হাতিরঝিলে মানুষের ঢল

আলোকিত সকাল ডেস্ক

সকাল থেকে ঈদ আনন্দে বাগড়া দিয়েছে বৃষ্টি। তারপরেও উৎসবপ্রিয় বাঙালিকে ঘরে বেঁধে রাখা যায়নি। নগরীর অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হাতিরঝিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে বৃষ্টিতে ভিজে ঘোরাঘুরি করেছেন বিনোদনপিয়াসি মানুষরা। বৃষ্টি কমে আসলে বিকেলের দিক থেকে এখানে মানুষের ঢল নামে।

মালিবাগের বাসিন্দা আবদুল মজিদ। সময় অভাবে স্ত্রী-সন্তানদের হাতিরঝিলের ওয়াটার ট্যাক্সিতে চড়ে আনন্দ উপভোগ সম্ভব হয়নি তার। তাই বৃষ্টির মধ্যেই ঘুরতে বের হয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, এখানে আসার সময় হয় না। অনেক দিন ধরে ছেলে-মেয়েরা বায়না ধরেছে ওয়াটার ট্যাক্সিতে ঘুরবে। বৃষ্টির মধ্যে বাসা থেকে বের হতে চাচ্ছিলাম না। কিন্ত ওরা কোনমতেই ছাড়ছে না বলে দুই সন্তান আর স্ত্রীকে নিয়ে ভিজে ভিজে ওয়াটার ট্যাক্সির এফডিসি কাউন্টারে আসলাম। দেখি একটু আনন্দ পাওয়া যায়নি।

এফডিসি থেকে পুুলিশ প্লাজা, গুলশান গুদারা ঘাট, মেরুল বাড্ডা, রামপুরা পর্যন্ত ঘোরাঘুরি করতে ৩০ মিনিট সময় লাগবে। প্রতিটি টিকিটের মূল্য ঈদ উপলক্ষে ৭০ টাকা। বৃষ্টির কারণে জমে উঠেনি। তবে বৃষ্টি থামলে মানুষের ঢল নামে।

ওয়াটার ট্যাক্সির ম্যানেজার আনোয়ারুল ইসলাম দৈনিক জাগরণকে বলেন, প্রতিদিন সকাল রাত ১০টা পর্যন্ত ১৫টি ট্যাক্সি চলাচল করছে। ঈদে ব্যাপক মানুষের সমাগম হয়। কিন্ত বৃষ্টির কারণে এবার খুব একটা জমে উঠেনি। তবে আগামী কয়েকদিন বিনোদন প্রেমীদের জন্য ঝিল উৎসব মুখর থাকবে বলে জানান তিনি।

বর্তমানে ১৫টি ওয়াটার ট্যাক্সি চলছে। এক একটির যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ৪৫ জন। নিয়মিত যাত্রীদের সাথে প্রতিদিন বেড়াতে আসে ট্যুরিস্ট। লেকে ওয়াটার ট্যাক্সি সার্ভিস সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে। টার্মিনাল আছে ৫টি-এফডিসি, পুলিশ প্লাজা, গুলশান মেরুল-বাড্ডা এবং রামপুরা।

মিউজিকের সাথে ওয়াটার শো খোলা আকাশের নিচে মনোরম পরিবেশের হাতিরঝিল আলোর সাথে পানির ফোয়ারা। মিউজিকের সাথে তাল মিলিয়ে নাচতে থাকে এসব ফোয়ারাগুলো। এটি দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় মিউজিক্যাল ড্যান্সিং ফাউন্টেইন। এর ফোয়ারার পানি ১০ মিটার থেকে ৭০ মিটার পর্যন্ত ওপরে উঠে। মিউজিক্যাল ড্যান্সিং ফাউন্টেইন এবং অ্যাম্পিথিয়েটারের বাড়তি বিনোদন উপভোগ করার সুযোগ মিলেছে ঈদ উৎসবে। ফোয়ারা চালু থাকবে ১৫ মিনিটের মতো। এটি উপভোগ করতে চাইলে তাই সময় মতো যেতে হবে।

হাতিরঝিলের আশপাশের গুলশান, পুলিশ প্লাজা, মেরুল বাড্ডা, মধুবাগ ও মহানগর প্রজেক্ট এলাকা থেকে ১ হাজার ৯৮০ বর্গমিটারের এই রঙিন ফোয়ারা। হাতিরঝিলের গুলশান আড়ং ও পুলিশ প্লাজার মাঝামাঝি অংশে গোলাকার উন্মুক্ত মঞ্চ অ্যাম্পিথিয়েটার থেকেও তা উপভোগ করা যায়।

বসার জায়গা নিয়ে চিন্তা নেই কেন না পুরো হাতিরঝিলজুড়েই বসার বেঞ্চ, টুল, সিড়ি ইত্যাদি রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য সর্বদা পুলিশ কাজ করছে বিভিন্ন পয়েন্টে।

জায়গার নাম হাতিরঝিল সেই ব্রিটিশ আমল থেকে। ভাওয়ালের রাজাদের পোষা হাতি রাখা হতো পিলখানায়। সেই সময় গোসল করার জন্য এসব হাতি ঝিলে নিয়ে যাওয়া হতো এলিফ্যান্ট রোড, হাতিরপুল এলাকা থেকে। আর হাতি গোসল করানোর কারণে ঝিলের নাম হয় হাতিরঝিল।

২০১৩ সালে ২ জানুয়ারি উদ্বোধন করা হয়। বর্তমানে এটি ঢাকার একটি অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা ও বন্যা প্রতিরোধ, ময়লা পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, রাজধানীর যানজট নিরসন এবং শ্রীবৃদ্ধি করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে হাতিরঝিলকে দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলা হয় এই বিনোদন কেন্দ্র।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box