সোহরাওয়ার্দী উদ্যান হকার ও মাদকসেবীদের আখড়া

আলোকিত সকাল ডেস্ক

রাজধানীতে বাড়ছে মানুষ। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমছে নগর উদ্যান। যেগুলো আছে তার অবস্থাও জরাজীর্ণ। রাজধানীর সবচেয়ে বড় উদ্যান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। সকাল-বিকাল হাজার হাজার মানুষ এখানে হাঁটতে আসেন। আবার ইট-পাথরে ঘেরা এ নগর জীবনের দম বন্ধ হয়ে ওঠা পরিবেশ থেকে বেরিয়ে স্বস্তির নিশ্বাস নিতে নগরবাসী এখানে আসেন অবসর সময় কিংবা ছুটির দিনগুলো কাটাতে। তবে উদ্যানের পরিবেশ এমন যে, এখানে বসেও একটু প্রশান্তির ছোঁয়া খোঁজাও দায়। হকার, মাদকসেবী, ছিন্নমূলদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে ঐতিহাসিক এ উদ্যান। সন্ধ্যা নামলে পরিবেশ আরো ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। অন্যদিকে নিয়মিত পরিষ্কার না করার উদ্যানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে ময়লা-আবর্জনা। পথচারীদের হাঁটার রাস্তাগুলোর কোনো কোনো জায়গায় ইট উঠে গেছে। ফলে এখানে ঘুরতে এসেও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে নাগরিকদের।

দর্শনার্থীরা বলছেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢুকলে আতঙ্কে থাকতে হয়। দিনে-দুপুরে চলে মাদক সেবন। মাদকের গন্ধে উদ্যানের পথ ধরে নাক মুখ চেপে হাঁটতে হয়। চারদিকে ছিন্নমূল মানুষের আনাগোনা। ছিন্নমূল শিশুরা টাকা না দিলে নাজেহাল করে, ব্যাগপত্র ধরে টান দেয়। আবার এদের জন্য চলার পথ দিয়ে হাঁটা যায় না। রাস্তা দখল করে উদ্যানের বিভিন্ন স্থানে শুয়ে বসে থাকে। ছিন্নমূলদের আনাগোনা পুরো উদ্যান জুড়ে।

উদ্যানের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদফতর কর্তৃপক্ষ বলছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান আগের চেয়ে দর্শনার্থীবান্ধব হয়েছে। এখন পরিবেশ অনেক ভালো। নির্ধারিত সময়ের পর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের কাগজ, প্যাকেট, পলিথিন, নানা পানীয়র বোতলসহ ময়লা আবর্জনায় ছেয়ে আছে। সঙ্গে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ডাবের খোল, বাদামের খোসা আর ডালপালা। মাদকসেবীরা চার-পাঁচজন করে সংঘবদ্ধ হয়ে বসে দিনে দুপুরে মাদক সেবন করে। সন্ধ্যার পর উদ্যানের পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে মাদক সেবন করে মাদকসেবীরা। এর পাশ দিয়েই নাক-মুখ চেপে হাঁটতে দেখা গেছে পথচারীদের। ফলে সন্ধ্যার পর উদ্যান এলাকার পরিবেশ ভয়ংকর হয়ে ওঠে। অন্যদিকে ছিন্নমূল মানুষের আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে উদ্যানটি। তারা যেখানে সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখেছে তাদের জিনিসপত্র, জামা-কাপড়।

উদ্যানে সপরিবারে ঘুরতে আসা নাজনিন আক্তার বলেন, মাদকের গন্ধে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় নাক চেপে হাঁটতে হয়। ভেতরে ঢুকলে মনে হবে, উদ্যানটি হকার আর ছিন্নমূলদের অভয়ারণ্য। ছিন্নমূল শিশুরা ব্যাগ, সাথে থাকা জিনিসপত্র ধরে টানাটানি করে। টাকা না দিলে নানা অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। সবার চোখের সামনেই চলছে এসব।

শাহবাগ থানার ওসি মো. আবুল হাসান বলেন, আমরা মাদকের বিরুদ্ধে প্রায়ই অভিযান চালাই। অনেককে গ্রেফতারও করা হয়েছে। আগের তুলনায় মাদক বহুগুণ কমেছে। পরিবেশও ভালো হয়েছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments Box