সেনাবাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে থানায় মামলানওগাঁয় স্ত্রীর প্রেমিকের ভাড়াটিয়ার ছুরিকাঘাতে স্বামী আহত: আটক ২

আবু রায়হান রাসেল, নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁয় স্ত্রীর প্রেমিকের ভাড়াটিয়ার ছুরিকাঘাতে আবু হেনা মোস্তফা কামাল অরুফে হেলাল (৫০) নামে এক স্বামী গুরুত্বর আহত হয়েছে। বর্তমানে তিনি নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হেলাল নওগাঁ শহরের চকএনায়েত মহল্লার ‘উত্তরা ক্লিনিকের মালিক’। ঘটনার পর আহত হেলালের স্ত্রী নাদিরা পারভীন (৩৩) ও আলম হোসেন (৩৫) কে আটক করেছে পুলিশ। আলম হোসেন জেলার বদলগাছী উপজেলার রসুলপুর (নিউ) গ্রামের মোজাহার হোসেনের ছেলে।

গত ২২ মে সকাল ৮টার দিকে শহরের চকএনায়েত মহল্লার নুহা প্লাজা (উত্তরা ক্লিনিকের) পাঁচতলায় এ ঘটন ঘটে। ঘটনায় আহতের ভগ্নীপতি এনামুল হক বাদী হয়ে সদর থানায় হেলালের স্ত্রী নাদিরা পারভীন, আলম হোসেন এবং নাদিরা পারভীনের প্রেমিক ও বদলগাছী থানার তেঘরিয়া গ্রামের সাইফুদ্দিনের ছেলে সেনাবাহিনীর সদস্য সাহাবুল হক বিপ্লব (৩২) কে আসামী করে মামলা করেছেন। সাহাবুল হক বিপ্লব বগুড়া জেলার মাঝিরা ক্যান্টমেন্ট ব্রিগেড-১১১ তে কর্মরত বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী হেলাল ঘটনার মুলহোতাকে আটক করে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে এসে শাস্তির দাবী জানান।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাহাবুল হক বিপ্লবের সাথে দীর্ঘদিন থেকে নাদিরা পারভীনের অনৈতিক সম্পর্ক চলে আসছিল। এ নিয়ে হেলালের দাম্পত্ত্য জীবনে সংসারে অশান্তি বিরাজ করছিল। বিপ্লব বিভিন্ন সময় হেলালকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। ফলে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছিলেন হেলাল। গত ২২ মে সকাল ৮টার দিকে একটি অপারেশনের চুক্তি করার জন্য আলম হোসেন ‘উত্তরা ক্লিনিকের’ পাঁচতলায় হেলালের বাসায় অনাধিকার প্রবেশ করে। কথা বলার এক পর্যায়ে আলম হোসেন তার কাছ থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে আলমকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে।

এতে হেলালের বুকের ডান ও বাম পাশে গুরত্বর জখম হয়। এসময় হেলালের স্ত্রী নাদিরা পারভীন নীরব ভূমিকা পালন করেন। আঘাতের পর আলম হোসেন তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ভুলক্রমে রেখে পালিয়ে যান। ক্লিনিকের নিচে থাকা লোকজন হৈ চৈ শুনে উপরে গিয়ে আহত আলমকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে আলম হোসেনকে ওইদিন বদলগাছী এলাকা থেকে আটক করা হয়।

মামলার বাদী এনামুল হক বলেন, কিছুদিন আগে আমার শ্যালক হেলালকে হত্যার জন্য তার স্ত্রী নাদিরা পারভীন এবং প্রেমিক সাহাবুল হক বিপ্লব মিলে দুই লাখ দিয়ে আলমের সাথে চুক্তি করে। কিছু টাকা অগ্রিমও দিয়েছিল। তারই ফল শ্রুতিতে এ হত্যাকান্ডের চেষ্টা করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী আহত আবু হেনা মোস্তফা কামাল অরুফে হেলাল বলেন, জীবন নিয়ে তিনি সংশয়ে আছেন। যে কোন মুহুর্তে হয়ত হামলা হতে পারে। মামলা হলেও পুলিশ এখনো মুল হোতাকে আটক করতে পারেনি। দ্রুত তাকে আটক করে আইনের আওতায় নিয়ে এসে শাস্তির দাবী জানান।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সাহাবুল হক বিপ্লবের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগযোগ করা হলেও তা বন্ধ থাকায় কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) ফয়সাল বিন আহসান বলেন, সাহাবুল হক বিপ্লব একজন সেনাবাহিনীর সদস্য হওয়ায় আমরা তাকে আটক করতে পারিনা। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য তার কর্মস্থল বগুড়া জেলা ক্যান্টমেন্টের ইউনিট প্রধানকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে।

আস/এসআইসু

Facebook Comments