ঘুরেফিরে রোনালদো!

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ম্যানচেস্টার বেশ আধুনিক শহর। লন্ডনে যদি ঐতিহ্যের ছোঁয়া থাকে তো ম্যানচেস্টারে রয়েছে আধুনিকতার স্পর্শ। চকচকে ও বেশ মসৃণ গতিতে চলে এখানকার জীবনযাত্রা। এখানকার ক্লাবপাড়ার গর্ব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ম্যানচেস্টার সিটি। এ বিশ্বখ্যাত শহরে নাম করা দুটি ক্লাব। যেদিন ডার্বি হয়, দুভাগে বিভক্ত হয়ে যায় শহর। একই শহরের মানুষের এমন বিদ্বেষ বিশ্বের আর একটি শহরে রয়েছে, সেটা মিলান। একটি শহর, দুটি রঙের জয়গান চলে সারারাত। এমন ঐতিহ্যবাহী ক্লাব সিটি ও ইউনাইটেড। এত এত অর্জন, তার পরও ইউনাইটেডের সমর্থকরা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ভুলতে পারেন না। এলিস ইউনাইটেডের পারিবারিক সূত্রে পাওয়া সমর্থক। তিনি বলেছেন, ‘আমি চাই রোনালদো আবার ফিরে আসুক। এখানকার মানুষ ওকে ভালোবাসে। আমরা জানি ও ভালো আছে। তুমি আবারও বাড়ি ফিরে এসো রোনালদো! এটা তোমারই শহর, তোমারই সব!’

২০০৩ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দিয়েছিলেন রোনালদো। এই ক্লাবে তিনি চ্যাম্পিয়নস লিগ ও প্রিমিয়ার লিগও জিতেছেন। ২০০৯ সালে তিনি রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন। স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন রতœ পেয়েছিলেন ইউনাইটেডে। স্কটিশ এই মানুষ রোনালদোকে নিজ হাতে তৈরি করেছেন। মাথা নিচু করে শিখতেন সিআরসেভেন। কোনো এক সাক্ষাৎকারে রোনালদো বলেছিলেন, ‘ফার্গুসন আমার ফুটবলের পিতা!’

রোনালদো ফুটবলে গতির ঝড়। ইউনাইটেডের সমর্থকরা তাকে ভালোবাসতে শুরু করেন। দুহাত ভরে দিয়েছেন রোনালদো। এ জন্য এখনো সবাই তাকে ভুলতে পারেন না। অন্য ক্লাবের হয়ে ইউনাইটেডে যতবার এসেছেন, ততবার উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন। ইউনাইটেডের বিপক্ষে যত গোল করেছেন, কখনো সেলিব্রেশন করেননি। আরও ক্ষমা চেয়েছেন। পুরো ওল্ড ট্র্যাফোর্ড দাঁড়িয়ে করতালি দিয়েছে। রোনালদো তো ঘরের ছেলে! আরেক ক্লাবে খেলে, এই যা!

ম্যানচেস্টারের সংবাদপত্রে গুঞ্জন রয়েছে- জুভেন্টাসে আর এক মৌসুম থেকেই পর্তুগিজ এই সুপারস্টার ফিরে আসবেন ‘ঘরে’। ‘ইউ আর কামিং হোম’ গানটি আরও জনপ্রিয় রোনালদোর জন্য। এলিস বলছিলেন, ‘আমরা চাই ও (রোনালদো) এখানে অবসর নিক। যতদিন ফুটবল খেলবে আমাদের সাথে থাকবে ওর পরিবারও। আমরা রোনালদোকে ভালোবাসি।’

১৮ বছর বয়সে অভিষেক হয়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে। বিশ্ব ফুটবলে বসন্ত এসেছিল। মেসির সাথে দ্বৈরত শুরু হয়। সেই লড়াই এখনো চলছে। ইউনাইটেডের মানুষের কাছে, রোনালদো ভালোবাসার কেউ। ট্রফি লাগবে না। রোনালদো শুধু ফিরে আসুক।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box