নয়ন বন্ডের মাদকের ছিল স্পেশাল রুম

আলোকিত সকাল ডেস্ক

বরগুনায় প্রকাশ্য দিবালোকে রাস্তার ওপর স্ত্রীর সামনে স্বামীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তদন্তের মধ্যেই আলোচনায় এসেছে ‘বন্ড ০০৭’ ফেইসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপ। হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড শুধু একজন মাদক ব্যবসায়ীই নয়, ছিলেন চরম পর্যায়ের মাদকাসক্ত। প্রতিদিনই তার ‘স্পেশাল রুমে’ বসত মাদকের আসর।

শনিবার (২৯ জুন) বরগুনা সরকারি কলেজের পাশে নয়নের বাড়িতে সরজমিনে ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

নয়নের পারিবারিক নাম সাব্বির আহম্মেদ, ডাক নাম নয়ন। নয়নের সঙ্গে নিজেই জুড়ে দিয়েছেন বন্ড। নয়ন নিজেকে জেমস বন্ড ভাবতে ভালোবাসেন বলেই নামের সঙ্গে যুক্ত করেন বন্ড।তাই বরগুনা শহরে অতি সহজেই বন্ধু মহল থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অপরাধীর তালিকাতেও পরিচিতও পেয়ে যান নয়ন বন্ড নামে।

এই মাদকের আসর থাকতো গাঁজা, মদ, হিরোইন ও ইয়াবা। যখন যেই মাদক গ্রহণ করতে ইচ্ছা হতো নয়নের সেই দিনই চলত সেই মাদকের আসর। এই আসরে নয়ন শুধু একা নন, ছিল তার ০০৭ সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যরাও। আর এসব অভিযোগের প্রমাণও মিলে নয়নের স্পেশাল রুমে গেলে।

নয়নের বাড়িতে সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়িটিতে দুইটি পাকা ভবন রয়েছে। এর মধ্যে একটি সাদা অন্যটি, সবুজ রংয়ের। সাদা রংয়ের ঘরটিতে তিনটি কক্ষ, এর মধ্যে একটি নয়নের মাদক আসরের ‘স্পেশাল রুম’। আর সবুজ রংয়ের ঘরটিতে ছিল চারটি কক্ষ। যার একটিতে থাকতেন নয়নের মা। যদিও এখন নয়নের বাড়িতে কেউ নেই। সব কিছু এলোমেলো ও ঘর দুইটিতে ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে।

আরও দেখা গেছে, ঘটনার পরদিন কে বা কারা নয়নদের দুই ঘরের সব আসবাবপত্র ভেঙে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখে যায়। তবে নয়নের স্পেশাল রুমটিতে গেলে দেখা যায়, চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিশেষ মাদক গ্রহণের নানা উপকরণ। এর মধ্যে রয়েছে সিরিঞ্জ, মাথায় সুই লাগানো লাইটার ও ফুয়েল পেপার। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এসব উপকরণ মাদকসেবীরা ইয়াবা সেবনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করে থাকে।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, বাড়িটির একটু অদূরে নয়নের ইয়াবা সেবনের একটি স্পেশাল জায়গার সন্ধান পাওয়া যায়। যেখানে বসে নয়ন দিনের বেলায় ইয়াবা সেবন করতেন। ঐ স্পেশাল জায়গাটিতে ইয়াবা ট্যাবলেট সেবনে ব্যবহৃত ফুয়েল পেপার পড়ে থাকতে দেখা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নয়নের কয়েকজন প্রতিবেশীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি রাতে নয়নের স্পেশাল রুমে চলত মাদক সেবনের আসর। যেই আসরে নয়নের সন্ত্রাসী গ্রুপ ০০৭ এর সদস্যরা ছাড়াও আশেপাশের এলাকার সকল সন্ত্রাসীরা এসে হাজির হতো। আসর চলত রাতব্যাপী।

এ বিষয়ে নয়নের বাড়ির পূর্ব পাশে ভাড়ায় থাকা একজন স্কুল শিক্ষক নাম প্রকাশ না বলার শর্তে বলেন, ‘নয়ন তার স্পেশাল রুমে ইয়াবা সেবন থেকে শুরু সব মাদকই সেবন করত। রুমটির পাশ দিয়ে রাতে হেঁটে গেলে সব সময় গাঁজার গন্ধ পাওয়া যেতে। যখনই তার বাসায় লোকজন আসতো সে দরজা বন্ধ করে দিত।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নয়নের এক প্রতিবেশী নারী বলেন, সে যে শুধু নেশা করত, তা না। তার বাসায় খারপ মেয়েদের আনাগোনা ছিল। এছাড়া বিভিন্ন সময় শুনেছি সাঙ্গপাঙ্গরা কলেজের ছাত্রদের কাছ থেকে ছিনতাই করে মালামাল স্পেশাল রুমে জমা করত। পরে এসব জিনিসপত্র এখান থেকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করতো নয়ন।

বরগুনা সদর থানার ওসি আবির মোহাম্মদ হোসেন জানান, পৌর শহরের বিকেবি রোডের ধানসিঁড়ি এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকীর ছেলে নয়নের বিরুদ্ধে মাদক কেনাবেচা, চুরি, ছিনতাই, হামলা, সন্ত্রাস সৃষ্টিসহ নানা অভিযোগে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে। নয়নের গড়ে তোলা গ্যাং ০০৭ শহরের কলেজ রোড, ডিকেপি, দীঘির পাড়, কেজিস্কুল ও ধানসিঁড়ি এলাকায় নানা ধরনের অপরাধ চালিয়ে আসছিল বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।

তারা বলছেন, ওই গ্রুপে নয়নের প্রধান সহযোগী হলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের ভায়রার ছেলে রিফাত ফরাজী।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box