স্টপেজে যাত্রী ওঠা-নামায় সময় বেশি লাগায় শিডিউল বিপর্যয়

আলোকিত সকাল ডেস্ক

ঈদে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ে রেলপথে ঘরমুখী মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। শিডিউল বিপর্যয়ের জন্য রেল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতাই দায়ী বলে অভিযোগ যাত্রীদের। তবে শিডিউল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে রেল কর্তৃপক্ষ বলেন, ঈদের সময় বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রীরা নামেন। বেশি যাত্রী ওঠা নামার কারণে স্টপেজগুলোতে ২/৩ মিনিট করে সময় বেশি নষ্ট হয় ফলে তা শিডিউল বিপর্যয়ে রূপ নেয়।

ঈদ যাত্রার চতুর্থ দিনে সোমবার কমলাপুর স্টেশনে হাজার হাজার মানুষ ট্রেনের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। সকালে প্রতিটি ট্রেনের বিলম্বের কারণে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, দক্ষিণাঞ্চলের ট্রেনগুলোর অধিকাংশই ২ থেকে ৩ ঘণ্টা দেরিতে কমলাপুর প্ল্যাটফর্মে আসছে। আর উত্তররাঞ্চলের ট্রেনগুলো ৫-৬ ঘণ্টা পরে আসছে। শিডিউল বিপর্যয়ে কমলাপুর স্টেশনে অপেক্ষারত যাত্রীদের চোখমুখে ছিল বিরক্তি। তবে কোনোরকমে ট্রেনে উঠতে পারলেই উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠছেন যাত্রীরা।

জানা যায়, রংপুর এক্সপ্রেস রংপুর থেকে রাত সাড়ে ৮টায় ছাড়ার কথা থাকলেও তা ১১ টায় স্টেশন ত্যাগ করে। ট্রেনটি কমলাপুর স্টেশনে সকাল ৭টায় পৌঁছার নির্ধারিত সময় থাকলেও পৌঁছেছে ১২ টায়। একই অবস্থা লালমনি এক্সপ্রেসের। কমলাপুরে রাত ১১ টায় সময় আসার কথা থাকলেও এসেছে ৩ টায়। রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস সকাল ৬টায় রাজশাহীর উদ্দেশে কমলাপুর ছাড়ার কথা ৯টায়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পরেও ট্রেনটি কমলাপুর স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানো ছিল। পরে প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা বিলম্বে সাড়ে ৯টার দিকে স্টেশন ছাড়ে।

অন্যদিকে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস আজও ৩ ঘণ্টা দেরিতে কমলাপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে যায়। এছাড়া খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ২ ঘণ্টা দেরিতে সকাল ৮টায় ছেড়ে যায়। ট্রেনের এই বিলম্বে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।

কমলাপুর রেল স্টেশনের সূত্র জানায়, চট্টগ্রামগামী ট্রেনকে সব সময় বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে। কারণ এটি হচ্ছে ব্যবসায়িক অঞ্চল। ফলে চট্টগ্রামগামী মহানগর এক্সপ্রেস সকাল ৭টা ২০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও তা ছেড়েছে ৭টা ৫০ মিনিটে। স্টেশন মাস্টার থেকে শুরু করে চট্টগ্রামগামী সবগুলো ট্রেনের ড্রাইভার তৎপর থাকেন। এসব ট্রেনে যেন বিলম্ব না হয়।

কমলাপুর রংপুর এক্সপ্রেসের জন্য অপেক্ষায় থাকা আলাউদ্দিন বলেন, নির্ধারিত সময়ে কোন ট্রেন ছাড়তে পারেনি। আমিও প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে স্টেশনে অপেক্ষা করছি। ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা ভোগান্তি বেড়ে দিয়েছে। আর কিছু ট্রেন কমলাপুর পৌঁছার আগেই দেখা যাচ্ছে সিটে যাত্রী বসে আসছে। অনেক যাত্রী রয়েছেন যারা জয়দেবপুর থেকে ট্রেনে উঠে সিট দখলে রাখছেন। রেলের সঠিক পরিকল্পনার অভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনের অপেক্ষায় সুলতানা পারভিন। তিনিও বলেন, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সকাল ৬টার ট্রেন ধরতে সাড়ে ৫টায় স্টেশনে এসেছি কিন্তু সেই ট্রেন ছাড়ল সকাল সাড়ে ৯ টায়।

লালমনি এক্সেপ্রেস ট্রেনের চালক সুজন ট্রেনে শিডিউল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে যান্ত্রিক ত্রুটি ও যাত্রীদের ট্রেনে উঠতে দেরি করাকেই দায়ী করছেন। তবে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ট্রেনের কিছুটা বিলম্বকে স্বাভাবিক ধরে নেয়ার জন্য যাত্রীদের প্রতি অনুরোধ জানান।

এ বিষয়ে কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার আমিনুল হক বলেন, ঈদে প্রতিটি স্টেশনে নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত বেশি সময় দাঁড়াতে হচ্ছে। এ কারণে একটা ট্রেন দেরি হলে অন্য ট্রেনের উপর চাপ পড়ছে। তবে এটিকে বিলম্ব বলা যাবে না। কমলাপুর স্টেশন থেকে নির্ধারিত সময়ে ট্রেন ছাড়া হচ্ছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box