ছুটির দিনে বাড়তি বিক্রির আশা দোকানিদের

আলোকিত সকাল ডেস্ক

রোজা দশটি পার হলেও এখনো পুরোদমে জমে ওঠেনি ঈদের বাজার। বিক্রেতারা বলছেন রোজার দ্বিতীয় শুক্রবার থেকেই মূলত ঈদ বাজার জমজমাট হয়ে ওঠে। সেদিক বিবেচনায় আজ থেকে ঈদের ঠিক পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত বাজার থাকবে সরগরম এমনটাই আশা বিক্রেতাদের।

এবার রোজা শুরুর বেশ আগ থেকেই সারাদেশের উপর দিয়ে তীব্র দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে। এখনো তীব্র তাপমাত্রা বিরাজ করছে। ফলে ঈদ বাজারের উপরও এর স্পষ্ট প্রভাব প্রথম থেকেই লক্ষ্য করা গেছে। অধিকাংশ বিক্রেতাই জানিয়েছেন, অতিরিক্ত তাপমাত্রার একটি প্রভাব এবারের ঈদের বাজারের উপর পড়েছে। ফলে অন্যবারের তুলনায় বাজার জমতে একটু বেশি সময় লাগবে। তবে তাপমাত্রা না কমলেও আজকের (শুক্রবারের) পর থেকে বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি আর কম থাকবে না বলেই অভিমত বিক্রেতাদের।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদ বাজারের ক্রেতাদের মধ্যে দুটি গ্রম্নপ রয়েছে। এদের একটি অংশ রোজা শুরুর আগেই ঝুট-ঝামেলা ছাড়াই কিনতে পছন্দ করেন। এ কারণে রোজা শুরুর পূর্বের পনেরো দিন বাজারে ক্রেতার বাড়তি চাপ থাকে। তবে যারা বাজার জমার পর কিনতে আগ্রহী থাকেন, তারা মূলত দশ রোজার পর থেকেই কিনাকাটা শুরু করেন। এদিক দিয়েও আজকের পর থেকেই বিক্রেতাদের ঢল নামার আশায় আছেন বিক্রেতারা।

এবার চতুর্থ রোজার দিন প্রথম শুক্রবার ছিল। তবে রোজা একেবারে শুরুর দিক হওয়ায় এতদিন বাজার জমেনি। আজ এগারো রোজায় দ্বিতীয় শুক্রবার পড়ছে। রোজা এরই মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের গন্ডি পার করে দুই-তৃতীয়াংশে পড়েছে। ফলে এবার রোজার পর আজই জম্পেস বিক্রিবাট্টা হবে বলে মনে করছে বিপণি-বিতানগুলোর ব্যবসায়ীরা। এ লক্ষ্যে তারা বাড়তি প্রস্তুতিও নিয়েছে। বাড়তি সেলসম্যান রাখারও আয়োজন করেছে অনেক দোকান। আবার কিছু স্টলে পরিবারের সদস্যরা এ দিন বিক্রি বাট্টায় সহায়তা করবেন বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।

এবার রোজা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ঈদ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিউ মার্কেট থেকে বসুন্ধরা, যমুনা ফিউচার পার্ক থেকে গুলিস্তানের খুচরা মার্কেট কোথাও এখনো ঈদের বাজার জমে ওঠেনি। অধিকাংশ স্টলে গিয়েই দোকানিদের অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে। তবে পোশাক কালেকশনে পিছিয়ে নেই কেউ। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ মার্কেটে ব্যাপক ভিড় হবে। এবং আজকের পর থেকে ঈদের আগ পর্যন্ত পুরো সময়ই মার্কেট জমজমাট থাকবে।

নিউ মার্কেটের গুলশান শাড়ি কালেকশনের ম্যানেজার যুবায়ের বলেন, রোজা শুরুর আগের পনেরো দিন হঠাৎ করেই ক্রেতার সংখ্যা বেড়ে যায়। বিক্রিও হয়েছে ভালো। তবে রোজা শুরুর পর এখনো পর্যন্ত বাজার জমেনি। তবে আশা করছি শুক্রবারে ব্যাপক ক্রেতার ঢল নামবে মার্কেটে। এ লক্ষে বাড়তি প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছি। এছাড়া শুক্রবারের পর থেকে মার্কেট জমজমাট থাকবে। কারণ প্রথম দিকে অনেকেই কষ্ট করে আসতে চান না। আবার অনেকে রোজার আগেই কেনাকাটা শেষ করে ফেলেন। তবে যারা রোজার ভেতরে কেনাকাটায় আগ্রহী থাকেন তারা মূলত দশ রোজার পর থেকেই বাজারে আসতে শুরু করেন। সে হিসেবেও শুক্রবার এবং এর পরবর্তী দিনগুলোতে বিক্রি ভালো হবে বলে আশা করছি।’

রাজধানীর অন্যতম অভিজাত বিপণি-বিতান বসুন্ধরা সিটির নিচ তলার কিটস টয় স্টলের মালিক ইমদাদ হাসান বলেন, ‘কিভাবে জমবে ঈদের বাজার? যেভাবে টানা গরম পড়ছে তাতে মানুষের পক্ষে-তো মার্কেটে আসাটাই দায়। গরম না কমলে মানুষ আগ্রহ নিয়ে মার্কেটে আসতে পারছে না। তবে আশা করা যায় গরম কমলে মানুষের ঢল নামবে। কিন্তু পনেরো রোজার পর আর গরমেও কাজ হবে না। তখন গরম না কমলেও মানুষ আসবে। তবে এখন আশায় আছে গরম কমে যাবে। আমরাও সেভাবে প্রস্তুতি নিয়ে আছি। আশা করছি দুই একদিনের মধ্যেই ক্রেতাদের ঢল নামবে।’

বসুন্ধরা সিটির পাঁচ তলার বাচ্চাদের খেলাধুলার স্থানের পাশেই বসে ছিলেন সাগর দম্পতি। তারা জানালেন ভিন্ন কথা। সাগরের ভাষায়, গত তিন বছর ঈদের মার্কেট দেশে করা হয় না। এখন ভিসা অনেক সহজ। তাই প্রতি বছর ঈদেই বাইরে থেকে কেনাকাটা করেন তারা। বসুন্ধরা সিটিতে বাচ্চাকে নিয়ে ঘুরতে এসেছেন বলে জানালেন তারা। তবে দেশের চেয়ে দেশের বাইরে থেকে মার্কেট করার পেছনে বেশ কিছু কারণও জানালেন এ দম্পতি। তাদের ভাষায়, দেশে সব জিনিসের দাম বেশি। বিক্রেতাদের ব্যবহার নিয়েও আপত্তি রয়েছে তাদের। এছাড়া বিদেশ ভ্রমণের মানসিকতা থেকেও দেশের বাইরে মার্কেট করা হয় বলে জানান তারা।

তবে গাউসিয়া মার্কেটে আসা একজন ক্রেতা কাকলী আক্তার বলেন, তিনি এখনো পুরো মার্কেট শুরু করেননি। মূলত গরমের কারণে একটু দেরি করছেন। এছাড়া রোজা প্রথম দিক হওয়ায় আরও কিছুটা সময় নিতে চান তিনি। ঈদের বাজারের কালেকশন দেখতেই মূলত এদিন বাজারে এসেছেন কাকলী। পরে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে এনে এক সঙ্গে বাজার করবেন বলেও জানান এ ক্রেতা।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box