কোটা সংস্কারের লক্ষ্য রাজনৈতিক দল

আলোকিত সকাল ডেস্ক

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় নতুন রাজনৈতিক শক্তি হওয়ার পথে এগুচ্ছে কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে পরিচিতি পাওয়া সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। এ লক্ষ্যে ‘আঁটঘাট’ বেঁধেই নামছেন তারা। প্রথমে ছাত্র সংগঠন পরে রাজনৈতিক দল হিসাবে আত্মপ্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এ পরিকল্পনা জানা যায়।

ডাকসু নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগকে হারিয়ে ভিপিসহ দুই পদে বিজয়ী হওয়ার পরই মূলত রাজনৈতিক দল গঠনের স্বপ্ন দেখছে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। তবে আপাতত নতুন নামে ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমে ঘর গোছানোর পরিকল্পনায় এগুচ্ছেন তারা। সারা দেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিজেদের সংগঠন ছড়িয়ে মধ্য দিয়ে শক্তি সঞ্চয় করতে চায় সংগঠনটি। ডাকসুর মতো অন্যান্য ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে তারা। এভাবে শক্তি সঞ্চয় করে ভোটের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে চায় সংগঠনটি।

দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধীদের নড়বড়ে অবস্থান পষ্ট। সংসদ কিংবা রাজপথ, সবখানেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র আধিপত্য। টানা তৃতীয় মেয়াদে দেশ পরিচালনা করছে দলটি। সবশেষ দেশের সেকেন্ড পার্লামেন্টখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসু নির্বাচনে বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের অবস্থান তলানিতে। কেন্দ্রীয় সংসদের প্রতিটি পদে প্রার্থীদের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেও আসতে পারেনি একসময়ের ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণকারী ছাত্রদল। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্যানেল এবং স্বতন্ত্র প্যানেলের প্রার্থীদের অবস্থান ছিল দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এ নড়বড়ে পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চায় সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের প্রাথমিক লক্ষ্য সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ নাম পরিবর্তন করে সহজবোধ্য ও ছোট কোনো সংগঠনের নামে আত্মপ্রকাশ করা। এ প্রসঙ্গে পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর খোলা কাগজকে বলেন, ‘সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ মূলত কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল। এখন আমরা শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কাজ করতে চাই। একই সঙ্গে সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতির বিরুদ্ধে কথা বলতে চাই। নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। এজন্য আমরা নতুন নামে ছাত্র সংগঠন শুরু করতে চাচ্ছি।’

চাকরিতে কোটা সংস্কারের আন্দোলন সফল হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। এর সূত্র ধরেই ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে হারিয়ে দীর্ঘ ২৮ বছর পর হওয়া ডাকসু নির্বাচনে ভিপি পদে বিজয়ী হন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্যানেলের নুরুল হক নুর। এ ছাড়াও সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে জয় ছিনিয়ে আনেন নুরুর প্যানেলের আখতার হোসেন। ২৫ পদের বাকি পদগুলোতেও ছাত্রদল, বামজোটকে পেছনে ফেলে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চলে আসে সংগঠনটি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এ সফলতাকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক শক্তি হওয়ার প্রচেষ্টা শুরু করেছে সংগঠনের নেতারা। গত রোজায় ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের আমন্ত্রণে ইফতারে অংশগ্রহণ তারই প্রমাণ। বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্র সংগঠনের মধ্য দিয়ে সারা দেশে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করতে চায় সংগঠনটি। এর পরেই কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া মামুন-নুরু-রাশেদদের হাত ধরেই রাজনৈতিক দল গঠন করবে তারা। বিএনপি-আওয়ামী লীগের বাইরে শক্তিশালী নতুন প্ল্যাটফর্ম গড়ার লক্ষ্য তাদের।

এ প্রসঙ্গে কথা হয় সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের এক যুগ্ম আহ্বায়কের সঙ্গে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি খোলা কাগজকে বলেন, ‘দেশে তো এখন কার্যত বিরোধী দল নেই। বিএনপি মুসলিম লীগ হওয়ার দশায়। জাতীয় পার্টির তো সংসদের বাইরে কোনো অবস্থান নেই। জাতীয় রাজনীনিতে শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এখন নতুন জেনারেশন আমাদের ওপর আস্থা রাখছে, আমরা এ আস্থাকে কাজে লাগাতে চাই। আপাতত নতুন নামে ছাত্র সংগঠন করে সারা দেশে একটা নেটওয়ার্ক গড়তে চাই। যাতে রাজনৈতিক দল গঠন করতে খুব বেশি কাঠখড় না পুড়াতে হয়।’

দীর্ঘমেয়াদে এমন পরিকল্পনায় এগোলেও এখনই প্রকাশ্যে রাজনৈতিক দল গঠন নিয়ে ভাবছেন বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। এ প্রসঙ্গে নুরুল হক নুর বলেন, ‘রাজনৈতিক দল গঠন নিয়ে এখনই ভাবছি না। সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ একটি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। আপাতত আমরা নতুন নামে ছাত্র সংগঠন করতে চাই। যাতে কোনো রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তির বাইরে যেয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কাজ করতে পারি। সারা দেশে আমাদের সংগঠনকে ছড়িয়ে দিতে চাই। এরপর আমাদের সহযোদ্ধারা যদি মনে করেন নতুন কোনো রাজনৈতিক দল গঠন করা দরকার, তখন আমরা চিন্তা করব এ বিষয়ে।’

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box