স্বয়ং মেসির সন্তান যখন রিয়ালের সমর্থক!

আলোকিত সকাল ডেস্ক

সর্বকালের সেরা ফুটবল তারকাদের অন্যতম,ফুটবল বিশ্বের বিস্ময়, দ্য লিটল ম্যাজিসিয়ান খ্যাত আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনাল মেসি। নিজের ফুটবল শৈলীর নান্দনিক প্রদর্শনী দিয়ে একদিকে যেমন ফুটবল দুনিয়ার সকল রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন তেমনি তার সেই যাদুর ছোঁয়ায় ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম প্রাপ্তিগুলো সব নিজেদের করে নেয়ার স্বাদ পেয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্ট ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনা।

এরইমধ্যে মেসি হয়ে উঠেছেন ক্লাবটির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ তারকা। নিজের ক্যারিয়ারের পুরোটাই যে ক্লাবের জন্য সঁপে দিয়েছেন বাবা মেসি, তারই সন্তান নাকি সমর্থন করে স্প্যানিশ ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর লা লিগায় বার্সার অজাতশত্রু ও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি ফুটবল ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদকে! আর এ কথা অকপটে স্বীকার করেছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর মেসি নিজেই।

সম্প্রতি ব্রাজিলে অনুষ্ঠতব্য এবারের কোপা আমেরিকা ফুটবল টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে জাতীয় দল আর্জেন্টিনার সাথে প্রস্তুতি ক্যাম্পে রয়েছেন আকাশী নীল-সাদাদের আক্রমণভাগের এই সেরা অস্ত্র। আর সেখানে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাতকারে নিজের ৩ বছর বয়স্ক ছেলে মাতিওর রিয়াল সমর্থনের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন মেসি।
ছবিতে ডানে- স্বাভাবিকভাবে একটু বসাও যেন মানা মাতেওর! তার এমন সব শরীরি ভঙ্গিতেই প্রকাশ পায় আসলে দুষ্টমির কত বড় যাদুকর সে।

মূল বিষয় হচ্ছে, মাত্র তিন বছর বয়সেই বড় ভাই থিয়াগোর মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠেছেন দুষ্টের শিরোমণি মাতেও। সর্বক্ষণ কি করে ভাই থিয়াগোকে উত্যক্ত করা যায়, সেই ফন্দি আঁটাই যেন তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। আর তাই বাবা মেসির শ্রেষ্ঠতম ফ্যান থিয়াগোকে রাগাতেই রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচের সময় বিশাল টেলভিশন স্ক্রিনের সামনে বসে যায় মাতেও। উচ্চ শব্দে শুনতে থাকে ধারাভাষ্য আর খেলায় রিয়ালের গোল হলেই চিৎকার করে উদযাপন করে এমনভাবে যেন, দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ রিয়াল ভক্ত সেই। আর তাতেই লক্ষ্য পূরণ হয়ে যায়, আমূল তেঁতে ওঠে থিয়াগো।
ছবিতে বাঁ থেকে- স্যূট-প্যান্টে বড় ভাই থিয়াগো ও বাবা মেসি যখন নিপাট ভদ্রলোক, মাতেও তখন রকস্টার ভাব নিয়ে ছবির পোজে ব্যস্ত!

আর সম্প্রতি চ্যাম্পিয়নস লীগে লিভারপুলের কাছে বার্সার হারের দিন নিজেকে আলরেডদের ভক্ত দাবি করে বসে মাতেও! আর তাতে বাবার পরাজয়ে মন ভেঙে যাওয়া থিয়াগো রীতিমত লড়াইয়ে জড়িয়ে পরে মাতেওর সাথে। পরে অবশ্য তাদের মায়ের দৃঢ় রেফারিংয়ের বরাতে মাঝ পথেই ক্ষান্ত দেয় দুই ভাই।

স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পৃথিবীর অন্যতম সুখী মানুষ হিসেবেই জীবন কাটাচ্ছেন ফুটবল যাদুকর মেসি। ক্যারিয়ারের প্রায় শেষ প্রান্তে পৌছে যাওয়া মেসির কন্ঠে আক্ষেপ শুধু মতৃভূমি আর্জেন্টিনার জন্য কিছু জিততে না পারা। এবারই সম্ভবত জীবনের শেষ কোপা টুর্নামেন্টে বলে পা ছোঁয়াবেন মেসি। আর্জেন্টাইন ভক্তদের চাওয়া, তার সেই ছোঁয়ায় যেন ঘটে বিস্ময়, মেসি যেন অন্তত এবার তার জাদুকরি ফুটবলমন্ত্রে গর্বিত করেন দেশকে। আর মেসিও চাইছেন নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়ে ফুটবলের প্রাচীনতম এই টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতে, আকাশী নীল-সাদার বুকে সেই প্রজ্জ্বলিত নক্ষত্রের মত চিরঞ্জীব হয়ে থাকতে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box