লক্ষ্মীপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘরে আটকিয়ে শিশুকে বেধড়ক মারধর ও গলা টিপে হত্যার চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরে দত্তপাড়ায়  তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘরে আটকিয়ে শিশুকে বেধড়ক মারধর ও গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করেন । জানা যায় ১৭ই জুলাই রোজ শনিবার বিকেল ৫ ঘটিকার সময় পাশ্ববর্তি বাড়ির সামনে সহপাটিদের নিয়ে খেলতে গেলে আয়শা দয়াল নামের এক গৃহবধু এই ঘটনাটি ঘটায়।  শিশুদের সাথে  খেলাকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন ৮নং দত্তপাড়া ইউনিয়নের দর্জিপাড়া খাঁন বাড়ীর সিএনজি চালক জনৈক পেয়ার হোসেনের স্ত্রী আয়শা দয়াল নামের এই গৃহবধু তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাস্তা থেকে টেনে হিচড়ে নিয়ে ঘরে দরজা আটকিয়ে ১১বছরের শিশু মোকাদ্দেসকে বেধড়ক মারধর ও গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করে। শিশুটির চিৎকার শুনে রাস্তা থাকা অন্য শিশুরা মোকাদ্দেস বিল্লাহর বাড়ীতে খবর দেয়। খবর শুনে শিশুটির বাবা ফিরোজ আলম  এসে স্থানীয় লোকজনের সহযোগীতায় শিশুটিকে উদ্ধার করে। এরপর স্থানীয় মেম্বারসহ উপস্থিত লোকদের দেখায়। এ সময় শিশুটির শরীরে হাতে মাথা, ঘাড় ও গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। গলায় নখের দাগ পড়ে। পরে শিশুটিকে সদর হাসপাতাল লক্ষ্মীপুরে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হয়। এসময় বাড়ীতে থাকা ঐ মহিলার শাশুড়ী তার জা ও বাড়ীতে থাকা অন্যান্য আত্মীয়রা প্রত্যক্ষ করলেও বিবাদের ভয়ে তারা কেউ এগিয়ে আসেনি।

স্থানীয়দের সুত্রে জানা যায় ১৭ ই জুলাই শনিবার। দত্তপাড়া বাজারে কোরবানী উপলক্ষে অনেক গরু উঠা শুরু করেছে। এ সময় আরমান (১০)  অপিল(০৯) রাইম (৮)  হৃদয় সহ আরো কয়েজন শিশু দর্জিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে খেলা ধুলা করলে  এসময় মোকাদ্দেস হৃদয়ের গরু সাজে। তারপর কোরবানীর গরু দেখতে তারা বাজারে যাওয়ার পথে হৃদয়ের বোন ফাতেমা (১৭) ও হৃদয় মিলে মোকাদ্দেসকে জোর করে রাস্তা থেকে টেনে হিচড়ে নিয়ে আসে এ সময় হৃদয়ের মা আয়শা দয়াল মোকাদ্দেসকে গলা টিপে ধরে ঘরে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে ফাতেমা ও আয়শা দয়াল মিলে মোটা কোদালের হাতল দিয়ে বেধড়ক এলোপাথাড়ি মারতে থাকে সাথে সাথে কিল-ঘুষি মারে। এক পর্যায়ে শ্বাসনালী চেপে ধরে কন্ঠরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় উপস্থিত অন্য শিশুরা মোকাদ্দেসের বাড়ীতে খবর দেয়। খবর পেলে তারা ছুটে আসে এবং মোকাদ্দেসের বাবা স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় মোকাদ্দেসকে উদ্দার কিরে লক্ষীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। স্থানীয়রা আরো বলেন আয়শা দয়াল নামের এই মহিলা অত্যন্ত খারাপ প্রকৃতির লোক। মহিলাটি অত্যন্ত অশালীন অসভ্য ও মারমুখি। এর আগেও তারা এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। অন্য একটি শিশুকে পিটিয়ে মাথা পাটিয়েছে। বিচার চাইতে গেলে আরো ধমক দেয় অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। হাসপাতাল সুত্রে জানা জানা যায় মোকাদ্দেসের বাম হাতে কন্ঠনালী, ঘাড়ে ও মাথেলায় গুরুতর গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এক্সরে রিপোর্ট বাম হাতের বাহুর একটিভাড়ে ভাংগার চিহ্ন পায়। বর্তমানে মোকাদ্দেস চিকিৎসাধীন আছে । এই ব্যাপারে জান্তে চাইলে চন্দ্রগঞ্জ থানারে ওসি ফজলুর রহমান জানান এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি অভিযোগ পেলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box