হঠাৎ কমিটি বাতিল, ছাত্রদলে অসন্তোষ

আলোকিত সকাল ডেস্ক

আনন্দঘন মুহুর্ত ঈদের একদিন আগে হঠাৎ কমিটি বাতিল, বিলুপ্ত কমিটির নেতাদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে কমিটি বাতিল করাসহ স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা ঘটনায় ছাত্রদলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

বিলুপ্ত কমিটির ক্ষুব্ধ নেতারা প্রতিবাদ জানাতে তাদের অনুসারী বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের সংঘবদ্ধ করার চেষ্টা করছেন। ইতোমধ্যে ঢাকাসহ বাইরের বেশ কয়েকটি ইউনিটের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

এসকল নেতাদের সবাইকে সোমবারের মধ্যে ঢাকায় আসতে বলা হয়েছে। ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বর্তমানে বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত- এমন একটি অংশ বিলুপ্ত কমিটির ক্ষুব্ধ নেতাদের নেপথ্যে থেকে ইন্ধন যোগাচ্ছে বলে বিএনপি নেতাদের সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র মতে, ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের এই অংশটি বিএনপির প্রভাবশালী নেতা সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বিরোধী। নব্বই দশকের ছাত্রদলের গ্রুপিংই এক্ষেত্রে কাজ করছে। বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ভ‚মিকাও রহস্যজনক বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, ‘ছাত্রদলের যারা বাদ পড়বেন তাদের অবশ্যই যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে খুব শিগগিরই তফসিল ঘোষণা করা হবে।’

জেলা মর্যাদার বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজসহ ছাত্রদলের সব জেলা শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অথবা আহ্বায়ক কমিটির শীর্ষ দুজন কাউন্সিলর থাকবেন। যারা ভোট দিয়ে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন বলেও জানান রিজভী।

ছাত্রদলের নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, কাউন্সিল হিসাবে বিলুপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটিতে যারা ছিলেন, তাদের মধ্যে ২০০০ সালে যাদের এসএসসি তাদেরও শেষ পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

২০০০ সাল অথবা তার নিচে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে সেসব কর্মীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। বিলুপ্ত কমিটির নেতা মামুন খান ও আসাদুল আলম টিটু তারা উভয় এবার কাউন্সিলে প্রার্থী হবেন।

মামুন খান দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদের যে সুযোগ করে দিয়েছেন এতে করে অনেকেই প্রার্থী হতে পারবেন। আশা করছি, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটের মাধ্যমে কাউন্সিলররা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করতে পারবেন।’

জানতে চাইলে আসাদুল আলম টিটু বলেন, ‘অপেক্ষাকৃত জুনিয়র নেতারা সুযোগ পেয়ে অনেকেই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। এটা সংগঠনের জন্য ভালো দিক। তবে, সিনিয়র যারা রয়েছেন তাদের বিষয়েও দলের ভাবতে হবে। ত্যাগ ও যোগ্যতা অনুযায়ী তাদের অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনে পদায়ন করতে হবে। তবে, সিনিয়ররা যদি সংগঠন বিরোধী কোনো কাজ করেন এবং দল যদি তাদের বিষয়ে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেয় সেক্ষেত্রে আমাদের সমর্থন থাকবে দলীয় সিদ্ধান্তের পক্ষে।’

ক্ষুব্ধ নেতাদের বড় একটি অংশ দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, তাদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে গত ৩ জুন রাতে হঠাৎ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এভাবে কোনো সংগঠন চলতে পারে না। তারা এসবের প্রতিবাদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গতকাল শনিবার তারা বৈঠকও করেছেন। কেউ কেউ ভাবছেন অনশন করবেন,আবার কারো কারো আচরণ চরম মারমুখি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির সহসভাপতি ইখতিয়ার রহমান কবির দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, ‘আমরা রোববার পর্যন্ত অপেক্ষা করবো। দেখব আমাদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদি আমাদের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া না হয়, তাহলে সোমবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সবাইকে বের করে দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন কর্মসূচি পালন করবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি ছাত্রদলের কমিটি বয়সের ভিত্তিতে হতে পারে, তাহলে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, কৃষক দলের কমিটিতেও বয়স নির্ধারণ করতে হবে। মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় তারাও তো যুবদলের সফল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তাদের বয়স ওই সময় কত ছিল? ৩৫ এর বেশি নয়। তাই আমাদের দাবি, ছাত্রদলের মতো অন্যান্য অঙ্গ সংগঠন বিলুপ্ত করে একটা নির্দিষ্ট বয়সসীমা নির্ধারণ করে আমাদের পুনর্বাসন করা হোক। ওই সব কমিটিও কাউন্সিলের মাধ্যমে করতে হবে।’

গত ৩ জুন রাতে কমিটি বিলুপ্ত করে গণমাধ্যমে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটিতে নেতা হওয়ার যোগ্যতা হিসাবে জানানো হয়েছে, অবশ্যই বাংলাদেশে অবস্থিত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র হতে হবে। কেবলমাত্র ২০০০ সাল থেকে পরবর্তীতে যে কোনো বছরে এসএসসি/সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এই ঘোষণায় বিলুপ্ত কমিটির নেতারা দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

বিলুপ্ত কমিটির নেতাদের অভিযোগ, এটা নতুন কোন সিদ্ধান্ত নয়। তারেক রহমানের ঘনিষ্ট মালেশিয়া প্রবাসী বেলায়েত হোসেন গত দেড় মাস আগেই একজন সাংবাদিককে বলেছেন ছাত্রদলের পরবর্তী কমিটিতে নেতা হতে গেলে বয়স হতে হবে ৩৪/৩৫ বছর। এ বিষয়ে ইখতিয়ার কবির বলেন, ‘নেতা হওয়ার যোগ্যতা হিসাবে ২০০০ সাল থেকে পরবর্তীতে যে কোনো বছরে এসএসসি/সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে এমন শর্ত দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এটাকে ১৯৯৯ অথবা ১৯৯৮ করলে সমস্যা কোথায়? যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে নিয়মিত ছাত্রদের দিয়ে নতুন কমিটি করলে আমাদের কোনো আপত্তি থাকবে না।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের অক্টোবরে রাজীব আহসানকে সভাপতি ও আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দুই বছর মেয়াদি ওই কমিটির মেয়াদ শেষ হয় ২০১৬ সালের অক্টোবরে। নতুন কমিটি করতে চলতি বছরের মার্চ মাসে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক- এমন ১২ নেতার সমন্বয়ে একটি সার্চ কমিটি করা হয়। সার্চ কমিটির নেতারা হলেন, শামসুজ্জামান দুদু, ড. আসাদুজ্জামান রিপন, আমান উল্লাহ আমান, রুহুল কবির রিজভী, খায়রুল কবির খোকন, আজিজুল বারী হেলাল, এবিএম মোশাররফ হোসেন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, হাবিবুর রশীদ হাবিব। এই সার্চ কমিটি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেন।

ছাত্রদলের একজন সহসভাপতি দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, ‘ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে বিএনপির নির্দিষ্ট একটি গ্রুপ থেকে ছাত্রদলের নেতৃত্বে আনতে সার্চ কমিটির ঘারে বন্দুক রেখেই এসএসসি সাল ২০০০ ধরা হয়েছে। এই গ্রুপটি সব জায়গায় নিজেদের তারেক রহমানের লোক হিসাবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। এদের থামাতে না পারলে কোনো কমিটিই সঠিক প্রক্রিয়ায় হবে না।’

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box