দেশের সেরা পৌরসভা হিসেব উন্নীত হতে যাচ্ছে বেনাপোল

মোঃ মাসুদুর রহমান শেখ

দেশের সেরা পৌরসভা কিংবা একমাত্র বিশেষ পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন হিসেবে বেনাপোলকে ঘোষনা করার একটি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সরকারের ভাবনা চিন্তার মধ্যে রয়েছে এই আলোকেই বেনাপোল পৌর সভা তার কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। এই সুখবরটি আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় বেনাপোল পৌর ভবনে অনুষ্ঠিত নগর উন্নয়ন সমন্বয় কমিটি ত্রৈমাসিক সভায় ( টিএল সিসি) সভাপতির বক্তব্য বেনাপোল পৌর সবার মেয়র আশরাফুল আলম লিটন অবহিত করেন্। তিনি বলেন আমরা স্বপ্ন দেখছি; আপনারাও স্বপ্নের কথা বলেন। হয়ত একদিন আমরা না থাকলেও স্বপ্ন আর পরিকলল্পনা বাস্তবে রুপ লাভ করবে।

বুধবার সকাল ১০ টার সময় বেনাপোল পৌর কনাফারেন্স রুমে সভাপতি হিসেব পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন জানান, বেনাপোলকে দেশের নান্দনিক পৌরসভা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ইতিপুর্বে আমরা যে সব পরিকল্পনা গ্রহন করেছিলাম তার একটি ট্রাক টার্মিনাল। এই ট্রাক টার্মিনালে সকল রকমের সুযোগ সুবিধা ব্যবস্থা ট্রাক চালক কর্মীদের জন্য রয়েছে। টার্মিনালটি আসা করছি আগামি ১৫ দিনের মধ্যে উদ্ভোধন করে ব্যবহার কারিদের হাতে তুলে দিতে সক্ষম হবো। এর ফলে বেনাপোলের মুল সড়ক সহ পৌর এলাকার মধ্যে যে সীমাহীন অসহনিয় যানজট এর সৃষ্টি হয় তার শতকরা ৮০ ভাগ নিরসন হয়ে যাবে।

নগরবাসির দির্ঘদিনের দাবি একটি পুর্নাঙ্গ হাসপাতাল গড়ে তোলা । এই দাবির প্রেক্ষিতে পৌর ভবনের দক্ষিন পাশে একটি তিন তলা বিশিষ্ট পৌর স্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রকল্প ইতিমধ্যে আমরা গ্রহন করেছি। যেখানে আধুনিক চিকিৎসার সকল ধরনের সুযোগ সুবিধা থাকবে। এছাড়াও পৌর এলাকার দুর্গাপুরের মোড় থেকে শুরু করে সীমান্ত গ্রাম সাদিপুরের বেলতলা পর্যান্ত পৌর এলাকার ১৮ ফুট চওড়া একটি বাইপাস সড়ক নির্মানের কাজ অচিরেই শুরু করা হবে। পাশাপাশি পৌর বাসির জন্য সুপেয় পানির জন্য ২০ কিলোমিটার ব্যাপি পাইপ লাইন স্থাপনের কাজেও দ্রুত হাত দেওয়া হবে। এছাড়া পৌর এলকার মধ্যে সাড়ে ১২ কিলোমিটার নতুন পাকা ড্রেন নির্মানের কাজও এক দুইদিনের মধ্যে শুরু হবে।

নগর উন্নয়ন সমন্বয় ( টিএল সিসি) কমিটির এই বৈঠকে বক্তব্য রাখেন বেনাপোল কাস্টমস হাউজের সহকারি কমিশনার উত্তম কুমার চাকমা, বেনাপোল হাস্কুলের শিক্ষক মোখলেছুর রহমান, মরিয়ম মেমোরিয়াল বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হাসিনারা খাতুন,সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ চৌধুরী, শার্শা উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক আজিবর রহমান, শার্শা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল ওহাব শ্রমিক নেতা মগরোব আলী প্রমুখ।উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল পৌর আওয়ামীলীগের ভারপ্রপ্ত আহবায়ক আহসান উল্লাহ মাষ্টার, পৌর সচিব রফিকুল ইসলাম, পৌর প্যানেল মেয়র সাহাবুদ্দিন মন্টু, কাউন্সিলার মিজানুর রহমান, রাশেদ আলী, কামরুন্নাহার আন্না, ওহিদুল ইসলাম খোকন. জুলেখা খাতুন, আমিরুল ইসলাম পৌর কর্মচারী ইউনিয়ন এর সাধারন সম্পাদক আব্দুল আল মামুন রনি প্রমুখ।

