কমিটি বাতিলের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম পদবঞ্চিতদের

আলোকিত সকাল ডেস্ক

আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ছাত্রলীগের ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি বাতিল করা না হলে অনশনে বসার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পদবঞ্চিতরা। মঙ্গলবার (১৪ মে) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ হুঁশিয়ারি দেন তারা। এ সময় ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশেই মধুর ক্যান্টিনে নেত্রীদের উপর হামলা হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ছাত্রলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু বলেন, ‘২৯তম জাতীয় সম্মেলনের দীর্ঘ এক বছর পর ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়েছে, যাতে পদ দেওয়া হয়েছে ৩০১ জনকে। নিবেদিত প্রত্যেকটি ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীর আজ আনন্দিত হওয়ার কথা ছিল, উল্লাস করার কথা ছিল। সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে বুকে জড়িয়ে নিয়ে আনন্দ করার কথা ছিল। কিন্তু তা না করে উল্টো ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে সংবাদ সম্মেলন করতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি বিগত সময়গুলোতে যারা সক্রিয়ভাবে ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের একটি বৃহৎ অংশকে বাদ কিংবা সঠিক পদে মূল্যায়ন না করে ছাত্রলীগে নিষ্ক্রিয়, সাবেক চাকরীজীবী, বিবাহিত, অছাত্র, গঠনতন্ত্রের অধিক বয়স্ক, বিভিন্ন মামলার আসামি, মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপকর্মের দায়ে ছাত্রলীগ থেকে বহিস্কৃতসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পদায়ন করা হয়েছে। এমন ব্যক্তিদের পদায়ন ছাত্রলীগের একজন নিবেদিত প্রাণকর্মী হিসেবে আমাদের লজ্জিত করেছে।’

সাইফ বাবু বলেন, ‘কমিটি প্রকাশ হওয়ার পরপরই ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত বিক্ষুব্ধ কর্মীরা কমিটির প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক একটি বিক্ষোভ মিছিল করেছিল। কিন্তু সেই বিক্ষোভ মিছিলে হামলা করে নারী নেতৃবৃন্দসহ বেশ কয়েকজনকে আহত করা হয়েছে। হামলার প্রতিবাদে যখন মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল সেখানেও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে মারাত্মকভাবে জখম করা হয়েছে। আর এই হামলাটি চালিয়েছে কমিটিতে জায়গা করে নেওয়া কিছু গর্বিত ভাই-বন্ধুরা।’

এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, অধিকাংশ ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীকে বাদ দিয়ে যে কমিটি করা হয়েছে তা ভেঙে দিতে হবে।

এছাড়া অধিক তদন্তের মাধ্যমে একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও অর্থবহ কমিটি করার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি যারা বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলনে হামলা চালিয়ে নেতাকর্মীদের রক্তাক্ত করেছে তাদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘বিচারের আশ্বাস নয় আমরা চাই প্রকৃত অপরাধীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের কৃতকর্মের সাজা পাক।’

নব্য কমিটিতে উপ-সাংস্কৃতিক পদপ্রাপ্ত বিএম লিপি আক্তার বলেন, ‘আমি রোকেয়া হলের সভাপতি ও ডাকসুর কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় আমাকে ছাত্রলীগের উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদ দেওয়া হয়েছে। কোন ক্রাইটেরিয়ার ভিত্তিতে আমাকে ছাত্রলীগের উপ-সম্পাদক পদ দেওয়া হয়েছে তা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদককে জিজ্ঞেস করেছি।

এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘কমিটিতে যারা স্থান পেয়েছে তারা শোভন-রাব্বানী কমিটির ৮-১০ মাস রাজনীতি করেছে, তাদের পেছনে-পেছনে ঘুরেছে। তাদের ‘মেকানিজম’ এ যারা তাদেরকেই কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। আগের দুই কমিটির ত্যাগী কাউকে রাখা হয়নি।’ লিপি আক্তার বলেন, ‘যারা মধুর ক্যান্টিনে মারধর করেছে তাদেরকেই তদন্ত কমিটির সদস্য করা হয়েছে। এই তদন্ত কমিটি আমরা মানি না। ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সরাসরি নির্দেশেই হামলা চালানো হয়েছে।’

এ সময় ৪৮ ঘন্টার মধ্যে কমিটি বাতিল করা না হলে সবাই মিলে অনশন করার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এছাড়া একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিলে তদন্ত কমিটি মানবেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সিনিয়র কোন নেতা বললেও তা তারা মানবেন না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন ডাকসুর সদস্য তানভীর হাসান সৈকত, ফরিদা পারভীন, কবি জসিম উদ্দিন হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহেদ খান প্রমুখ।

এর আগে পদবঞ্চিত ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শেষ। এ সময় কমিটি ‘মানি না’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন তারা।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box