ভিড় নেই। দু’একজন নারী ক্রেতা চোখে পড়ে। তাদের কেউ গয়না, কেউবা কাপড় দেখছেন। তবে মার্কেটের অধিকাংশ দোকানে অলস সময় পার করছেন দোকানিরা।

পিংক সিটির দ্বিতীয় তলায় কাপড়ে দোকান ডালিমসে গিয়ে দেখা যায়, দোকানটি ফাঁকা। সকাল থেকে কোন বেচা-কেনা নেই বলে জানালেন দোকানের কর্মচারী সুজন। তিনি দৈনিক জাগরণকে বলেন, খুবই মন্দা যাচ্ছে এবার। গত বছর ২৭ রমজানে সকাল থেকেই অনেক ভিড় ছিল। এ বছর এর কোন ছিটাফোটাও নেই। এছাড়া মার্কেটের অধিকাংশ দোকানই ফাঁকা রয়েছে। যে হারে প্রতিবছর বিক্রি কমছে তাতে ভবিষ্যতের আশঙ্কা বাড়ছে।

ঈদ বাজারে বেচা-কেনার এই করুণ দশা নিয়ে কথা বেশ হয় কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে। তারা জানান, সাধারণত গুলশান বনানী এলাকায় রমজান শুরুর পর কিছুটা বিক্রি হয়। তবে এই এলাকার বাসিন্দারা বেশিরভাগই দেশের বাইরে থেকে কেনাকাটা করে থাকেন। আর প্রয়োজনীয় কিছু বাকি থাকলে তারা পরবর্তীতে এই মার্কেটগুলো থেকে নেন। যার কারণে ঈদ ঘনিয়ে আসলে আর বেচা-কেনা ভালো হয় না। এবার টানা ছুটির কারণে অনেকে দেশের বাইরে ঈদ করছেন। যার কারণে এবারের ঈদ বাজার খুবই মন্দা কাটছে।

গুলশান-১ এর শেষ মাথায় হাতিরঝিল ঘেষে গড়ে উঠেছে নতুন মার্কেট পুলিশ প্লাজা। এখানে গুলশানের অন্যান্য এলাকার বিপনি-বিতানগুলোর তুলনায় বেচা-কেনা কিছুটা ভালো। তাও ভিড়ের কোন নাম নেই। এখানেও ব্যবসায়ীরা হতাশ। ঈদ ঘিরে যে ধরণের ব্যবসা হওয়ার কথা তার ধারের কাছেও নেই বর্তমানের বেচা-কেনা। তবে চাঁদ রাত হিসেবে পরিচিত ঈদের আগের রাতে বিক্রি একটু ভালো হবে আশাবাদ ব্যবসায়ীদের। তবে এই মার্কেটে বেচা-বিক্রি ভালো হওয়ার আরেকটি কারণ আশে পাশে অভিজাত এলাকার বাইরেও রামপুরা, বনশ্রী, বাড্ডার বাসিন্দারা এখানে কেনাকাটা করতে আসেন।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box