২৫ বছরেও পাবে না শতভাগ বিদ্যুৎ

আলোকিত সকাল ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ ২০২১ সালে সবার ঘরে বিদ্যুৎ— সরকারের এই স্লোগান পার্বত্য তিন জেলাবাসিদের কাছে কল্পনাই মনে হচ্ছে। কারণ আগামী ২০ থেকে ২৫ বছরেও ওই তিন জেলা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারবে না।

এ জন্য দেরিতে হলেও তাদের আলোকিত করতে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি উদ্যোগ নিয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় শতভাগ মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধায় আনার জন্য সোলার সিস্টেম স্থাপন প্রকল্পটি তৈরি করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

সোলার হোম সিস্টেমের মাধ্যমে ২০২২ সালের মধ্যে তাদের আলোকিত করা হবে। তা যাচাই করতে সম্প্রতি পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাকি কাজ শেষ করে শিগগিরই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি-একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে সূত্র জানায়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড।

সূত্র জানায়, পার্বত্য জেলার আয়তন প্রায় ১৩ হাজার ২৯৫ কিলোমিটার। এ বিস্তীর্ণ এলাকা খুবই দুর্গম। পাহাড়ি ভূখণ্ডে জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব নয়।

যদিও প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ২০২১ সালে সবার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেয়া হবে। তাই বিকল্প পথে অর্থাৎ সোলার ফটোভোল্টাইক সিস্টেমে দুর্গম পাহাড়ে বিদ্যুৎ দেয়া হবে। ওই এলাকার জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সোলারকে কাজে লাগাতে ২০০৮ সালে ১৮ ডিসেম্বর নবায়নযোগ্য শক্তিনীতি অনুমোদন করে সরকার। তারই অংশ বিশেষ দেরিতে হলেও এ প্রকল্পের আওতায় রাঙ্গামাটি জেলা সদর, লংগদু, বাঘাইছড়ি, কাউখালী, বিলাইছড়ি, কাপ্তাই, বরকল, রাজস্থলি, জুরাইল, নানিয়ারচর উপজেলা রয়েছে। খাগড়াছড়ি সদর, মাটিরাঙ্গা, পানছড়ি, লামছড়ি, রামগড়, দিঘিনালা, গুইমায়া, মহালছড়ি, ও মানিকছড়ি উপজেলা রয়েছে। এছাড়া বান্দরবন জেলা সদর, রুমা, লামা, নাইক্ষ্যংছড়ি, থানছি, মালিকদম রয়েছে।

প্রকল্পের প্রধান কাজ হচ্ছে ৪০ হাজার বাড়িতে ১০০ ওয়াট ক্ষমতা সোলার হোম সিস্টেম সরবরাহ করা। এরমধ্যে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে ১৩ হাজার করে এবং বান্দরবনে ১৪ হাজার সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করা হবে।

এসব কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮০ কোটি টাকা। এছাড়া ২ হাজার ৫০০টি পাড়া-মহল্লা, শিক্ষার্থীদের হোস্টেল, এতিমখানা, কমিউনিটি সেন্টারসহ বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে ৩২০ ওয়াট সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হবে। রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে ৮০০ করে এবং বান্দরবনে ৯০০ সোলার স্থাপন করা হবে।

এসব কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। বাকি অর্থ বিভিন্ন খাতে ব্যয় করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বিভিন্ন খাতে ২১৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। বাস্তবায়ন করা হবে ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে।

এসব যাচাই-বাছাই করতে ৯ মে পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয় পরিকল্পনা কমিশনে। বাকি কাজ শেষ করে শিগগিরই একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে সূত্র জানায়।

সূত্র আরও জানায়, দেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব না হওয়ায় এর আগেও একটি সোলার প্যানেলের মাধ্যমে এলাকা আলোকিত করার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ (১ম সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটি ২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৬ কোটি ৬ লাখ টাকা। এর পুরোটাই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হচ্ছে। এ বছরের ৩০ জুনের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে।

সূত্র আরও জানায়, এ প্রকল্পের আওতায়, ১০ হাজার ৮৯০ সেট সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে ৬৫ ওয়াট পিক ক্ষমতাসম্পন্ন ৫ হাজার ৮৯০ সেট। ১০০ ওয়াট পিক ক্ষমতা সম্পন্ন ৫ হাজার সেট। ২ হাজার ৮১৪ সেট সোলার কমিউনিটি সিস্টেম স্থাপন করা হবে।

এরমধ্যে ১২০ ওয়াট পিক ক্ষমতাসম্পন্ন ৪৭৫ সেট, ২৫০ ওয়াট পিক ক্ষমতাসম্পন্ন ২৪ সেট, ৩২০ ওয়াট পিক ক্ষমতাসম্পন্ন ২ হাজার ৩১৫ সেট, ২০ ওয়াট পিক মোবাইল চার্জার সংযুক্তকরণ ৫ হাজার ৮৯০ সেট।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা জানান, সারা দেশ যেখানে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হচ্ছে সেখানে দুর্গম এলাকা হওয়ায় এ সব উপজেলায় বিদ্যুতের আলো পৌঁছবে না, তা হয় না। তাই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আপাতত সোলার প্যানেলের মাধ্যমে এসব এলাকা বিদ্যুতায়নের উদ্যাগ নেওয়া হয়েছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments