৩ মন ধান বিক্রি করে মেয়ের জন্য থ্রি-পিস!

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ঈদ। খুশির ঈদ। খুশির এই দিনটিতে পরিবারের সকলের মুখে হাসি ফোটাতে চেষ্টা করেন সবাই। কিন্তু এবার ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় নেত্রকোনা জেলার কৃষকদের ছিল না তেমন ঈদের অনাবিল আনন্দ।

নেত্রকোনা জেলা মূলত ধান উদ্বৃত্ত জেলা হিসেবে পরিচিত। এ জেলায় উৎপাদিত ধান কৃষকের সারা বছরের চাহিদা পূরণ করেও অর্ধেকেরও বেশি ধান অন্যান্য জেলায় রপ্তানি করতে পারে। নেত্রকোনা জেলার হাওর অঞ্চলে গত বছর আগাম বন্যায় তাদের একমাত্র বোরো ফসল সম্পূর্ণ পানিতে তলিয়ে যায়। গত বছর ধান ও মাছ হারিয়ে হাওর অঞ্চলের কৃষকের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙ্গে যায়।

হাওর অঞ্চলের কৃষকরা ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন ব্যাংক, মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ এবং আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে ধার-দেনা করে হাওর অঞ্চলের একমাত্র ফসল বোরো আবাদ করে। কিন্তু এবার আগাম বন্যায় ধানের ক্ষতি না হলেও কোল্ড ইনজুরি কারণে ধানে ব্যাপক চিটা দেখা দেয়। ফলে কৃষকরা এক কাঠা জমিতে যেখানে ৬ থেকে ৭ মন ধান পেত, সেখানে তারা মাত্র ১ থেকে ২ মন ধান পেয়েছেন।

এছাড়াও সরকার কৃষকদের কাছ থেকে সময়মতো সরাসরি ধান ক্রয় না করায় কৃষকরা বাজারে ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। সব মিলিয়ে হাওর অঞ্চলের কৃষকরা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ছিলনা কৃষকদের ঈদ আনন্দ।

খালিয়াজুরী উপজেলা সদরের কৃষক হারুন-অর-রশিদ জানান, গত বছর আগাম বন্যায় ফসল হারিয়েছি। এ বছর ধানে চিটার কারণে তেমন ধান পাইনি। যাও পেয়েছি তারও ন্যায্য মূল্য নেই। পরিবার–পরিজন নিয়ে সেমাই-চিনি কেনারই সাহস পাইনি, বাচ্চাদের কাপড়-চোপড় তো দূরের কথা।

শালদিঘা স্কুলের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র রাসেল জানান, ঈদে আমি বাবার কাছে শার্ট-প্যান্ট কিনে দেয়ার কথা বলেছিলাম কিন্তু একটা শার্ট কিনতে লাগে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা। যা দুই মন ধান বিক্রি করেও সম্ভব না। তাই এবারের ঈদে আমার শার্ট কিনা হল না।

নেত্রকোণা সদর উপজেলার বামনমোহা গ্রামের আব্দুল হেকিম বলেন, গৃহস্থি করে কোন লাভ নাই। আমাদের যখন ফসল হয় তখন দাম নাই। এ ঈদে আমার সংসারে কোনো কেনাকাটা নেই। পুরাতন কাপড় দিয়েই ছেলে-মেয়ে নিয়ে ঈদ করছি।

লেপসিয়া গ্রামের হাসেম জানান, আমি তিন মন ধান বেচে আমার মেয়ের জন্য ১২শ টাকা দিয়ে থ্রি-পিস কিনে দিয়েছি। বউয়ের কথা না হয় বাদ দিলাম, ছেলেকেই শার্ট-প্যান্ট কিনে দিতে পারিনি।

বল্লী গ্রামের সালাম জানান, মহাজনের কাছ থেকে যে ঋণ নিয়েছিলাম, সেই ঋণ দিতেই সব শেষ হয়ে গেছে। হাতে টাকা পয়সা নেই। ছেলে-মেয়েদের মুখে ঈদে হাসি ফোটাতে পারিনি।

আমানীপুর গ্রামের জামাল উদ্দিন বলেন, সরকার কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনলেও কৃষকরা ধান দিতে পারছেনা। আমরা পরিবার–পরিজন নিয়ে মনের আনন্দে ঈদ উদযাপন করতে পারিনি।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box