দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়েই চলছে পাঠদান

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় জরাজীর্ণ ভবনে যশোর জেলার প্রায় ১৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান চলছে। বিকল্প ভবন না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভবনেই চালানো হচ্ছে পাঠদান। ঝুঁকিতে থাকা এসব ভবনের কোনোটির খসে পড়ছে পলেস্তারা। কোনোটির টিন ফুটো হয়ে পড়ে পানি। আবার শ্রেণিকক্ষে নেই পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা। নেই স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেটও। প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কোনো কোনো বিদ্যালয়কে ঝুঁকিপূর্ণও ঘোষণা করেছে। অথচ দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়েই এসব বিদ্যালয়ে চলছে পাঠদান কার্যক্রম।

যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানিয়েছে, জেলায় এক হাজার ২৮৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ১৪৭টি স্কুলের ভবনের অবস্থা করুণ। এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্কুলে যেমন পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি থেকে যাচ্ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, জেলার আটটি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪১টি ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় রয়েছে শার্শা উপজেলায়। এ উপজেলার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো হলো উলাশী, শিববাস-শালকোনা, নাভারণ রেলবাজার, বালুন্ডা, সুবর্ণখালি, বসতপুর ও খলসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

সদর উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে ১৮টি বিদ্যালয়। এর মধ্যে টি.কে.জী সম্মিলনী বিদ্যালয়, রামকৃষ্ণ আশ্রম বিদ্যালয়, সেবাসংঘ স্কুল, দেয়াড়া স্কুল ও চাউলিয়া বিদ্যালয় রয়েছে বেশি ঝুঁকির তালিকায়।

চৌগাছা উপজেলার এক ডজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ঝুঁকির তালিকায়। এর মধ্যে পাতিবিলা, হোগলাডাঙ্গা, বল্লভপুর রামকৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। ঝিকরগাছার ২৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে। তার মধ্যে ডহর মাগুরা, নবগ্রাম, টাত্তরা, দোস্তপুর, দেউলি নাভারণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে বেশি ঝুঁকিতে।

অভয়নগর উপজেলায় পুড়াটাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া আরো দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও রয়েছে ঝুঁকির তালিকায়। বাঘারপাড়ার ১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। তার মধ্যে বহরমপুর, করিমপুর, পি টি এম দশপাখিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

কেশবপুরের গৌরীঘোনা ইন্দ্রমতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ চারটি ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। মণিরামপুর উপজেলার ২৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিতে রয়েছে। তার মধ্যে উত্তরপাড়া, সুবলকাঠি, ভোজগাতি, লাউলি, বাটবিলা, মদনপুর, কুচলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থা সবচেয়ে করুণ।

সদরের ঝুঁকিপূর্ণ নালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরহাদ হোসেন বলেন, বিদ্যালয়টির প্রথম ভবন ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠা হয়। ১৯৯৫ সালে দেয়াল করে টিনের চালা দেওয়া হয়। সেই টিনে মরিচা ধরেছে। কোথাও কোথাও টিনে ফুটো হয়েছে। বাঁশের জোড়াতালি দিয়ে বিদ্যালয়ের ৩১০ জন শিক্ষার্থীকে দেওয়া হচ্ছে পাঠদান। বিভিন্ন সময় উপজেলা শিক্ষা অফিসকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি।

যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম বলেন, জেলার আটটি উপজেলার ১৪৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে বিকল্প ভবন না থাকায় বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে শিক্ষাকার্যক্রম। এই ভবনের তালিকা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। দ্রুতই এসব স্কুলের ব্যাপারে ইতিবাচক পদক্ষেপ আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box