কেনাকাটার ধুম লেগেছে

আলোকিত সকাল ডেস্ক

পবিত্র রমজান মাসের শুরু থেকে বাজারে বাড়তি বেচাকেনা শুরু হলেও ১০ রোজায় এসে ঈদের কেনাকেটায় লেগেছে ধুম।

শুক্রবার (১৭ মে) সকাল থেকে শপিংমলগুলোতে দেখা দেয় উপচেপড়া ভিড়। কেনাকাটার ধুমে এক পর্যায়ে মার্কেটগুলোতে পা ফেলাও দায় হয়ে দাঁড়ায়। কাটফাটা রোদ উপেক্ষা মূলত চাকরিজীবী মানুষ শপিংমলগুলোতে ভিড় করেন।বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে তারা পছন্দসই পোশাকসহ ঈদের কেনাকাটা শুরু করেন।

রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি, নিউমার্কেট, চাঁদনী চক, গাউছিয়া, নূরজাহান সুপার মার্কেট, ধানমণ্ডি হকার্স মার্কেট, আজিজ সুপার মার্কেটে সারাদিনই ছিল জমজমাট কেনাকাটা। নিউমার্কেট গিয়ে দেখা যায় ক্রেতাদের ঢল। ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখা যায়, দোকানগুলোতে চলছে কেনাকাটা। অফিসের ফাঁকে ছুটির দিনে সপরিবারে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা ব্যাংকার সেলিম হোসেন দৈনিক জাগরণকে বলেন, অফিসিয়াল কাজের চাপে অন্যদিন আসার সুযোগ থাকে না। অন্যদিকে সন্তানের কোচিং। তাই ছুটির দিনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে শপিংয়ে চলে এলাম। সামনে হয়তো ভিড় আরো বাড়বে। তাই ঈদের কেনাকাটাটা একটু আগে-ভাগেই শেষ করতে চাই।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই বিকেলের সম্ভাব্য ভিড় এড়াতে সকাল-সকাল কেনাকাটা করতে মার্কেটে আসছেন। কিন্তু ভিড় বেড়ে সকালের দিকেও ক্রেতাদের একই বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। নির্দিষ্ট উৎসব ছাড়াও নিউমার্কেট এলাকার দোকানগুলোতে সবশ্রেণির ক্রেতাদের ভিড় সারা বছরই লেগে থাকে। সাধ্যের মধ্যে সব ধরনের পণ্য এখানে সহজেই পাওয়া যায়।

রমজানে মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের বাড়তি উপস্থিতি দেখে বিক্রেতাদের মুখে হাসি ফুটে উঠে। নিউমার্কেট, গাউছিয়া ও চাঁদনী চকে মেয়েদের থ্রি-পিস, শাড়ি, থান কাপড়ের দোকান, শিশুদের বাহারি রঙ ও ডিজাইনের পোশাক, জুয়েলারি, ব্যাগ, স্যান্ডেল, জুতাসহ প্রায় সকল পণ্যই মেলে। দোকানিরা বলছেন, ছুটির দিন শুক্রবার থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদের বেচাকেনা শুরু হয়েছে। ১৫ রোজার পর থেকে এই ভিড় আরও বাড়বে।

ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ সামনে রেখে বৈচিত্র্যময় পণ্যে দোকান সাজানোর প্রস্তুতি শবে বরাতের আগেই শেষ করেছেন তারা। শবেবরাতের আগে থেকেই দোকান মালিকরা মালামাল আনতে শুরু করেন আর প্রথম রোজার আগেই তাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়।

রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স ও নিউমার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি দোকানই ঈদকে কেন্দ্র করে তাদের প্রস্তুতি শেষ করেছে। দোকানে দোকানে শোভা পাচ্ছে বাহারি রঙের-ঢঙের পণ্য। ঈদের ব্যবসা শুরু হয়েছে কি-না জানতে চাইলে চাঁদনী চকের নন্দিতা জুয়েলার্সের বিক্রয় কর্মী বলরাম কুণ্ডু বলেন, ঈদের বেচাকেনা এহন শুরু না অইলে কহন অইব!

ফুটপাতের জুতা বিক্রেতা আলমগীর জানান, ঈদকে সামনে রেখে তাদের বেচাবিক্রি শুরু হয়ে গেছে। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় মানুষের ভিড় একটু বেশি। তবে গত বৃহস্পতিবারও ভিড় ছিল, সেটা শুক্রবারের তুলনায় একটু কম। বাড্ডা থেকে নিউ মার্কেট এলাকায় পরিবার নিয়ে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন হুমায়ূন কবীর, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। কবীর বলেন, ঈদের আগ মুহূর্তে কেনাকাটা করা ঝামেলার। তাই এখনই কেনাকাটা করতে এসেছি।

নূর ম্যানশনের জান্নাত মার্ক নামের দোকানে সারি সারি গারারা নামের পোশাক চোখে দেখা যায়। দোকানের বিক্রয়কর্মী মো. সাব্বির বলেন, এক মাস আগেই ঈদের পোশাকগুলো তারা দোকানে তুলেছেন। পোশাকগুলো মূলত আসে ভারত থেকে। দাম পড়বে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত।

বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, সকালেই ক্রেতাদের সরব উপস্থিতি। দোকানিদের দাবি, শুক্রবার ক্রেতার উপস্থিতি একটু বাড়তিই থাকে। সেই সঙ্গে সামনের ঈদ বাড়তি মাত্রা যোগ করলেও বেচাবিক্রি প্রত্যাশিত না। ব্যবসায়ী মো. মনির হোসেনের দাবি, ঈদের কেনাকাটা এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি। অন্যবার যাও কম-বেশি বেচাকেনা হয়, এবার সেটাও হচ্ছে না। গরম বেশি থাকার কারণেও সেটা হতে পারে। আশা করছি, সামনের দিনগুলোতে ঈদের বেচাকেনা জমবে।

ওয়েস্টিনের ম্যানেজার মো. মামুন বলেন, এই মার্কেটে কেনাবেচায় ঈদের প্রভাব তেমনভাবে এখনও পড়েনি। আগামী সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পুরোদমে ঈদের কেনাকাটা শুরু হবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box