১ শ ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে সদ্য নব-নির্মিত কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কের কান্না

রাছেল রানা, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি

সড়কের দুই পাশে প্যারাসাইট না দেওয়ায় কুষ্টিয়া কুমারখালী কাজীপাড়া থেকে কুষ্টিয়া মোল্লাতেঘরিয়া পর্যন্ত নব নির্মিত মহাসড়কে ১৭৮ জায়গায় রাস্তার ভাঙন এর চিহ্ন পাওয়া গেছে ।

কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের পূ্ননির্মাণ কাজ শেষ না হতেই সড়কের দুপাশে ভাঙুন শুরু হয়েছে। এতে এ সড়কের কাজ নিয়ে সচেতন মহলে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি এ সড়কের কাজ শেষে এর টেকশই নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কুষ্টিয়া থেকে খোকসা পর্যন্ত ২৮ কিমি সড়ক পুনর্নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি এখনও। এদিকে এই সড়কের দুই পাশে প্যারাসাইট না দেওয়ায় সড়কের অনেক জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ সড়কের কোথাও কোথাও সড়ক ভেঙে সৃষ্টি হয়েছে মৃত্যুফাঁদ। সরেজমিনে কুষ্টিয়া থেকে কুমারখালী পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত স্থানে ভাঙনের দেখা মিলেছে। এ সময় স্থানীয়দের মধ্যে অনেকে এ কাজের মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন । এ ছাড়াও সড়কের মাঝখানে প্রায় সহস্রাধিক

বৈদ্যুতিক খুঁটি দিব্বি এখনো দাঁড়িয়ে আছে! অথচ এই সড়কের কাজ শেষ হতে বাকি আর মাত্র তিন মাস।

কুষ্টিয়া চৌড়হাস মোড়ে কাজের উদ্বোধনী সাইনবোর্ড সূত্রে জানা যায়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে শুরু হয়েছে এই কাজ। কাজের নাম আহলাদিপুর-রাজবাড়ী-পাংশা-কুমারখালী কুষ্টিয়া(চৌড়হাস) (আর-৭১০) সড়কের চেঃ ৪৫+০৫৬ মিঃ হতে ৬০+০০০ মিঃ প্রশস্তকরণ মজবুতকরণ, হাডশোল্ডার নির্মাণ, ২ টি আর সিসি কালভার্ট নির্মাণ সহ সার্ফেসিং ও অন্যান্য আনুষাঙ্গিক কাজ‌। কাজ শুরু হয়েছে ৮ মার্চ ২০১৮ইং এবং শেষ হওয়ার কথা ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ইং।চুক্তিমূল্য ৯৬,৯৯,৭৭,৯৪৯.২৩৪ টাকা। এই সড়কের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোমেন লিঃ – রানা বিল্ডার্স (প্রাঃ) লিঃ – জহিরুল লিমিটেড (জে ডি) মল্লিকপাড়া মেহেরপুর। কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী

মহাসড়কে কুষ্টিয়া থেকে খোকসা পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার এলাকায় সড়কের বুকে অসংখ্য বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই শেষ হতে যাচ্ছে সড়ক পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার কাজ। রাস্তার মাঝে বিদ্যুতের এসব খুঁটি অপসারিত না হওয়ায় সড়কটিতে যানবাহন চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিসহ যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

গত এক বছরের বেশি সময় ধরে এ সড়ক সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ কাজ অব্যাহত থাকলেও সড়কের মাঝের খুঁটি সরাতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কিংবা বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড কার্যত ব্যবস্থা নেয়নি। সড়ক বিভাগ বলছে, তিন বছর আগে বিদ্যুত বিভাগের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু রাস্তার মাঝখানে এসব খুঁটি এখনও রয়েই গেছে। তবে বিদ্যুত বিভাগ ওজোপাডিকো তাদের অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করলেও কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুত সমিতি খুঁটিগুলো সম্পূর্ণরূপে অপসারণে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছে। সূত্র জানায়, ১৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের কুষ্টিয়া থেকে খোকসা পর্যন্ত ২৮ কিমি সড়ক পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয় গত বছরের মার্চ থেকে। বর্তমানে ১৮ ফুট প্রশস্ত সড়কটি দুই পাশে আরও ৩ ফুট করে ৬ ফুট প্রশস্ত করার পাশাপাশি মাঝের ১৮ ফুট শুধু উপরের অংশ সিলকোট করা হচ্ছে। সড়কটি প্রশস্তকরণের ফলে রাস্তার পাশে থাকা বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুত সমিতির ১১ এবং ৩৩ কেভিসহ সহস্রধিক বিদ্যুতের খুঁটি এখন সড়কের মাঝে চলে এসেছে। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ এই বিদ্যুতের পোলগুলো সড়কের মাঝে রেখেই অবশেষে সড়ক পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার কাজ শেষ হতে যাচ্ছে।

কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কে কুষ্টিয়া থেকে খোকসা পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার এলাকায় সড়কের বুকে অসংখ্য বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই শেষ হতে যাচ্ছে সড়ক পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার কাজ। রাস্তার মাঝে বিদ্যুতের এসব খুঁটি অপসারিত না হওয়ায় সড়কটিতে যানবাহন চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিসহ যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। গত এক বছরের বেশি সময় ধরে এ সড়ক সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ কাজ অব্যাহত থাকলেও সড়কের মাঝের খুঁটি সরাতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ কিংবা বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড কার্যত ব্যবস্থা নেয়নি। সড়ক বিভাগ বলছে, তিন বছর আগে বিদ্যুত বিভাগের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু রাস্তার মাঝখানে এসব খুঁটি এখনও রয়েই গেছে। তবে বিদ্যুত বিভাগ ওজোপাডিকো তাদের অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করলেও কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুত সমিতি খুঁটিগুলো সম্পূর্ণরূপে অপসারণে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কুষ্টিয়া থেকে কুমারখালী পর্যন্ত আসতে প্রায় অর্ধশত স্থানে সড়ক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। শুধু তাই নয় কুমারখালী ও খোকসা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সড়কের মাঝে বিদ্যুতের এসব পোল এখনও দাঁড়িয়ে আছে। খুঁটিগুলোর বেশিরভাগই পল্লী বিদ্যুতের আওতায়। এর মধ্যে বেশ কিছু খুঁটি রয়েছে চরম ঝুঁকির মধ্যে। দ্রুত এসব খুঁটি সরানো না হলে যে কোন সময় মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়রা এসব খুঁটি দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। কুমারখালীর স্কুল শিক্ষক শাহীনুর রহমান জানান, রাস্তার মাঝে বিদ্যুতের পোল থাকায় জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে এ সড়কে যাত্রী সাধারণ চলাচল করছে। এতে যে কোন সময় বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তিনি অবিলম্বে রাস্তার মাঝ থেকে এসব খুঁটি অপসারণের দাবি জানান।

সূত্র মতে, রাস্তা থেকে এসব বৈদ্যুতিক খুঁটি সরাতে ১৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড (ওজোপাডিকো) সাড়ে ৬ কোটি ও পল্লী বিদ্যুতের খরচ হচ্ছে পৌনে ৭ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে সিংহভাগ টাকা তাদের পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি টাকা চলতি অর্থবছরে দেয়া হতে পারে। সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, খুঁটিগুলো সরানোর জন্য টাকা পরিশোধ করা হলেও সরানোর কোন উদ্যোগ নেই। এই সড়কে দিনরাত ২৪ ঘণ্টায় কয়েকশ’ বাস-ট্রাক চলাচল করে। এতে যে কোন মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

এদিকে প্রশ্ন উঠেছে, এমনটা হওয়ার কারণ কি জনগণের কাছে জবাবদিহিতা না থাকা? এই টাকা গুলো কাদের? এই টাকাগুলো যদি আমাদের সকলের হয় তবে কেন আমরা তাদের প্রশ্ন করতে পারবনা? কেন আমরা রুখে দাঁড়াতে পারিনা? আমাদের টাকায় উন্নয়নের নামে কেন কিছু আমলাদের এমন লুটপাটের উৎসব? তাদের আলিশান বাড়ি ও গাড়ি থাকবে আর সাধারণ জনগণ ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ঘুরবে। বাহ বাহ বাহ আজব দেশের মানুষ আমরা। তবে এই ১ শ ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে নব – নির্মিত কুষ্টিয়া রাজবাড়ি সড়কের কাজ না হতে ভাঙনের কান্না শুনবে কি কেউ?

Facebook Comments Box