হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জ ১০টি গ্রামের প্রায় ২ শতাধিক পরিবার

আজিজুল ইসলাম সজীব,হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

আজমিরিগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও ইউনিয়নের মণিপুর গ্রামের বাসিন্দা হক মিয়া। পরিবার পরিজন নিয়ে রাতে বসত ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। মাঝরাতে হঠাৎ তার ঘরটি কালনি-কুশিয়ারা (ভেড়ামোহনা) নদীতে ভেঙে পরে। কোন রকমে সাতার দিয়ে পাড়ে উঠেন পরিবারের ৫ সদস্য।

প্রাণহাণী না ঘটলেও পানিতে ভেসে যায় বসত ভিটা ও ঘরে থাকা আসবাবপত্র। শুধু হক মিয়া নন। নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়েছেন আজমিরিগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও ইউনিয়নের সৌলরী, মণিপুর, বদলপুর, জয়নগর ঋষি হাটি, কাদিরপুর, নজরাকান্দা, সাহনগরসহ ১০টি গ্রামের প্রায় ২ শতাধিক পরিবার।

যুগ যুগ ধরে এ অবস্থা চলে আসলেও নদী ভাঙ্গন থেকে গ্রামবাসীকে রক্ষা করতে কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না।

শুধু বর্ষা মওসুমে নয়, শুষ্ক মওসুমেও নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না এসকল গ্রামবাসী। কালসনী-কুশিয়ারা (ভেড়ামোহনা) নদী শুধু বসত ভিটাই গ্রাস করেনি। গ্রাস করেছে মসজিদ-মাদ্রাসাসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও।

সম্প্রতি শুষ্ক মওসুম হলেও ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র প্রভাবে হবিগঞ্জে টানা তিনদিন বৃষ্টি হয়। এর ফলে বৃদ্ধি পায় কুশিয়ারাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি। এতে আতঙ্ক দেখা দেয় কুশিয়ারার তীরবর্তী মানুষের মধ্যে। ভাঙ্গন দেখা দেয় নতুন করে। নতুন করে বিলীন হয় বেশ কয়েকটি বসত ভিটা।

ভাঙ্গন কবলিত গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, কুশিয়ারার নির্মমতায় প্রতি বছরই শতাধিক পরিবার নিঃস্ব হচ্ছেন। পরিবার পরিজন নিয়ে অনেকে এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। আবার সম্প্রতি সময়ে ভাঙ্গনের কবলে পড়া অনেক পরিবার অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকের বসত ভিটার সাথে কুশিয়ারার ঢেউয়ে মিশেছে সারা জীবনের সঞ্চয়।

আজমিরিগঞ্জের ১০টি গ্রামের মানুষদের সারাক্ষণ নদী ভাঙ্গন আতঙ্কে থেকে ভিটে মাটি হারিয়ে নিঃস্ব হলেও নদীর অপর পাড় ডানতীর কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলা কাটিয়াকান্দা, গজারিয়া এলাকায় মাইলের পর মাইল পলি জমে ভরাট হচ্ছে। আর প্রভাবশালীরা এসব চর দখল করে চাষাবাদ করছে।
এ ব্যাপারে মণিপুর গ্রামের বাসিন্দা হক মিয়া বলেন, পরিবারের সবাইকে নিয়ে রাতে ঘুমে ছিলাম। হঠাৎ সম্পূর্ণ ঘরটি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এ ঘটনায় প্রাণে রক্ষা পেলেও আমার সারা জীবনের সঞ্চয় পানিতে ভেসে যায়।

সৌলরী গ্রামের আবু ফজল বলেন, নদী ভাঙ্গনের কারণে আমরা এখন নিঃস্ব। অন্যের বাড়িতে থাকতে হচ্ছে পরিবার পরিজন নিয়ে।একই গ্রামের মানিক মিয়া জানান, প্রতিনিয়ত নদী ভাঙ্গলেও সরকার আমাদের রক্ষা করতে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না। আমরা কতটা অসহায় আছি তা কেউ দেখার-বুঝার চেষ্টা করছে না।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খন্দকার বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে নিয়ে এলাকা পরিদর্শন করেছি। বর্তমানে নদী ভাঙ্গনের প্রতিবেদন তৈরি করছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। প্রতিবেদন তৈরি হলেই সেটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হবে।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান বলেন, ‘সম্প্রতি আমি কালনী- কুশিয়ারারা এলাকা পরিদর্শন করে এসেছি। এছাড়া বানিয়াচং উপজেলার মার্কুলী এলাকা নদী ভাঙ্গন রোধে একটি প্রকল্প শুরু হয়েছে।

এছাড়া বাকি অংশের জন্য আমি সংসদে উত্থাপনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে বিষয়টি আলোচনা করব।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আজমিরিগঞ্জ উপজেলার সৌলরী এলাকা নদী ভাঙ্গন রোধে একটি জরিপ প্রকল্প শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব এলাকাতেই নদী ভাঙ্গন প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments