চট্টগ্রামে পাচঁলাইশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে চট্টশাহী ফুডস এর দই, মাঠা ও বোরহানী

মোঃ শাহজালাল রানা (বায়েজিদ প্রতিনিধি)

চট্টগ্রামে পাঁচলাইশে জাহেদা ভিলার মালিক রাশেদ নিচতলা বাড়িকে কারখানা বানিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করছে বিভিন্ন প্রকারের দই, মাঠা ও বোরহানী । এসবের আবার লেভেল ও আছে নাম চট্টশাহী!

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,নগরীর পাঁচলাইশে জাহেদা ভিলার মালিক রাশেদ বাড়ি নিচতলা কারখানা বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চট্টশাহী দই, চট্টশাহী মাঠা, চট্টশাহী বোরহানী তৈরি করে আসছে মেসার্স চট্টশাহী ফুডস । সরকারের অনুমোদন ছাড়াই বাড়িতে গোপনে গড়ে তোলা হয়েছে চট্টশাহী দই, চট্টশাহী মাঠা, চট্টশাহী বোরহানীর কারখানা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অনুমোদনহীন এই কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা খালি গায়ে, অপরিস্কার ও স্যাঁতসেতে দুর্গন্ধময় স্থানে বাড়িতে তৈরী করছে দই ,মাঠা এবং বোরহানী।বৃহস্পতিবার ১৬ মে সকালে চট্টগ্রামে পাঁচলাইশের জাহেদা ভিলায় কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, দুইজন শ্রমিকসহ মেসার্স চট্টশাহী ফুডসের পার্টনার আরিফ (২৬) ভেতরে ঘুমিয়ে আছে। মেসার্স চট্টশাহী ফুডসের পার্টনার আরিফ দৈনিক আলোকিত সকালকে বলেন, মেসার্স চট্টশাহী ফুডসে পার্টনার আমরা তিনজন- জাহেদা ভিলার মালিক (১) রাশেদ (২) আরিফ (৩) ফয়সাল এবং আমাদের কারখানা হল হামজারবাগ জুগিপাড়া।

আরিফ আরো বলেন, মেসার্স চট্টশাহী ফুডস মালিক রাশেদ জাহেদা ভিলার মালিক। চট্টশাহী দই, চট্টশাহী মাঠা, চট্টশাহী বোরহানী তৈরী হয় আড়ং দুধ দিয়ে ।আসলে ভিতরে গিয়ে দেখা যায় মেসার্স চট্টশাহী ফুডস কারখানা ওখানেই এবং দই তৈরীর জন্য বহু আগে প্রস্তুতকৃত দুধের পসরা দুর্গন্ধের দখলে। এর পাশে খোলা ঘরে তৈরী করা কাঠের হিটারে দই এবং পুরোন বোতলের বস্তা এবং ফ্রিজ রাখা বাশি দুগন্ধযুক্ত দই ও মাঠা।গন্ধযুক্ত ড্রামে মজুদ করা ছানা ও দুধে মাছির ভনভনানি, সেইসাথে সেখানে অসংখ্য মশা-মাছি মরে পড়ে রয়েছে।

কারখানায় কর্মরত শ্রমিক-কারীগরদের নেই কোন এ্যাপ্রোন, হাতে নেই হ্যান্ডগ্লোবস, মাস্ক ও হেডক্যাপ। মেসার্স চট্টশাহী ফুডসের কারখানা দুইজন শ্রমিক পাওয়া যায়, তারা হল রাসেল (১৬) ও রাশেদ (২৮) । রাসেল দৈনিক আলোকিত সকালকে বলেন, আমরা রাতের বেলা এই কারখানায় কাজ করি দিনের বেলা কারখানায় ঘুমাই ।

বিএসটিআই এর অনুমোদন আছে কিনা জানতে চাইলে মেসার্স চট্টশাহী ফুডসের পার্টনার আরিফ বলেন, বিএসটিআই অনুমোদন নাই।মেসার্স চট্টশাহী ফুডসের ও জাহেদা ভিলার মালিক রাশেদ, ফয়সালকে কারখানা পাওয়া যায়নি ।

নোংরা পরিবেশে এসব মিষ্টি জাতীয় খাবার তৈরি হলেও স্থানীয় প্রশাসনের নেই কোন নজরদারী।তাই এ কারখানার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box