নলছিটি পৌর এলাকার দুইটি সড়ক চলাচলের অযোগ্য

আলোকিত সকাল ডেস্ক

নলছিটি পৌর এলাকায় প্রবেশের দুইটি ব্যস্ততম সড়কের ১৪ কিলোমিটার পথ দীর্ঘ দিন সংস্কার না করায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌমুমের বৃষ্টিতে খানাখন্দের কারণে সড়ক দুইটি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। জনসাধারণ প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করছে। বরিশাল-কুয়কাটা মহাসড়ক থেকে নলছিটির প্রবেশদ্বার জিরো পয়েন্ট হয়ে দপদপিয়া ফেরিঘাট থেকে নলছিটি পৌরসভা পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার পথ খানাখন্দ ও গর্তের কারণে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলছে। অন্যদিকে ঝালকাঠি শহর থেকে নলছিটি প্রবেশের বাড়ইকরণ খেয়াঘাট হয়ে নলছিটি পৌর শহর পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার পথের একই অবস্থা।

নলছিটি উপজেলা এলজিইডি ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ১৮৬৫ সালে গঠিত নলছিটি পৌর এলাকায় প্রবেশের একমাত্র পথ ছিল ঝালকাঠি-বরিশালের আঞ্চলিক সড়কের ষাটপাকিয়া ফেরিঘাট। ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে প্রায় ২ লাখ ১৪ হাজার মানুষের বসাবাস নলছিটি উপজেলায়। উপজেলাটিতে প্রবেশের পথ সহজ করতে সরকার ২০০২ সালে উদ্যোগ গ্রহণ করে। এ সময় সড়ক ও জনপদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে দপদপিয়া-মোল্লারহাট-নলছিটি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করে পিচ ঢালাই করে পাকা করা হয়। পরে দপদপিয়া ফেরিঘাট হয়ে জিরোপয়েন্ট পর্যন্ত বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের সঙ্গে আরো তিন কিলোমিটার সড়ক যোগ হয়ে সরাসরি নলছিটি-বরিশাল বাস চলাচল শুরু হয়।

অন্যদিকে ২০০২ সালের একই সময় ঝালকাঠি পুরাতন কলেজ খেয়াঘাটের ওপার বাড়ইকরণ ঘাট থেকে নলছিটি শহর পর্যন্ত সাত কিলোমিটার পথ প্রশস্ত করে পিচ ঢালাই করে পাকা করা হয়। পরবর্তীতে সড়ক দুইটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগে দেওয়া হয়; কিন্তু সে সময়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিম্নমানের কাজ ও পরবর্তীতে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে সংস্কারের কাজ করায় বিগত পাঁচ বছরে সড়ক দুইটির পিচ-খোয়া উঠে গিয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক দুইটি দিয়ে প্রতিদিন বিভাগীয় শহর বরিশাল ও জেলা শহর ঝালকাঠিতে বিভিন্ন কাজে প্রায় ২০ হাজার মানুষ যাতায়াত করে।

নলছিটি খাসমহল এলাকার ব্যবসায়ী শাহাদাত্ আলম বলেন, প্রতি সপ্তাহে নলছিটিতে চাল বোঝাই অন্তত ২০টি ট্রাক প্রবেশ করে। দপদপিয়া সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় বাড়তি টাকা দিয়ে বিকল্প পথে মালামাল আনতে হয়।

দপদপিয়া-মোল্লারহাট-নলছিটি সড়কের বাস চালক মহসিন মিয়া বলেন, এ সড়কের বেহালের কারণে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীবাহী বাস চলাতে হচ্ছে। খানাখন্দর কারণে পাশাপাশি দুইটি বাস অতিক্রম করতে গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে।

নলছিটি থানার ওসি (তদন্ত) আবদুল হালিম জানান, বাড়ৈকরণ সড়কটি খারাপ থাকায় ঝুঁকি নিয়ে আমাদের পুলিশ সদস্যদের আসামি নিয়ে ঝালকাঠি জেলা জজ আদালতে যেতে হয়।

নলছিটি উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ হেল বাকি চৌধুরী বলেন, এ দুইটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে খানাখন্দর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। তবে দপদপিয়া মোল্লার হাট সড়ক নির্মাণ কাজ শিগগির শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কবে নাগাদ শুরু হবে তার কোনো সঠিক তথ্য জানাতে পারেননি এই প্রকৌশলী।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box