জনগণের দুঃখ, দুর্দশা লাঘবে কাজ করছে সরকার: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টারঃ পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক বলেছেন, ‘জনগণের দুঃখ, দুর্দশা লাঘব করতে সরকার সকল ধরনের কাজ করছে। ঝড়—জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূলীয় এলাকাকে নিরাপদ রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ অর্থনীতিতে স্বাবলম্বী হওয়ায় লক্ষ্মীপুরে ৩ হাজার ১ শ কোটি টাকা ব্যায়ে নদী তীর রক্ষা বাধ নির্মাণ কাজে বরাদ্ধ দেয়া সম্ভব হয়েছে। আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বে অর্থনৈতিক ভাবে ২৫তম দেশে অবস্থান করবে বাংলাদেশ।

আজ রবিবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের মাতাব্বর হাটে মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গন প্রতিরোধে ৩ হাজার ৮৯ কোটি ৯৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন বেড়ী বাঁধের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি নিজেও নদী ভাঙ্গন এলাকার মানুষ। নদী ভাঙ্গন মানুষের কষ্ট বুঝি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী নদী ভাঙ্গন কবলিত মানুষের পাশে থেকে কাজ করছি। মানুষ যখন ঘুমায়, তখন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রকৌশলীরা রাত জেগে জনগণের জন্য কাজ করছে। এ জন্য তাদের কাজে উৎসাহ দিতে হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে উন্নত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনাই পারে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গড়তে। মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে মেঘা এ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে একটি পর্যটন এলাকা হবে লক্ষ্মীপুরের দুই উপজেলা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, লক্ষ্মীপুর—৪ (রামগতি—কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিকল্প ধারার মহাসচিব মেজর (অব) আবদুল মান্নান, লক্ষ্মীপুর—২ আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক প্রকৌশলী ফজলুর রশিদ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পূর্ব রিজিয়ন) প্রকৌশলী অখিল কুমার বিশ্বাস, জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু, সহকারি পুলিশ সুপার মিমতানুর রহমান, কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আমিন মাষ্টার প্রমুখ।

জানা যায়, লক্ষ্মীপুরের রামগতি—কমলনগর উপজেলার মেঘনা নদীর “বড়খেরী, লুধুয়াবাজার এবং কাদিরপন্ডিতেরহাট বাজার’ তীররক্ষা প্রকল্প নামের ৩৩.২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রকল্পটি ২০২১ সালের ১ জুন তারিখে পাশ করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি—একনেক। এতে মোট ব্যয় ধরা হয় ৩ হাজার ৮৯ কোটি ৯৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। গত বছরের ১৭ আগস্ট ই—জিপি টেন্ডার পোর্টাল এবং ১৮ আগস্ট পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। টেন্ডার অনুসারে প্রায় শতাধিক লটের মাধ্যমে মোট ৩ হাজার ৪০০ মিটার কাজ হবে।

Facebook Comments Box