সেই মসজিদের দানবাক্সে এবারো এক কোটি ১৪ লাখ টাকা

আলোকিত সকাল ডেস্ক

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স থেকে এবারো এক কোটি ১৪ লাখ ৭৪ হাজার ৪৫০ টাকা পাওয়া গেছে। শনিবার বিকালে গণনা শেষে এ বিপুল টাকার হিসাব প্রকাশ করে মসজিদ কর্তৃপক্ষ।

বিপুল পরিমাণ এ নগদ টাকা ও বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রা এবং দান হিসেবে বেশ কিছু স্বর্ণালঙ্কারও পাওয়া গেছে।

তিন মাস পর পর পাগলা মসজিদের এ দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এর আগে চলতি বছরের গত ১৩ এপ্রিল দানবাক্স খুলে এক কোটি ৮ লাখ ৯ হাজার ২শ’টাকা পাওয়া যায়। ১৯ জানুয়ারি পাওয়া যায় এক কোটি ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪৭৩ টাকা। এছাড়া গত বছরের ১৩ অক্টোবর দানবাক্স খুলে এক কোটি ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ৬৮৫ টাকা পাওয়া যায়।

অর্থাৎ গত এক বছরে পাগলা মসজিদে দানবাক্সে চার কোটি ৫০ লাখ ১৩ হাজার ৮০৮ টাকা পাওয়া গেছে। সে হিসেবে প্রতিদিন গড়ে সোয়া লাখ টাকা মসজিদটিতে মানুষ দান করেছেন।

শনিবার সকালে জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণের উপস্থিতিতে মসজিদের আটটি দানবাক্স খোলা হয়। দানবাক্স খুলে প্রথমে টাকাগুলো বস্তায় ভরা হয়। এরপর শুরু হয় দিনব্যাপী টাকা গণনা। টাকা গণনায় মসজিদ মাদরাসার ৬০ জন ছাত্র-শিক্ষক ছাড়াও রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেনের তত্ত্বাবধানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনোয়ার হোসেন ও মীর মো. আল কামাহ তমাল টাকা গণনার কাজ তদারকি করেন।

এছাড়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, কমিটির সদস্য প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. আনম নৌশাদ খান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো. আসাদ উল্লাহ্ এ টাকা গণনার কাজ পর্যবেক্ষণ করেন।

এ সময় দানবাক্স খোলা কমিটির সদস্যরা ছাড়াও প্রশাসনের কর্মকর্তা, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ ও সার্বক্ষণিক দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারিগণ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ মসজিদটির দানবাক্সগুলোতে নগদ টাকা-পয়সা ছাড়াও স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র দান করেন।

এ মসজিদের আয় দিয়ে মসজিদের বিশাল কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া মসজিদের আয় থেকে বিভিন্ন সেবামূলক খাতে অর্থ ব্যয় করা হয়।

টাকা গণনা কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেন জানান, পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে এবার এক কোটি ১৪ লাখ ৭৪ হাজার ৪৫০ টাকা পাওয়া গেছে। টাকাগুলো রূপালী ব্যাংকে জমা করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে ঐতিহাসিক এ মসজিদটির অবস্থান।

আস/এসআইসু

Facebook Comments