আনন্দ নিয়ে ঘুরেছেন দর্শনার্থীরা

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ঈদের ছুটির শেষ দিন শনিবারও রাজধানীবাসী ভিড় জমায় ঢাকার বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে। রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকায় ও বৃষ্টি না হওয়ায় অনেকেই এদিন মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেনে ঘুরতে যান।

চিড়িয়াখানায় ঢোকার মুখেই প্রচন্ড ভিড় দেখা যায়। গেটের সামনেই নানা বয়সী মানুষ ও গাড়ির দীর্ঘ সারি। এর ফলে চিড়িয়াখানায় ঢুকতে কিছুটা বেগ পেতে হয় অনেককেই।

চিড়িয়াখানার ভেতরেও দেখা যায় দর্শনার্থীদের ভিড়। তবে ভিড় থাকলেও লোকজন বেশ আনন্দ নিয়েই ঘুরে দেখেছেন এক প্রাণীর খাঁচা থেকে আরেক প্রাণীর খাঁচা।

সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যায় বানরের খাঁচার সামনে। মূলত শিশু-কিশোররাই ভিড় জমায় এখানে। তারা নানাভাবে বানরদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালায়। কেউ কেউ খাঁচার ভেতরে হাত ঢুকিয়ে বানরদের খাবার দিতেও চেষ্টা করে। এত মানুষকে একসঙ্গে দেখে খাঁচার ভেতরে গোটা দশেক বানর প্রথমে ভড়কে গেলেও পরে লাফালাফি করে আনন্দ দিয়েছে দর্শনার্থীদের।

পাশেই বক ও সমগোত্রীয় পাখিদের খাঁচার সামনেও দেখা যায় একই চিত্র। মানুষের উৎসাহ বানর ও বকদের নাড়া দিয়ে গেলেও খুব একটা সাড়া মেলেনি বাঘ ও সিংহের তরফ থেকে। দর্শনার্থীরা নানাভাবে চেষ্টা করেও খাঁচার মধ্যে ঘুমিয়ে থাকা বাঘ ও সিংহকে জাগাতে পারেননি। এতে মন ভেঙে যায় চিড়িয়াখানায় আসা অনেক শিশু ও কিশোরের। কিছুতেই বাঘমামার ঘুম না ভাঙায় কেঁদে ফেলে মায়ের সঙ্গে ঘুরতে আসা নয় বছরের জারিন আফরোজ। তার অভিযোগ সিসিমপুরের বাঘ ‘হালুম’ তার সাথে কথা বললেও সত্যিকারের বাঘ কেন কথা বলল না। জারিনের মা জানান, মেয়েকে বাঘ দেখানোর জন্যই চিড়িয়াখানায় নিয়ে এসেছেন। এখন বাঘ ঘুমিয়ে থাকায় মেয়ে তাকে বলেছে, সে আর কখনও ‘হালুম’-এর সঙ্গেও কথা বলবে না।

বাঘের আচরণে অভিমান জমলেও চিড়িয়াখানার অন্যান্য অংশের পরিবেশ ও সৌন্দর্য নিয়ে সন্তুষ্ট জারিন।

অন্যদিকে, ময়ূরের খাঁচার সামনে চোখে পড়ে মুগ্ধ দৃষ্টির শিশুদের। আকাশ কিছুটা মেঘলা থাকায় অনেক ময়ূরকেই পেখম মেলতে দেখা যায়। পাশেই ময়না, নীল ঘুঘু ও কালো ভালুক দেখেও মুগ্ধ হয়েছে নানা বয়সী মানুষ।

ভিড় ছিল হরিণের খাঁচার সামনেও। তবে গাধার জন্য রাখা তিনটি খাঁচার সামনে মানুষের ভিড় ছিল কম। অনেক দর্শনার্থী অভিযোগ করেন, অন্যান্য প্রাণী কম থাকার কারণেই তিনটি খাঁচায় গাধা রাখা হয়েছে। এমনকি একটি খাঁচায় দেখা যায় ঝুঁটিওয়ালা কবুতর।

পুরান ঢাকা থেকে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে আসা রিফাত চৌধুরী বলেন, ‘কবুতর আর গাধা দেখার জন্য তো চিড়িয়াখানায় আসিনি।’ তিনি বলেন, অনেক আগে যখন একবার এসেছিলেন, তখনকার তুলনায় এখন অর্ধেক প্রাণী আছে। তবে, চিড়িয়াখানায় প্রাণী কম থাকলেও ঈদের ছুটিতে এখানে বেশ ভালো লাগছে তার, বলে জানান তিনি।

শুধু পশু-পাখি দেখার জন্যই চিড়িয়াখানায় আসেননি অনেক দর্শনার্থী। পরিবারের সাথে প্রাকৃতিক পরিবেশে দারুণ কিছু সময় কাটাতেও এসেছেন অনেকে।

অনেককেই দেখা যায় চিড়িয়াখানার ভেতরে লেকের পাড়ে তাঁবু টাঙিয়ে বড়শি দিয়ে মাছ ধরছেন। সেই মাছ দিয়েই হচ্ছে বনভোজন। কথা হলো এমনই এক পরিবারের সাথে। বনশ্রী থেকে এসেছেন আমজাদ আহমেদ ও তার পরিবার।

তার বনভোজনের উদ্দেশ্যেই এখানে এসেছেন। সকাল থেকে বড়শি পেতে মাছ ধরেছেন। তারপর এখান থেকেই জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করে সেই মাছ পুড়িয়ে খেয়েছেন। সঙ্গে ছিল বাড়ি থেকে আনা বিভিন্ন রকম শুকনো খাবার।

চিড়িয়াখানার দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের প্রথম দুই দিনের তুলনায় শুক্রবার ভিড় ছিল সবচেয়ে বেশি। এদিন দেড় লাখেরও বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে বলে জানান তারা। তবে আবহাওয়া ভালো থাকায় শনিবারও প্রচুর দর্শনার্থী এসেছেন চিড়িয়াখানায়।

চিড়িয়াখানার পাশাপাশি ভিড় দেখা যায় ঠিক পাশে অবস্থিত বোটানিক্যাল গার্ডেনেও। বিশাল এলাকাজুড়ে নানান প্রজাতির গাছ-গাছালি আর টলটলে জলের দীঘি দেখে চোখ জুড়িয়েছেন নগরবাসী। বিশাল এই এলাকা ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হতেও দেখা যায় অনেককে। তবে ঘোরাঘুরিতে ক্লান্তি এলেও গাছাপালার মধ্যে ঘুরে মানসিক শান্তি পেয়েছেন অনেকেই।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box