৫০০ মরা মশা দিলে ১০০ টাকা!

আলোকিত সকাল ডেস্ক

সম্প্রতি ঢাকাসহ সারাদেশে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ডেঙ্গুর ভয়াবহ গ্রাস। শহর থেকে গ্রামে যেন কোন তোয়াক্কা ছাড়াই মহামারী রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু রোগ। এমন মহামারী পূর্বেও হয়েছিল স্মরণ করিয়ে রংপুরের তৎকালীন মেয়র সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টুর অভিনব কায়দায় দেওয়া ঘোষণায় মশা নিধনের গল্প বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) নিজের ফেসবুকে লিখেছেন তারই ছেলে রিয়াজ হিমন। তিনি লিখেছেন-

১৯৯৩ সালে রংপুরে মশার প্রকোপ অনেক বেড়ে যায়। তখন আমার বাবা মাত্র সিটি (সে সময়ে পৌরসভা) মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। এমন সময় আমার বাবা উদ্ভট একটি ঘোষণা দিলেন যে ‘৫০০ মশা ১০০ টাকা!’

এ ঘোষণায় একদিকে যেমন সবাই অবাক হয়েছিল, অপরদিকে ঘোষণার ফলে পাড়ায় মহল্লায়-মহল্লায় মশা মারার ধুম পরে গিয়েছিল। কেউ গামলায়, কেউবা বালতিতে যে যেভাবে পেরেছিল সেটিতে তেল মাখিয়ে ড্রেন, খাল, ডোবা এমন স্থানগুলোতে অভিযান চালিয়েছিল। বিশেষ করে যেখানে মশা বেশি থাকে সে সব স্থানে এই তেল মাখানো বালতি বা গামলার একটানে হাজার হাজার মশা ধরা পড়ত। ঘোষণার ঠিক ১৫ দিনেই সত্যি সত্যি মশার প্রকোপ যেন একেবারেই উধাও হয়ে গিয়েছিল।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি আরও লিখেন, এরপর বিবিসি থেকে আমাদের বাসায় প্রতিনিধি আসলো বাবার ইন্টারভিউ নিতে যে এমন উদ্ভট ঘোষণার কারণ কি?

জবাবে বাবা বলেছিলেন, জেলখানা থেকে নির্বাচন করার পরেও মানুষ আমাকে সবগুলো সেন্টারে প্রথম করেছে। আমার কাছে তাদের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। এ সরকার আমাকে এক টাকাও দেয় না। ট্যাক্স আর ট্রেডের টাকা দিয়ে আমি বেতন দেই। আমার কাছে যে টাকা আর ম্যান পাওয়ার আছে তা দিয়ে ১৫টা ওয়ার্ড কেন একটা ওয়ার্ডের মশাও মারা সম্ভব না।

বাবা আরও বলেছিলেন যাকে দিয়ে ওষুধ কেনাবো সে নিজেই বেশির ভাগ টাকা মেরে দেয়। তাই সবাইকে যতক্ষণ না আমি উদ্বুদ্ধ করতে পারব মশা মারা সম্ভব না। আমি হিসাব করে দেখেছি রংপুর পৌরসভায় ১০০ টার মতো ক্লাব আছে যাদের ব্যাট বল প্রয়োজন।

সাক্ষাৎকারে বাবা আরও বলেন, যারা মশা মেরে মেরে এনেছে তাদের বেশির ভাগই ছোট ছোট ক্লাবের ছেলে। আমি তাদের টাকার পরিবর্তে ব্যাট-বল দিচ্ছি ওরা তাতেই খুশি। তাছাড়া রংপুর পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব তো আমাদেরই।

আস/এসআইসু

Facebook Comments