নগর উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় সাংবাদিক প্রতিনিধি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ চৌধুরী দাবি উত্থাপন করেন, সীমান্ত সংলগ্ন ইছামতি নদীর শাখা হাকোরটিকে একটি লেক বা সরোবর এ পরিনত করা। এই প্রেক্ষপটে মেয়র লিটন বলেন, সীমান্ত ঘেষা সাদিপুর থেকে পোড়াবাড়ি মোড় পর্যন্ত ৩দশমিক৭/৪ কিলোমিটার হাকোরটিকে সরোবরে উন্নত করার পরিকল্পনা আমরা হাতে নিচ্ছি। এর দুধারে পাকা সড়ক থাকবে ।

শিশু, বৃদ্ধদের হাটা চলা বিনোদনের ব্যবস্থা থাকবে। দু’পাশে অন্তত দুহাজার লোক প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে এরকম বসার ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়াও লেকের মধ্যে স্পিড বোড দিয়ে পোড়াবাড়ি মোড় পর্যন্ত নাগরিকদের যাতায়াতের ব্যবস্থা থাকবে। এর ফলে যে কেউ যানজট এড়িয়ে পৌর এলাকার মধ্যে চলাচল করতে সক্ষম হবে। মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ চৌধুরী একটি আধুনিক খেলার ষ্টেডিয়াম, লোক শিল্প সাহিত্যর একটি একাডেমি, একটি মুক্তিযুদ্ধ ও লোক ঐতিহ্য ভিত্তির যাদুঘর গড়ে তোলা, সরকারী একটি গোরস্থান প্রতিষ্ঠিত করা সহ আরো কিছু দাবি উত্থাপন করেন। এই প্রেক্ষাপটে মেয়র লিটন সভায় অবহিত করেন খুব দ্রুত যশোর বেনাপোল মহাসড়ক সংলগ্ল একটি জায়গা নির্ধারন করে যশোহর সড়ক এবং যশোহরের কৃষ্টি সংস্কৃতি বিরত্ব গাথা নিয়ে একটি যাদুঘর গড়ে তোলার কাজে হাত দেওয়া হবে। এজন্য দরকার হবে আনুমানিক ২ বিঘা জমি।

সভায় বেনাপোল হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক মোখলেছুর রহমান বেনাপোল পৌর এলাকায় একটি পাঠাগার নির্মানের দাবি তুলে ধরেন। এই প্রেক্ষাপটে মেয়র লিটন সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত ঘোষনা করে বলেন পৌর ভবনের উত্তর পার্শ্বের জায়গাটি অব্যবহৃত পড়ে আছে, সেখানটিতে আমরা পৌর পাঠাগার গড়ে তুলব। কিংবা প্রয়োজনে পৌর ভবনটিকে চতুর্থ তলা ভবনে রুপান্তরিত করে এর একটি ফোর পাঠাগারের জন্য ছেড়ে দেওয়া হবে। আমি আজই পাঠাগার কমিটি গড়ে তোলার জন্য আহসান উল্লাহ মাষ্টারকে আহবায়ক ঘোষনা করলাম।

এরপর দুপুর সাড়ে ১২ টার সময় তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতি করন ( সেক্টর) প্রকল্প এর সভা শুরু হয় । সেখানে মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেন, বেনাপোল পৌর এলাকায় ৪টি বস্তি এলাকা আছে। তাদের উন্নয়ন অগ্রগতির কথাও আমাদের ভাবতে হবে। তারা যদি সুস্থ না থাকে সমাজের অন্যান্য মানুষগুলোও সুস্থ থাকতে পারবে না। তাদের জন্য আমাদের ভাবতে হবে। তাদের ভবিষ্যাৎ এর জন্য আমাদের কিছু করতে হবে।

তিনি বলেন, পৌর এলাকার আবর্জনা অপসারন করে আমড়াখালীর ওখানে আমাদের পৌর সভার নিজস্ব ১৫ বিঘা জমির উপর ফেলা হচ্ছে যা ১০০ বৎসর পর্যন্ত ফেলা যাবে । এবং এখান থেকে রিসাইকেলিং করে বায়োগ্যাস সহ বিভিন্ন প্রডক্টে যাওয়া যাবে। এছাড়ও তিনি বলেন পৌর বাসীর দির্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী সীমান্ত সংলগ্ন পাচুয়ার বাওড় এলাকায় একটি পার্ক এবং পার্ক সংলগ্ন একটি আবাসিক এলাকা গড়ে তোলা হবে। যার নাম হবে পার্কসিটি। একই সাথে আমড়ালী এলাকায় রাজবাড়ি নামে আর একটি আবাসিক সিটি গড়ে তোলা হবে।

আলোকিত সকাল/এসআইসু

Facebook Comments Box