কুষ্টিয়ায় হাতুড়ি ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় চোখ হারানোর পথে যুবক

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার কয়া ইউনিয়নে হাতুড়ি ডাক্তার তুহিন এর ভুল চিকিৎসায় চোখ হারানোর পথে যুবক। জানা যায় গত ১৭ তারিখ সোমবার কয়া বাজার মধ্য পাড়ার বাবু ব্যাপারী ছেলে নাঈম (১৮) কুষ্টিয়ার একটি লেদের দোকানে কাজ করার সময় ডান চোখে হালকা সমস্যা অনুভব করে।

পরের দিন সকালে কয়া বাজারের হাতুড়ি ডাক্তার তুহিন এর সাথে পরামর্শ করতে গেলে তিনি ১ টি অপডেক্স নামে চোখের ড্রফ ও কিছু এন্টিবায়োটিক ওষুধ দেয় এবং তা নিয়ম করে সেবন করতে বলে। পরবর্তীতে নাঈম অপডেক্স ড্রফ চোখে দিলে অস্বাভাবিক হারে যন্ত্রণা করতে থাকে এক পর্যায়ে নাঈম কুষ্টিয়ার রোটারি চক্ষু হাসপাতালের ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন, সেখানকার কর্তব্যরত ডাক্তার জরুরী ভিত্তিতে উন্নত মানের চিকিৎসার জন্য ঢাকাতে ডক্টর দেখানোর পরামর্শ দেন এবং বলেন যে ওষুধ ও ড্রফ চোখে ব্যবহার করা হয়েছে সেটা ভুল হয়েছে, চোখের অবস্থা ভালো নয়।

তাৎক্ষণিকভাবে নাঈম ও তার বাবাসহ ঢাকা ইসলামী হাসপাতাল গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার বলেন, চোখে যে ড্রপ ব্যবহার করা হয়েছে সেটা অত্যন্ত ক্ষতিকর, যদি আর কয়েক বার ব্যবহার করা হতো তাহলে একেবারেই অন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও ছিলো।

পরবর্তীতে ডাক্তার চোখ অপারেশন করার পরামর্শ দেন, এবং বলেন চোখ অপারেশন করার পর রুগী সম্পূর্ণ চোখে নাও দেখতে পারে বা চিরতরে অন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে জানান কর্তব্যরত চিকিৎসক।

এ বিষয়ে নাইম এর বাবা বাবু ব্যাপারী বলেন, হাতুড়ি ডাক্তার তুহিন আমার ছেলেকে ভুল চিকিৎসা দিয়ে অন্ধ করে দিয়েছে। আমি এর বিচার চাই। এ ছাড়াও তিনি আরো বলেন, এই ভুয়া ডাক্তার যেন আর কারোও ক্ষতি করতে না পারে সেই জন্য প্রশাসনের নিকট ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানায়। খোজ নিয়ে জানাযায় তুহিন একসম কুষ্টিয়ার আমিন ডায়াগনস্টিক এ প্যাথলজি বিভাগে চাকুরি করতো।

তবে গ্রামে সহজ সরল মানুষের মাঝে ডাক্তার আর ওষুধ এর ব্যাবসা করলে ভালো লাভ হবে বলে সে পল্লি চিকিৎসক এর সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে কয়া বাজারে তুহিন মেডিকেল হল নামে এটি ফার্মেসি দিয়ে রমরমা ওষুধের ব্যবসা করে আসছেন। এ বিষয়ে গ্রাম্য ডাক্তার তুহিনের যোগাযোগ করা হলে, তিনি জানান, এইরকম কোন ঘটনা ঘটেনি। আমি কোন ঔষধ দিই নাই, আমার বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ করছে তারা মিথ্যা অভিযোগ করছে।

বিশ্বস্তসূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি চাপা দিতে এবং স্থানীয়ভাবে মিটমাট করার জন্য এলাকার ক্ষমতাসীনরা ভুক্তভোগী নাঈমের পরিবারকে চাপ দিয়ে আসছে। (গ্রাম্য ডাক্তার তুহিনের সম্পর্কে বিস্তারিত দেখুন আগামী সংখ্যায়)

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box