২০২১-এ বিধানসভা জিততে পেশাদার নিয়োগ মমতার

আলোকিত সকাল ডেস্ক

নাম প্রশান্ত কিশোর। কাজ রাজনৈতিক দলের জন্য নির্বাচনি কৌশল ঠিক করে দেয়া। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে অন্ধ্রপ্রদেশের ওয়াই এস আর কংগ্রেসের নেতা জগনমোহন রেড্ডি তার সংস্থার পরামর্শ মেনে ভোটে সাফল্য পেয়েছেন। ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জিততে এবার সেই প্রশান্ত কিশোরের হাত ধরতে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বৃহস্পতিবার (০৬ জুন) নবান্নে প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে প্রায় পৌঁনে দুইঘণ্টা বৈঠক করেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। সরকারি সূত্রের খবর, প্রশান্তর সংস্থা সিটিজেন্স ফর একাউনটেবল গভর্নেন্সের সঙ্গে গাটছাড়া বাধতে চলেছে মমতার তৃণমূল কংগ্রেস। এজন্য দুই তরফে প্রাথমিক চুক্তিও হয়েছে। যদিও এই নিয়ে মমতা বা প্রশান্ত কেউ মুখ খোলেননি।

সদ্য পেরোনো লোকসভা নির্বাচনে মমতার সাম্রাজ্যে থাবা বসিয়েছে বিজেপি। রাজ্যে ৪২ আসনের মধ্যে ১৮টি দখল করেছে গেরুয়া বাহিনী। গোটা দেশে মোদী ঝড় আছড়ে পড়েছে আরও বেশি শক্তি নিয়ে। ভোটের ফলাফল ঘোষণার দু-সপ্তাহের মধ্যেই মমতার দলে ভাঙন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিধায়ক থেকে পঞ্চায়েত সদস্য, নেতা-নেত্রী থেকে কর্মী নদী ভাঙনের মত তৃণমূল রোজ ভাঙছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি পুরসভাও হাতছাড়া।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যে মেরুকরণের ভোটে মমতা কোনঠাসা প্রমাণিত। দিন যত এগোবে মেরুকরণ তত বাড়ার সম্ভাবনা। তাতে বিজেপির লাভ বেশি। তাছাড়া কেন্দ্রে সরকার থাকায় মমতার সরকারকে নানাভাবে ঘিরে ফেলতে চাইবে মোদী-অমিত শাহ জুটি। মমতার পক্ষে দলের ভাঙনের পর কেন্দ্রকে ঠেকিয়ে রাজ্যবাসীর আস্থা ফিরে পাওয়া কতটা সম্ভব হবে তা বলা কঠিন। অনেকের মতে, ২০২১-এর ভোটে রাজ্যের মসনদে বিজেপির কোনও মুখ্যমন্ত্রী দেখার সম্ভাবনাই বেশি।
এমন একটা আশংকা রয়েছে বলেই স্রেফ কাজের জোরে জেতার স্বপ্ন দেখা মমতা শেষমেশ প্রশান্ত কিশোরের মত পেশাদারের হাত ধরতে চেয়েছেন। ২০১৪ সালে দেশজুড়ে মোদী ঝড় ওঠার পেছনে প্রশান্তর অবদান অস্বীকার করে না বিজেপি। আবার সদ্য লোকসভার ভোট অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর দলকে কার্যত বলে দশ গোল দিয়েছে ওয়াই এস আর কংগ্রেস। জয়ের কারিগর সেই প্রশান্ত। এবার মমতা চান প্রশান্তর ম্যাজিক কোন পথে এগোলে দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে, বিজেপিকে পর্যদুস্ত করে বিধানসভায় তৃতীয় বারের জন্য ফেরা যায়- তার মেড ইজি বাতলে দিক প্রশান্ত কিশোর।
১৯৭৭ সালে জন্ম প্রশান্ত জীবন শুরু করেছিলেন রাষ্ট্রপুঞ্জে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক কাজ দিয়ে। সেখানে টানা ৮ বছর কাজ করার পর ধীরে ধীরে রাজনীতিতে প্রবেশ। যোগ দেন নীতিশ কুমারের জনতা দল ইউনাইটেড দলে। তবে একইসঙ্গে প্রচার বিজ্ঞান নিয়েও তার গবেষণা চলতে থাকে। ২০১১ সালে বিজেপির গুজরাট শাখা তার সাহায্য নেয়। সেই ভোট প্রবল সরকার বিরোধিতা সত্ত্বেও মোদী দ্বিতীয়বারের জন্য মুখামন্ত্রী পুনর্নির্বাচিত হন। বলা যায়, সেই শুরু থেকে তারপর বিশেষ পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।

প্রশান্ত কিশোরের সংস্থায় কয়েকশো লোক কাজ করেন। সূত্রের খবর, তার সংস্থাকে নির্বাচনি কৌশল ঠিক করার বরাত দিতে হলে প্রায় ১০০ কোটি টাকা খরচ করতে হয়। তৃণমূল সূত্রের খাবার, অতীতে ইচ্ছা থাকলেও টাকার কথা ভেবে দল পিছিয়ে এসেছে। কিন্তু এবার খারাপ ফলের কারণে ঘর গুছিয়ে রাজ্যের ক্ষমতা ধরে রাখতে সেই অর্থ খরচ করতে প্রস্তুত মমতা।কিন্তু তাতে কী প্রত্যাশা পূরণ হবে? উত্তর লুকিয়ে আছে ভবিষ্যতের গর্ভে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box