প্রস্তাবিত বাজেটে আসছে বড় পরিবর্তন

আলোকিত সকাল ডেস্ক

জাতীয় সংসদে পেশ করা ২০১৯-২০ অর্থবছরের পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটে বেশ কিছু পরিবর্তন ও সংশোধনী আনা হচ্ছে। ব্যবসায়ী ও শেয়ারবাজারের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রয়ক্ষমতাসহ বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে এসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আগের কয়েকটি অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাজেট পাসের আগে আলোচিত ও সমালোচিত বিষয়ে পরিবর্তন আনবেন। বাজেট পাসের সময় প্রধানমন্ত্রী এসব পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করে অধিবেশন বক্তব্য রাখবেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে সবচেয়ে সমালোচিত বিষয় হলো, মধ্যবিত্তের ভরসাস্থল সঞ্চয়পত্রে বর্ধিত উৎসে কর ধার্য। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্ধিত এই কর আরোপের প্রস্তাব পাস হলে সমাজের মধ্যবিত্ত, অবসরভোগী ও ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের আয়ের ওপর সরাসরি আঘাত আসবে। এটি নিয়ে সংসদেও সমালোচনা হয়েছে। তাই সরকার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর বর্ধিত উৎসে কর প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে।

এ নিয়ে এখনো দুটি চিন্তা রয়েছে। এর একটি হলো, বাজারে প্রচলিত সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের ওপর থেকে বর্ধিত কর প্রত্যাহার করা হবে। অন্যটি হলো, শুধু পরিবারভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ওপর তা প্রত্যাহার করা হবে। এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত গড়াতে পারে। অবশ্য সব বিষয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আয়কর খাতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির রিজার্ভ তহবিল, স্টক ডিভিডেন্ট বা বোনাস শেয়ারের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহর করা হচ্ছে। এছাড়া সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর আরোপিত বাড়তি উৎসে করও থাকবে না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

পুঁজিবাজার বিকাশের স্বার্থে তালিকাভুক্ত কোম্পানির রিজার্ভ তহবিল যদি তাদের পরিশোধিত মূলধনের বেশি হয়, তবে বাড়তি অংশের ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছে। ফলে বাড়তি রিজার্ভ থাকলে ওই হারে কর দিতে হবে। এতে বহুজাতিক কোম্পানির রিজার্ভের অর্থ নগদ আকারে লভ্যাংশ দিয়ে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে বিনিয়োগ কমার শঙ্কা রয়েছে। এ কারণেই এ কর প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে বোনাস শেয়ারের পরিবর্তে নগদ লভ্যাংশ দেয়ায় উৎসাহিত করতে বোনাস শেয়ারের সমপরিমাণ অর্থের ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপ করা হয়েছে।

ফলে বোনাস দেয়ার দেয়ায় নিরুৎসাহিত হবে কোম্পানিগুলো। এতে বোনাস শেয়ার দিয়ে কোম্পানির মূলধন বাড়ানোর প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হবে। নগদ লভ্যাংশ দিলে মুনাফার অর্থ চলে যাবে মালিকপক্ষের কাছে। এসব কারণে বোনাস শেয়ারের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার করা হতে পারে।

বিদ্যুতের নতুন সংযোগ নিতে এবং পুরনো গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল দিতে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে ২০১৯-২০ সালের বাজেটে। এর আগে বিদ্যুতের সংযোগ পেতে আবেদনের সঙ্গে আবেদনকারীর দুই কপি ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের ফটোকপি, জমির দলিল বা লিজের ফটোকপি, ১০ তলার বেশি হলে অগ্নিনির্বাপণ সনদ, সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার মধ্যে হলে ভবন নির্মাণের বৈধ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ফটোকপি এবং গ্রাহকের দুই কিলোওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ লোড হলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সনদ জমা দিতে হতো।

প্রস্তাবিত বাজেটে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন স্বয়ং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। গত সোমবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে পাঠানো এক চিঠিতে (ডিও লেটার) তিনি এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার কথা বলেছেন। তিনি লিখেছেন, দেশের ৯৩ শতাংশ জনগোষ্ঠী বিদ্যুেসবার আওতায় এসেছে। দেশে এখন তিন কোটি ৩৪ লাখ বিদ্যুতের গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) গ্রাহকসংখ্যা দুই কোটি ৬৪ লাখ। আর এই গ্রাহকের বেশির ভাগই দরিদ্র। দিনমজুর। এদের পক্ষে টিআইএন করা কষ্টদায়ক ও অমানবিক বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগে টিআইএন বাধ্যতামূলকের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে সরকার।

আলোকিত সকাল/এসআইসু

Facebook Comments Box