আজ অভিষেকও হচ্ছে আবু জায়েদের!

আলোকিত সকাল ডেস্ক

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি যদি মন থেকে বলে থাকেন, তবে ধরে নিতে হবে বিশ্বকাপ স্কোয়াডের ১৩ সদস্যই শুধু টিম ম্যানেজমেন্টের গভীর পর্যবেক্ষণ এবং পরিকল্পনায় আছেন। পনেরোজনের বাকি দুজন ‘দুধ-ভাত’! পেশাদার দলে অবশ্য এমন বিলাসিতার সুযোগ নেই, যেকোনো সময় যে কাউকে দরকার হতে পারে বলেই এগারোজনের খেলা ক্রিকেটে ১৫ আর ফুটবলে ২৩ জনের দল হয়। যাক, অপেশাদারিত্বের পরিচয় তো বাংলাদেশ বিশ্বকাপ দল গঠন এবং এ সফরের শুরু থেকেই দিয়ে আসছে। স্কোয়াডের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও আবু জায়েদ রাহির দিকে ঘুরেও তাকাচ্ছিল না টিম ম্যানেজমেন্ট। সে পরিস্থিতি অবশেষে বদলেছে। এতটাই বদলেছে যে, আজ ওয়ানডে অভিষেকই হয়ে যেতে পারে আবু জায়েদের!

গত পরশু নেটে বোলিংয়ের সুযোগ পাওয়া আবু জায়েদকে গতকাল গভীর পর্যবেক্ষণ করেছেন কোচ স্টিভ রোডস ও কোর্টনি ওয়ালশ, পেছনে স্পিন বোলিং কোচ সুনীল যোশীও ছিলেন। ম্যাচের আগে সব শেষ অনুশীলনে সাধারণত সম্ভাব্য একাদশের ক্রিকেটারদের নিয়েই এতটা ব্যতিব্যস্ত দেখা যায় কোচদের। তো, আবু জায়েদের অভিষেকের সম্ভাবনা আরো উজ্জ্বল দেখাচ্ছিল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার কর্মকাণ্ডেও। মাঝেমধ্যে যে তিনিও কথা বলছিলেন ডানহাতি এ পেসারের সঙ্গে। তাতে আজ ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অভিষেক হতে পারে জায়েদের।

ম্যাচের আগে একাদশ প্রকাশ্যে জানানোর রীতি নেই বাংলাদেশে। টসের পর সরকারিভাবে পাঠানো দুই দলের খেলোয়াড় তালিকা দেখেই শুধু নিশ্চিত হওয়া যায় বাংলাদেশ দলে আজ ঠিক কারা কারা খেলছেন। তো, আবু জায়েদ নাকি তাসকিন আহমেদ যাচ্ছেন বিশ্বকাপে—এ প্রশ্ন ওঠার পর থেকে পরিবর্তন বাংলাদেশের অনুশীলন সূচি এবং দলীয় পরিকল্পনাতেও। হঠাৎ করেই স্কোয়াডের ১২তম (বোর্ড সভাপতির ভাষ্যমতে) সদস্য হয়ে উঠেছেন আবু জায়েদ! বিশ্বকাপে যখন যাচ্ছেনই, তখন এই ফরম্যাটে তাঁর বোলিং সামর্থ্য দেখে নেওয়া অত্যাবশ্যক। সেটা আজ যদি ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলতে পারে বাংলাদেশ, তাহলে অর্থহীন হয়ে পড়া শেষ পুল ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেও করা যেত। কিন্তু বিশ্বকাপের দল তো আর হেজিপেজি কেউ নয়, মঞ্চও বিশাল। তাই ক্যারিবীয়দের মতো শক্ত-সমর্থ দলের বিপক্ষেই হয়তো আবু জায়েদকে দেখে নিতে চাচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

চিন্তার এ বাঁকবদল মনে হচ্ছে নতুন করে বিপাকে ফেলেছে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টকে। এত দিন বেশ নির্ভার ছিলেন তাঁরা যে, বোর্ড সভাপতি যখন দল ঘোষণার দিনই পরিবর্তনের আভাস দিয়েছিলেন তখন পেস বোলিং আক্রমণ মনের মতো করেই সাজানো যাবে। কিন্তু আবু জায়েদ নাকি তাসকিন—এ লড়াইয়ের মানবিক দিকটাও ভাবতে হচ্ছে তাঁদের। এভাবে ডেকে এনে বাদ দিলে আবু জায়েদকে ‘অপমান’ করা হবে, যার পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের রোষানলে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। অগত্যা শেষ মুহূর্তে আবু জায়েদকে প্রস্তুত করার যুদ্ধে নেমেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। তা ছাড়া বিশ্বকাপ স্কোয়াডের ১২/১৩ জনের বাড়তি যাঁরা আছেন, তাঁদের নিয়ে তো না ভাবলেও চলছে!

আজ আবু জায়েদকে খেলানোর ঝুঁকি আছে। দুই ম্যাচ জিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে উঠে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অন্যদিকে বৃষ্টিতে একটি ম্যাচ পণ্ড হওয়ায় এখনো ফাইনাল অনিশ্চিত বাংলাদেশের। ক্যারিবীয়দের কাছে হারলে পুলের শেষ ম্যাচটি বাংলাদেশের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের জন্যও হয়ে যাবে ‘সেমিফাইনাল’।

আবু জায়েদ খেললে কে বসবেন আজ? সেন্টার উইকেটে বোলিংয়ের ছবি বলছে তিনি মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। নেটে মাশরাফি, মুস্তাফিজুর রহমান ও আবু জায়েদ যখন বোলিং করছিলেন তখন ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়েনের সঙ্গে স্ট্রেচিং করেছেন এ অলরাউন্ডার। বোলিং করেননি। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ যদি বিশ্বকাপ একাদশে জায়গা নিশ্চিত করার পরীক্ষা হয়, তবে প্রথম ম্যাচেই সে পরীক্ষায় উতরে গেছেন সাইফ।

অতি সম্প্রতি বেশি রান দেওয়া নিয়ে যত কথাই উঠুক, মুস্তাফিজুর রহমান বিশ্বকাপে খেলছেনই। কিন্তু রুবেল হোসেন নাকি তাঁর সাইড স্ট্রেইন নিয়ে এখনো পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। খেলোয়াড় যখন অনুযোগ করছেন তখন তা আস্থায়ও নিতে হচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্টকে। তাই পর্যাপ্ত ম্যাচ প্র্যাকটিস রুবেল হোসেনকে আয়ারল্যান্ডেই করানো যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অবশ্য গতকালের নেটের মতিগতি বলছে ফাইনালের আগেই ম্যাচ খেলতে হবে রুবেল হোসেনকে। সেটা আজও হতে পারে! আর আজ যদি জিতে যায় বাংলাদেশ, তাহলে অনেকের ভাগ্যেই ম্যাচের ‘শিকে ছিঁড়বে’ নিজেদের শেষ পুল ম্যাচে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box